দোয়া চেয়েছেন মেয়ে

দোয়া চেয়েছেন মেয়ে

68

দেশের প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ আলাউদ্দিন আলীর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। বর্তমানে তিনি লাইফ সাপোর্টে আছেন। তিনি সংজ্ঞাহীন। যুগান্তরকে আলাউদ্দীন আলীর শারীরিক এ অবস্থা নিশ্চিত করেছেন শিল্পীর মেয়ে পপগায়িকা আলিফ আলাউদ্দীন। তিনি তার বাবার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

শনিবার রাত ৯টায় মহাখালীর বেসরকারি একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাবা আলাউদ্দীন আলীকে দেখে এসে আলিফ আলাউদ্দীন এ প্রতিবেদককে জানান, মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহই এখন সব ভরসা।

আলিফ জানান, বাবার ফুসফুসে ক্যানসার ছিল। ২০১৫ সালে ব্যাংককে চিকিৎসা করান। ঠাণ্ডার সমস্যা ছিল। মঙ্গলবার রাতে বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেয়া হলে তাৎক্ষণিক আইসিইউতে নেয়া হয়। কারণ, শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হচ্ছিল বেশ। বুধবার ফুসফুসের সংক্রমণ বেড়ে যায়। আলিফ আরও বলেন, বৃহস্পতিবার ভোরে বাবার হার্টঅ্যাটাক হয়। তারপর থেকে অবস্থার আরও অবনতি হতে থাকে।

ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী যুগান্তরকে বলেন, আলাউদ্দীন আলীর শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। আমরা আমাদের সবধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

ও আমার বাংলা মা তোর, যে ছিল দৃষ্টির সীমানায়, এই দুনিয়া এখন তো আর সেই দুনিয়া নাইসহ অসংখ্য কালজয়ী গানের সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক আলাউদ্দীন আলী। গীতিকবি হিসেবেও তিনি অসংখ্য জনপ্রিয় গান লিখেছেন।

১৯৫২ সালের ২৪ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বাঁশবাড়ি গ্রামের এক সাংস্কৃতিক পরিবারে এ গুণী সঙ্গীতজ্ঞ জন্মগ্রহণ করেন।

আলাউদ্দীন আলী একাধারে গীতিকার, সুরকার এবং সঙ্গীত পরিচালক। সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে সাতবার এবং গীতিকার হিসেবে তিনি একবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।

বাবা ওস্তাদ জাবেদ আলী ও ছোট চাচা সাদেক আলীর কাছেই শৈশবে আলাউদ্দীন আলীর সঙ্গীতে হাতেখড়ি হয়। ১৯৬৮ সালে তিনি যন্ত্রশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্র জগতে আসেন এবং প্রখ্যাত সুরকার আলতাফ মাহমুদের সহযোগী হিসেবে যোগ দেন। এরপর তিনি সুরকার আনোয়ার পারভেজসহ বিভিন্ন সুরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন।

আলাউদ্দীন আলীর সুর করা আরও কয়েকটি বিখ্যাত গান হল- একবার যদি কেউ ভালোবাসত, প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ, ভালোবাসা যত বড় জীবন তত বড় নয়, দুঃখ ভালোবেসে প্রেমের খেলা খেলতে হয়, হয় যদি বদনাম হোক আরও, আছেন আমার মোক্তার আছেন আমার ব্যারিস্টার।

গোলাপী এখন ট্রেনে (১৯৭৯), সুন্দরী (১৯৮০), কসাই এবং যোগাযোগ চলচ্চিত্রের জন্য ১৯৮৮ সালে শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৭৮-১৯৮০ সাল পর্যন্ত টানা তিনবার পুরস্কৃত হয়ে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে রেকর্ড গড়েন, যা কেউ ভাঙতে পারেননি। এরকম আরও অনেক রেকর্ড রয়েছে আলাউদ্দীন আলীর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে।

মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More