মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে নির্দিষ্ট কিছু দেশের জন্য ‘সেফ প্যাসেজ’ বা নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, এই জলপথটি পুরোপুরি বন্ধ নয়, বরং শুধু ইরানের ‘শত্রু দেশগুলোর’ জন্য এটি অবরুদ্ধ থাকবে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) জাপানের কিয়োদো নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘আমরা প্রণালিটি বন্ধ করিনি। আমাদের দৃষ্টিতে এটি উন্মুক্ত। এটি কেবল আমাদের শত্রু এবং যারা আমাদের আক্রমণ করছে, তাদের জাহাজের জন্য বন্ধ।’
তিনি আরও বলেন, নিরাপদে চলাচলের জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং প্রয়োজনে ‘সেফ প্যাসেজ’ দেওয়ার জন্য তেহরান প্রস্তুত।
জাপানের জাহাজগুলোও শিগগির এই সুবিধা পেতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দেশটি তাদের মোট অপরিশোধিত তেলের ৯০ শতাংশের বেশি মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
ইরানের ‘সিলেক্টিভ ব্লকেড’ কৌশল
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। যুদ্ধের শুরুতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সতর্ক করে দিয়েছিল, কোনো জাহাজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করলে তা ‘ভস্মীভূত’ করে দেওয়া হবে।
তবে সম্প্রতি ইরান তাদের অবস্থান কিছুটা নমনীয় করে জানিয়েছে, শুধু শত্রু দেশগুলোর জাহাজই নিষিদ্ধ থাকবে।
এরই মধ্যে চীন, ভারত ও পাকিস্তানের কিছু জাহাজ ইরানের অনুমতি নিয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বলে জানা গেছে।
শিপিং তথ্যসেবা প্রতিষ্ঠান লয়েডস লিস্ট জানিয়েছে, কিছু জাহাজ ইরানের উপকূল ঘেঁষে চলাচল করে একটি ‘নিরাপদ করিডর’ ব্যবহার করছে।
বিভিন্ন দেশ এরই মধ্যে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে, যাতে তাদের জাহাজগুলোও নিরাপদে চলাচলের অনুমতি পায়। এর মধ্যে রয়েছে জাপানসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরান একদিকে চাপ বজায় রাখছে, অন্যদিকে নির্দিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে।
জিবি নিউজ24ডেস্ক//

মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন