বিশ্বের নানা দেশের সুস্বাদু রেসিপি নিয়ে তৈরি একটি কুকবুক, অভিবাসনের ঢেউকে ধারণ করা চলচ্চিত্র নির্মাণ, কমিউনিটির প্রতিকৃতি ও গল্পভিত্তিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী, টাওয়ার হ্যামলেটসে আয়োজিত বহুসংস্কৃতির উৎসব “দ্য বেস্ট অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন ওয়ান বারা”–এর প্রধান আকর্ষণ।
গত ২২ জানুয়ারি কাউন্সিলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেয় বিভিন্ন কমিউনিটি গ্রুপ, যারা গত বছর সরকারি অর্থায়নে সৃজনশীল প্রকল্প সম্পন্ন করেছিলেন।
হোয়াইটচ্যাপেলভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সোসাইটি লিংকস স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় তৈরি করেছে একটি ব্যতিক্রমী কুকবুক, যাতে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া, গ্রেনাডা, সুদান এবং ইরাকের ঐতিহ্যবাহী রেসিপি। কুকবুকটি বারার বহুসাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরে এবং এটা প্রমান করে যে খাবার মানুষকে একত্রিতও করতে পারে।
সোসাইটি লিংকসের পক্ষ থেকে জয়েস আর্কবোল্ড বলেন, “কুকবুক তৈরি করার কাজটি ছিল এক ধরনের রোমাঞ্চ ও চ্যালেঞ্জ, যা টাওয়ার হ্যামলেটসের প্রাণবন্ততা ও বৈচিত্র্যের প্রমাণ দেয়। বইয়ের সব রেসিপিগুলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে এসেছে এবং এক জায়গায় সংকলিত হয়েছে। প্রতিটি রেসিপির পেছনে একটি বিশেষ গল্প রয়েছে এবং এটি এমন কিছু যা অংশগ্রহণকারীরা সত্যিই সবার সঙ্গে শেয়ার করে নিতে চেয়েছিলেন।”
মাইল এন্ড কমিউনিটি প্রজেক্টের দুটি প্রকল্প: একটি অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র, যেখানে বারার অভিবাসনের গল্প উঠে এসেছে। আরেকটিতে পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফি প্রদর্শনী, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দা এবং তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে।”
মাইল এন্ড কমিউনিটি প্রজেক্টের নুরুল ইসলাম বলেন, “৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বারাতে কাজ করতে করে আমাদের প্রজেক্টগুলো পরিচিতি পেয়েছে, অভিবাসন ও একসাথে মিলেমিশে করে আসা হয়েছে।
'উই আর টাওয়ার হ্যামলেটস’ প্রমান করে এখানে ভিন্নতাকে শুধু সম্মানই করা হয় না, বরং মূল্যও দেওয়া হয়। এটি এমন একটি বারা যেখানে পারস্পরিক বোঝাপড়া, অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি এবং মিলেমিশে থাকার প্রতিশ্রুতি নিয়ে কমিউনিটি গড়ে উঠেছে।”
তিনি আরও বলেন, “এটি কমিউনিটি সংহতির একটি জীবন্ত উদাহরণ। যেখানে বহু কণ্ঠ, সংস্কৃতির মানুষ একসঙ্গে মিলেমিশে টাওয়ার হ্যামলেটসকে বসবাসের ও উন্নতির একটি স্থান হিসেবে গড়ে তুলেছে।”
আগামী ১০ বছরের জন্য কাউন্সিল তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষী স্ট্র্যাটিজিক ভিশন ‘আওয়ার টাওয়ার হ্যামলেটস – ভিশন টু ২০৩৫’ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করেছে। যার লক্ষ্য হলো বৈষম্য ও দারিদ্র্যের চক্র ভাঙা এবং সকল বাসিন্দা যেন তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা অর্জন করতে পারে তা নিশ্চিত করা।
দ্য বেস্ট অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন ওয়ান বারা ভিশন বাস্তবায়নের ধারাবাহিক আয়োজনের একটি অংশ। যার উদ্দেশ্য বারায় বহুতজাতির বৈচিত্র্য উদযাপন, বাসিন্দাদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি করা।
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “আমি টাওয়ার হ্যামলেটসে বড় হয়েছি এবং এখানে আমার পরিবার গড়ে উঠেছে। তাই এই এলাকাটি আমার কাছে অত্যন্ত স্পেশাল।
“এই বারায় আমার অগ্রগতি ও উন্নতির সুযোগ হয়েছে। আমি চাই আমাদের প্রতিটি বাসিন্দাই যেন একই সুযোগ পান।
“এই ভিশন আমাদের বারার প্রতিটি মানুষের ভালোবাসার প্রতিফলন এবং এই ভিশনকে আরও উন্নত করতে আমাদের কোন কোন ক্ষেত্রে মনোযোগ দেওয়া দরকার তা তুলে ধরে।”
ইকুয়ালিটিস এন্ড সোশাল ইনক্লোশন বিষয়ক ক্যাবিনেট মেম্বার কাউন্সিলর বদরুল চৌধুরী বলেন, “টাওয়ার হ্যামলেটসকে আমরা এমন একটি বারা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই যেখানে সবাই একসঙ্গে মিলেমিশে থাকবে এবং কমিউনিটি নিয়ে গর্ব অনুভব করবে।
“আমাদের বৈচিত্র্যই আমাদের শক্তি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে, টাওয়ার হ্যামলেটসের মানুষ একসঙ্গে দাঁড়িয়েছে এবং একে অপরকে সমর্থন করেছে।”

মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন