ঐক্যের জন্য বিএনপিকে জামায়াত ছাড়তে হবে – ড. কামাল

77

জামায়াতে ইসলামীকে বাদ দিয়ে বিএনপিকে রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘জামায়াতকে নিয়ে কোনোদিন রাজনীতি করিনি, করবও না।

জাতীয় ঐক্যের জন্য বিএনপিকে জামায়াত ছাড়তে হবে, এ কথা এখন বলাই যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের আগেও আমি বলেছি জামায়াতকে আসন ছাড় দেয়ার বিষয়টি আমি জানতাম না। এখনও বলছি, বিএনপি এ বিষয়ে আমাকে কিছু জানায়নি। এ অবস্থায় জামায়াতের সঙ্গে তাদের পরবর্তী রাজনৈতিক কৌশল কী হবে- তা তাদের বিষয়। আমি জামায়াতকে নিয়ে পথ চলতে রাজি না।’

শনিবার আরামবাগে গণফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির নির্বাহী কমিটির সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন এ কথা বলেন। এ সময় গণফোরামের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের একটি লিখিত বক্তব্য দেয়া হয়। এটি পাঠ করেন দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু। এতে তিনি বলেন, ‘তাড়াতাড়ি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃত যেসব ভুল-ত্র“টি সংঘটিত হয়েছে, তা সংশোধন করে ভবিষ্যতের জন্য সুদৃঢ় জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।’

গণফোরামের এই বক্তব্য নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আমরা অতীতে জামায়াতকে নিয়ে রাজনীতির চিন্তাও করিনি। ভবিষ্যতেও পরিষ্কার যে, জামায়াতকে নিয়ে রাজনীতি করব না।’ বিএনপিকে জামায়াত ছাড়তে বলবেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি এখন বলা যেতেই পারে।’

এ সময় পাশ থেকে মোস্তফা মহসীন মন্টু বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই বিএনপির মহাসচিবকে বলেছি। তারা বলেছে, জামায়াত ধানের শীষে নির্বাচন করেছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে তো নেই। তারপরও আমরা বিষয়টির সুরাহা চাই। কেন আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করে জামায়াতকে আসন দেয়া হল। জামায়াতকে ধানের শীষ প্রতীক দেয়া হল। জামায়াত নিয়ে বিএনপির কি অবস্থান তাও আমরা দলটির মহাসচিবের কাছে জানতে চেয়েছি।’

পরে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে অতীতে যেটা হয়েছে, সেটি অনিচ্ছাকৃত ভুল। বিএনপি যে ধানের শীষে জামায়াতের ২২ জনকে মনোনয়ন দেবে, সেটি আমরা জানতাম না। আমাকে জানানোও হয়নি। নির্বাচনের আগেই আমি গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিয়ে আমার অবস্থান পরিষ্কার করেছি। এখনও একই কথা বলছি। জামায়াতের সঙ্গে রাজনীতি করার প্রশ্নই ওঠে না।’ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি দল ছাড়া আর কেউ সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে, সেটা বলছে না। চাইলেও বলা সম্ভব নয়। এ সময় দেশের স্বার্থে আগামী দু-তিন মাসের মধ্যে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানান ড. কামাল হোসেন।

লিখিত বক্তব্যে গণফোরাম জানিয়েছে, আগামী ২৩ ও ২৪ মার্চ ঢাকায় দলটির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে আরও বলা হয়েছে, শনিবারের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় গণফোরামের সাংগঠনিক অবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা জেলায় জেলায় সাংগঠনিক সফর শুরু করবেন এবং ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন’কে জোরদার করবেন।’ বৈঠকে দলের দুই সংসদ সদস্যের শপথ নিয়েও আলোচনা হয়। তবে এ বিষয়টি কাউন্সিলেই সুরাহা করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।

৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েকদিন আগে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. কামাল হোসেন বলেছিলেন, জামায়াতে ইসলামী বিএনপির টিকিট পাবে জানলে তিনি ঐক্যফ্রন্টের অংশ হতেন না। গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি যদি আগে জানতাম (জামায়াত নেতারা বিএনপির টিকিট পাবে), তবে আমি এর অংশ হতাম না। কিন্তু যদি এই ব্যক্তিগুলো ভবিষ্যতের সরকারে কোনো ধরনের ভূমিকা পালন করে, আমি একদিনও থাকব না।’

সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য করে অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়েছে। জামায়াতের সঙ্গে কখনও রাজনীতি করিনি, ভবিষ্যতেও করব না। আমি যখন ঐক্যে সম্মতি দিয়েছি তখন জামায়াতের কথা আমার জানা ছিল না। এটা ঐক্যফ্রন্ট গঠনে ভুল ছিল।’ বিএনপির সঙ্গে জামায়াত থাকলে ভবিষ্যতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থাকবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, জামায়াত নিয়ে কোনো রাজনীতি নয়, অবিলম্বে এ বিষয়ে সুরাহা চাই।’

জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কে গণফোরাম সভাপতি বলেন, ‘দেশের মানুষের মধ্যে মৌলিক বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত আছে। একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের সংসদ গঠিত হোক, এটা নিয়ে কারও মনে কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু ৩০ ডিসেম্বর যা ঘটেছে সেটা তো আপনারা সংবাদমাধ্যমে পাচ্ছেন।’ সরকারের উদ্দেশে ড. কামাল বলেন, ‘আপনারা যদি মনে করেন আপনাদের ওপর মানুষের আস্থা আছে সেটা প্রমাণ হোক একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে। যাতে প্রমাণ হয় সব মানুষ যেতে পেরেছে, লাইনে যারা দাঁড়িয়েছে তারা ভোট দিতে পেরেছে। আমাদের তো অনেকগুলো লাইন দেখানো হয়েছে, অনেকে লাইনে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু ভোটের সময় বলা হয়েছে আপনারটা যা করার হয়ে গেছে, আপনাদের আর কাজ নেই।’ তিনি বলেন, ‘সরকারকে বলব বিতর্ক না বাড়িয়ে একটা সমাধান করা হোক। গণতন্ত্রের ব্যাপারে, সংবিধানের ব্যাপারে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যাপারে আমাদের মধ্যে ঐক্য আছে। যেখানে এতগুলো মৌলিক ব্যাপারে ঐকমত্য আছে, সেখানে সরকারকে এটার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই কিন্তু সুযোগ দেয়া উচিত যাতে সবাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে। সবার আস্থা নিয়ে যে কেউ সরকার গঠন করে, তারা সেভাবে সরকার গঠন করলে তাদেরও দায়িত্ব পালন করা সহজ হয়, দেশও যেটা প্রাপ্য সেটা পায়।’

মন্তব্য
Loading...