তৈরি হচ্ছে সম্ভাব্য প্রার্থীর আমলনামা

উপজেলা নির্বাচন

সরকারি দলে হতে পারে রেকর্ড সংখ্যক মনোনয়ন প্রত্যাশী * নির্বাচনে প্রতিপক্ষ রয়েছে তাই আগাম সতর্ক পুলিশ * মাঠে থাকবে কুইক রেসপন্স টিম

44

উপজেলা নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুতি শুরু করেছে। তৃণমূল থেকে তথ্য নিয়ে এ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীর আমলনামা প্রস্তুত হচ্ছে।

পুলিশ এবং অন্যান্য সংস্থা আলাদাভাবে এ তালিকা তৈরির কাজ করছে। খুব শিগগিরই এ ধরনের তালিকা পুলিশের সদর দফতরে পাঠানো হবে। সারা দেশে ৪৮৯টি উপজেলায় ধাপে ধাপে নির্বাচন হবে।

আগামী মার্চ থেকে শুরু হবে ভোট। প্রতিটি উপজেলায় দলীয় একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী ভোটে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

পুলিশের বিশেষ শাখার রংপুর অঞ্চলের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিটি উপজেলার সম্ভাব্য প্রার্থীদের দলীয় পরিচয়সহ তাদের প্রোফাইল তৈরি করা হচ্ছে। বলা যায়, এটি সব প্রার্থীর এক ধরনের আমলনামা। এছাড়া কার বিরুদ্ধে কয়টি মামলা আছে, টেন্ডারবাজি, আধিপত্য বিস্তার, অস্ত্রবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগ আছে কিনা এসব থাকছে সংগৃহীত তথ্যে।

তিনি বলেন, এ কাজ শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের যার বিরুদ্ধে যে তথ্য আছে সব সন্নিবেশিত থাকবে তাদের আমলনামায়।

মাঠ পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ সম্পর্কে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক যুগান্তরকে বলেন, উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চায় এমন প্রার্থীদের তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

পাশাপাশি কে কার প্রতিপক্ষ সে সব তথ্য তুলে আনা হচ্ছে মাঠ পর্যায় থেকে। তিনি জানান, কেউ যাতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটাতে পারে এজন্য পুলিশ আগাম সতর্কে রয়েছে।

জানা গেছে, জেলা পুলিশ নিজ নিজ উপজেলা নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করে আগামী সপ্তাহে সদর দফতরে পাঠাবে। ইতিমধ্যে জেলা পুলিশ এ সংক্রান্ত কাজ শুরু করেছে।

প্রতিটি উপজেলায় কোন দলের কত সম্ভাব্য প্রার্থী এবং তাদের মধ্যে কে কার প্রতিপক্ষ, কোন গ্রুপ পেশিশক্তি ব্যবহার করতে এ ধরনের তথ্য থাকবে রিপোর্টে। এবার সরকারি দলে রেকর্ড সংখ্যক প্রার্থী হতে পারে।

সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রতিপক্ষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে পারে। রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে সম্ভাব্য প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা হতে পারে।

নির্বাচন সামনে রেখে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে সেজন্য সতর্ক পুলিশ। উপজেলা নির্বাচনে পুলিশের কুইক রেসপন্স টিম সক্রিয় থাকবে। যে কোনো ঘটনায় এ টিম দ্রুত যে কোনো স্থানে ছুটে যাবে।

পুলিশ সদর দফতরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কোন উপজেলায় কতজন সম্ভাব্য প্রার্থী আছেন তাদের তালিকা করার জন্য পুলিশের পাশাপাশি অন্য সংস্থাও কাজ করছে। তারা পুলিশের সঙ্গে মাঠ পর্যায়ে সমন্বয়নও করছেন। পুলিশ সুপাররা (এসপি) যে তালিকা তৈরি করবেন এর সঙ্গে অন্য সংস্থার তৈরি রিপোর্ট সমন্বয় করা হবে।

এবার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে। সব দলের অংশগ্রহণের বিষয়টি এখনও নিশ্চিত না হলেও সরকারি দল আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। উপজেলায় উপজেলায় বইছে নির্বাচনী হাওয়া। এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে প্রস্তুতিমূলক কর্মকাণ্ড গ্রহণ করা হয়েছে।

মাঠ পর্যায়ের তথ্য জানতে চাইলে পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, যে কোনো নির্বাচনে প্রতিপক্ষ গ্রুপ থাকে। এজন্য পুলিশ আগে থেকে সতর্ক হয়।

জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে যে ধরনের আগাম প্রস্তুতি থাকে উপজেলা নির্বাচনেও তার চেয়ে কম প্রস্তুতি নেয়া হয় না। তিনি বলেন, যাতে করে কেউ কারও ওপর চড়াও হতে না পারে, শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি থাকে সেজন্য পুলিশ আগাম সতর্ক আছে।

রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচনে যাতে করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না হয় সেজন্য পুলিশের প্রস্তুতিমূলক কর্মকাণ্ড একটি রুটিনওয়ার্ক।

তিনি জানান, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য পুলিশ কাজ করবে। জাতীয় নির্বাচনে যে ধরনের নির্বিঘ্ন পরিবেশ ছিল এমনটিই তৈরি করা হবে উপজেলা নির্বাচনেও। আর কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে বিশেষ নজর আছে।

মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More