আগামী নির্বাচনে জয়ী হলে কোনো মানুষ দরিদ্র থাকবে না।। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

240
gb
# সৈয়দ নাজমুল হাসান, ঢাকা।।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিগত দিনে বিএনপি-জামায়াত জোট জনগণকে কিছু দিতে পারেনি। তারা শুধু নিতে পারে। আর আওয়ামী লীগ শুধু দিতে জানে। আগামী নির্বাচনে জয়ী হলে কোনো মানুষ দরিদ্র থাকবে না। মানুষ সুন্দরভাবে জীবন-যাপন করতে পারবে। সেইভাবে পরিকল্পনা সামনে নেওয়া হয়েছে সে ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য আওয়ামী লীগের আবার ক্ষমতায় আসা দরকার।

আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর হাসপাতাল মাঠে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণ আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নতি হয়। মানুষ কিছু পায়। আর বিএনপি ক্ষমতায় আসলে তারা জাতিকে কিছু দিতে পারে না। তারা জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলে।

বিএনপি-জামায়াত সরকারের মেয়াদে রাজধানীর দুরবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই ঢাকায় পানির জন্য হাহাকার ছিল। এক গাড়ি পানি কিনতে যেখানে দুইশ টাকা লাগার কথা সেখানে ১৫ টাকা দিয়ে কিনতে হতো। আর বিদ্যুতের লোডশেডিংই বেশি থাকত। বিদ্যুৎই ছিল না। রাস্তাঘাট, পয়ঃনিষ্কাশনের করুণ অবস্থা ছিল, একটা অসনীয় অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল।

তিনি বলেন, ঢাকার মানুষ যাতে নাগরিক সেবাটা ভালোভাবে পায়, যেহেতু জনসংখ্যা বেড়ে গেছে এবং প্রত্যেকেটা ইউনিয়নকে আমরা এই মহানগরের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে দিয়েছি। ১৭টি ইউনিয়ন, ঢাকাকে আমরা উত্তর এবং দক্ষিণ -এভাবে ভাগ করে দিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, পরপর দুইবার ক্ষমতায় আসায় আজকে উন্নয়ন দৃশ্যমান হচ্ছে। মানুষ উন্নয়নের সুফল পাচ্ছে।

ঢাকা মহানগরীর দক্ষিণ এলাকার অন্তর্ভুক্ত ৮টি সংসদীয় আসনে মহাজোট ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা সভা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ৮টি আসনের প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন।

এর আগে জনসভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বক্তব্য রাখেন । তিনি বলেন, কামরাঙ্গীরচর আগে ছিল সুলতানগঞ্জ ইউনিয়ন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ তথা নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বলতে তেমন কিছুই ছিল না। ঢাকার লালবাগ-হাজারীবাগের পাশে থেকেও এই এলাকার মানুষ অনেক পিছিয়ে ছিলেন। এখন সে অবস্থার উত্তরণ ঘটেছে।

তিনি আরো বলেন, ২০০৮ সালে কামরাঙ্গীরচর তথা ঢাকা-২ আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। এরপর তাঁর উদ্যোগে এই এলাকাটি ডিএসসিসির আওতাধীন হয়। এর মধ্যে গত তিন বছরে ৩০০ কোটি টাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজ করেছে ডিএসসিসি। এখন কামরাঙ্গীরচরের কোথাও ভাঙা বা চলাচলের অনুপযোগী রাস্তা খুঁজে পাওয়া যাবে না। সন্ধ্যার পর পুরো এলাকা এলইডি বাতির আলোয় আলোকিত। এই উন্নয়নকাজের পেছনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছেন স্থানীয় সাংসদ কামরুল ইসলাম। তাই ভবিষ্যতে এই এলাকার আরও উন্নয়নের জন্য নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে তাঁকে বিজয়ী করতে হবে। তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়েছেন। খাদ্যমন্ত্রীকে আবার এই আসনে সাংসদ নির্বাচিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

ঢাকা-২ আসন আওয়ামী লীগ প্রার্থী খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম তার বক্তৃতায় বলেন, ‘কামরাঙ্গীরচর তথা ঢাকা-২ আসনের মানুষের ভালোবাসায় আমি টানা দুইবার এই আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছি। নাগরিকদের সেবায় এই চর এলাকায় স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, কমিউনিটি সেন্টারসহ অসংখ্য উন্নয়নকাজ করেছি। এখন এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আমাকে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আবার নির্বাচিত করুন।’

অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সভাপতি হাজী আবুল হাসনাত, সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আখতার হোসেন, কামরাঙ্গীরচর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেন সরকার, সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান মাতব্বর, ডিএসসিসির ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নূরে আলম, ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন, ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইদুল ইসলাম মাতব্বর প্রমুখ বক্তব্য দেন। জনসভায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা লীগসহ দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।