দুই বছরেও শেষ হয়নি লিটন হত্যার বিচার কাজ

122

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা ||

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলার আজ (৩১ ডিসেম্বর) দুই বছর অতিবাহিত হলেও বিচার কার্য শেষ হয়নি। এই মামলায় নিহত এমপি লিটনের স্ত্রী সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতি ও ছোট বোন মামলার বাদী ফাহমিদা বুলবুল কাকলীসহ মোট ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে গাইবান্ধার বিজ্ঞ আদালত। এই মামলায় ৬০ জনকে সাক্ষী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
জানা যায়, স্বাধীনতার আগে থেকেই রাজনৈতিকভাবে সুন্দরগঞ্জ জামায়াত অধ্যুষিত এলাকা। এ এলাকায় আওয়ামী লীগ ছিল খুবই দুর্বল। বছরের পর বছর আধিপত্য বিস্তার করে থাকলেও জামায়াতের সে দুর্গে ফাটল ধরিয়েছিলেন এমপি লিটন। ১৯৯৮ সালে বামনডাঙ্গা কলেজ মাঠে প্রয়াত গোলাম আযমের জনসমাবেশ ঠেকানোর মাধ্যমে জামায়াতের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে লড়াই শুরু করেছিলেন তিনি।
তখন থেকেই তিনি জামায়াত-শিবিরের প্রধান শত্রুতে পরিণত হন। ২০১৪ সালে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর জামায়াতকে পুরোপুরি কোণঠাসা করে ফেলেন। জামায়াত-শিবিরও তাকে একমাত্র পথের কাঁটা মনে করতো। যে কারণে বিভিন্ন সময় নানা ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি তাকে দেখে নেওয়ারও হুমকি দিয়েছিল তারা। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সাবেক এমপি কর্নেল কাদের খান সহযোগীদের নিয়ে এমপি লিটনকে হত্যা করেন।
এমপি লিটন হত্যা মামলার চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন জাতীয় পার্টির নেতা ওই এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ডা. আব্দুল কাদের খান। পুলিশ দীর্ঘদিন তদন্তের পর হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। ওই চার্জশিটে হত্যাকান্ডে আব্দুল কাদের খানসহ আটজনের উল্লেখ করা হয়।
পুলিশ কাদের খানসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করতে পারলেও অপর আসামি চন্দন কুমার রায়কে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়নি।
গাইবান্ধার পাবলিক প্রসিকিউটর শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন তার বাড়ির ড্রয়িং রুমে অবস্থানকালে একদল দুর্বৃত্ত ওই রুমে ঢুকে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছু সময়ের ব্যবধানে তিনি মারা যান।
পরে তার ছোট বোন ফাহমিদা বুলবুল কাকলী বাদী হয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্তের পর হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে কর্নেল কাদেরসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। তাতে কাদের খানসহ সাতজন কারাগারে থাকলেও চন্দন ভারতে থাকায় পলাতক দেখানো হয়। ঘটনার পর পরই সে ভারতে পালিয়ে যায়। কিন্তু কয়েক মাস আত্মগোপনে থাকার পর ভারতীয় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। সে বর্তমানে ওই দেশের কারাগারে আছে।
পাবলিক প্রসিকিউটর বলেন, আমরা ইন্টারপোলের সাহায্যে আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যেই চন্দনকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করব। আগামী তিন মাসের মধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।

মন্তব্য
Loading...