ভারত ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা

203
gb

জিবি নিউজ24 ডেস্ক //

ভারত-চীন সীমান্তের ওপারে তিব্বতের স্বশাসিত অঞ্চলে নজিরবিহীন সামরিক তৎপরতা শুরু করেছে চীন। রাস্তা, ক্ষেপণাস্ত্র, বিমানবন্দর, সমস্ত ক্ষেত্রেই অত্যন্ত দ্রুত গতিতে চলছে পরিকাঠামো বানানোর কাজ। পাল্টা প্রতিরোধী ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে ভারতও। ঢেলে সাজানো হচ্ছে সীমান্তে ভারতের প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতীয় বিমানবাহিনীর এক কর্মকর্তা দেশটির সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভুটানের ডোকলামে ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্ত সমস্যা শুরু হওয়ার পর থেকেই সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে চীন। যার প্রেক্ষিতে ওই এলাকায় পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা বসাচ্ছে ভারত। এত দিন এই এলাকায় ‘ভূমি থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা’ ছিল না ভারতের।

ভারতের সেনা গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, সামরিক এবং অসামরিক প্রকল্প মিশিয়ে এক নতুন ধারার পরিকাঠামো তৈরির কাজ শুরু করেছে চীন। ভারত-চীন সীমান্ত থেকে ৭৫০ কিলোমিটার দূরে শিনিং-এ একটি বিশাল বিমানবন্দর তৈরি করছে চীন। পাশাপাশি তিব্বতের লুনৎসে, টিংরি এবং পুরাং-এ বানানো হচ্ছে তিনটি ছোট বিমানবন্দর। এই তিনটি বিমানবন্দরই ভারত সীমান্তের খুব কাছে।

একই সঙ্গে গোঙ্গার বিমানবন্দরের পরিকাঠামোও পুরোপুরি বদলে ফেলছে চীন। ২০২০ সালের মধ্যেই এই কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর বছরে ৯০ লক্ষ পর্যটক বিমানে ওঠা নামা করতে পারবেন এই অঞ্চলে। পাশাপাশি ৮০ হাজার টন পণ্য পরিবহণ করা সম্ভব এই বিমানবন্দর থেকে। এটি অসামরিক প্রকল্প হলেও প্রয়োজনে এই বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারবে পিপলস লিবারেশন আর্মি বা চীন সেনাবাহিনী।

পরিস্থিতি বুঝে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে নয়াদিল্লিও। উত্তর-পূর্ব ভারতে আরও ছ’টি ভূমি থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা বসানোর কথা ভাবছে ভারত। এছাড়া ২০২০ সালের মধ্যে নিয়ে যাওয়া হবে চিনুক এবং অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের একটি করে স্কোয়াড্রন। সাধারণত, একটি স্কোয়াড্রনে ১২ থেকে ২৪টি বিমান বা হেলিকপ্টার থাকে। রাশিয়ার কাছ থেকে অত্যাধুনিক এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা কেনা হলে তারও সদ্ব্যবহার করা হবে উত্তর-পূর্ব ভারতে। এছাড়া ফ্রান্সের কাছ থেকে কেনা রাফাল যুদ্ধবিমানের একটি স্কোয়াড্রনও মোতায়েন করা হবে উত্তর-পূর্ব ভারতেই।