‘ফ্রিডম অব অক্সফোর্ড’ সম্মান হারাচ্ছেন সু চি

5,923
gb

মায়ানমারের শাসক দলের নেত্রী আং সান সু চিকে দেওয়া ‘ফ্রিডম অব অক্সফোর্ড’ সম্মান ফিরিয়ে নেবে ব্রিটিশ সিটি কাউন্সিল। ১৯৯৭ সালে গণতন্ত্রের জন্য লড়াইয়ের স্বীকৃতি স্বরূপ ওই সম্মান পেয়েছিলেন সরকারের স্টেট কাউন্সিলর সু চি।

অক্সফোর্ড সিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, তিনি আর ওই সম্মানের উপযুক্ত নন। মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন নিয়ে নীরব ভূমিকার কারণেই ওই সম্মান হারাতে যাচ্ছেন তিনি। আগামী মাসে সিটি কাউন্সিলের এক বিশেষ বৈঠকে আনুষ্ঠানিক ভাবে এ সম্মান প্রত্যাহার করা হবে।

বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৫ অগস্টের পর থেকে রাখাইনে মায়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে অন্তত আট লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম ঢুকেছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে। তাদের মধ্যে মহিলাদের অবস্থা ভয়াবহ। রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপরে চলতে থাকা নির্যাতন নিয়েও একটি নিন্দাসূচক শব্দও শোনা যায়নি সু চি’র মুখে। অথচ জাতিসংঘের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের ওপর হওয়া নির্যাতনকে ‘জাতি নিধনের ভয়ঙ্কর উদাহরণ’ বলা হয়েছে।

কূটনীতিকদের দাবি, সু চি সঙ্কটের সমাধান খুঁজতে সাহায্য করেননি। বরং এককালের লড়াকু নেত্রী থেকে বর্তমানে রাষ্ট্রনেতা হয়ে যাওয়া সু চিকে দেখা গিয়েছে ভিন্ন ভূমিকায়।

অক্সফোর্ডের সেন্ট হিউ কলেজ থেকে ১৯৬৭ সালে স্নাতক ডিগ্রি নেন সু চি। তার স্বামী মাইকেল অ্যারিস এক সময় ওই কলেজে শিক্ষকতাও করেছেন। সু চি গৃহবন্দী হওয়ার পর ১৯৯৩ সালে তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট দেয় অক্সফোর্ড। ওই ডিগ্রি তিনি গ্রহণ করেন মুক্তি পাওয়ার পর ২০১২ সালে। গণতন্ত্রের দাবিতে আন্দোলনের জন্য ১৯৯১ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান তিনি।

অক্সফোর্ড সিটি কাউন্সিলের নেতা বব প্রাইস এই সম্মান প্র্যাহারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। তার কথায়, ‘এই সিদ্ধান্ত একটি অভূতপূর্ব পদক্ষেপ। গত সপ্তাহে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির সেন্ট হিউ কলেজ থেকে সু চির প্রতিকৃতিও সরিয়ে নেয়া হয়।