মায়ের ধর্ষকদের প্রকাশ্যে শাস্তি দাবি

68

সিরাজী এম আর মোস্তাক, ঢাকা ||

নোয়াখালী জেলায় সুবর্ণচরে ৪সন্তানের মাকে নরপশুরা ধর্ষণ করেছে। জঘন্য কর্মকান্ড সবাইকে আঘাত করেছে। এতে শুধু ধর্ষিতা মা নয়; নারী, সমাজ দেশ কলঙ্কিত হয়েছে। সে শুধু ৪সন্তানের মা নয়; ধর্ষক নরপিশাচ ব্যতিত দেশের ১৭কোটি নাগরিক সবারই মা, বোন মেয়ে। কেউ কি তার মায়ের চিহ্নিত ধর্ষকদের ক্ষমা করতে পারে? আমাদের মাননীয় দেশনেত্রী শেখ হাসিনা মায়েরই জাত। তিনি কি তাঁর মেয়ের ধর্ষকদের ক্ষমা করতে পারেন? মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ঐক্যফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ ধর্ষিতাকে বোন হিসেবে কপালে হাত রেখে ধর্ষকদের শাস্তির শপথ নিয়েছেন। ধর্ষকদের শাস্তি দাবিতে অসংখ্য ব্যানারফেস্টুন প্রদর্শন, র‌্যালি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখনো চিহ্নিত ধর্ষকদের শাস্তি হয়নি এবং অনেকে আটকও হয়নি। গুজব উঠেছে, বিশ্বজিৎ হত্যার বিচারের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। মূল ধর্ষকেরা বিদেশে পালানোর সুযোগ পেয়েছে। এভাবে বিশ্বজিৎ হত্যায় চিহ্নিত ঘাতকদের বিদেশে পাঠিয়ে, আদালতে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়েছে। আটককৃতদের যাবজ্জীবন সাজা দেয়া হয়েছে। মায়ের ধর্ষকদের ক্ষেত্রে এমন প্রহসন চাইনা। তাদের আটক বা সাজানো বিচার চাইনা। ধর্ষকদের প্রকাশ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই; যেন আর কোনো মাবোন ধর্ষিতা না হয়। আর যেন বাংলাদেশের নারী সমাজ কলঙ্কিত না হয়।

সম্প্র্রতি মাদক বিরোধী অভিযানে অসংখ্য নির্বিচার ক্রসফায়ারের ঘটনায় আদালত যেমন নিরব ছিলেন, এখন প্রকাশ্যে ধর্ষণের ঘটনায়ও আদালত তেমনি নিরব রয়েছেন। যেন বাংলাদেশে বিচারবিভাগ নেই। দেশে বিবেকবোধ সম্পন্ন বিচারক নেই। নির্বিচার ক্রসফায়ারের ঘটনায় তারা প্রশাসনের অধীন ছিলেন, এখন ধর্ষণের ঘটনায় বিশেষ মহলের অধীন হয়েছেন। এমতাবস্থায়, আমরা কার কাছে মায়ের ধর্ষকদের শাস্তি দাবি করবো? মায়ের ধর্ষকদের শাস্তি প্রদান করবে কে? দেশের সরকার, আদালত নাকি সচেতন নাগরিক সমাজ?

যারা মাকে ধর্ষণ করেছে, ওরা অতি নিকৃষ্ট। সাধারণ ব্যভিচারীর চেয়েও নিকৃষ্ট। ওরা মানবতার শত্রু। ওরা মানবতা বিরোধী অপরাধী। পবিত্র কোরআনে সাধারণ ব্যভিচারে কঠোর শাস্তি বর্ণিত হয়েছে। ব্যভিচারী বা ব্যভিচারিনী বিবাহিত হলে শাস্তি, প্রকাশ্যে পাথর মেরে হত্যা করা। অবিবাহিত হলে, একশ বেত্রাঘাত করা। ধর্ষণে একইসাথে ব্যভিচার জুলুম সংঘটিত হয়। তাই ধর্ষণের শাস্তি ব্যভিচারের চেয়ে আরো কঠোর। মায়ের ধর্ষকদের কমপক্ষে ব্যভিচারের শাস্তি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলে আর কোনো মাবোন ধর্ষিতা হবেনা। বাংলাদেশের নারী সমাজ কলঙ্কিত হবেনা। ধর্ষিতা মা সমাজে হেয় হবেনা। ধর্ষিতা মা দেশের সবাই শান্তি পাবে।

মন্তব্য
Loading...