হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে আমন ধানের বাম্পার ফলন,আনন্দে আত্মহারা কৃষক- কৃষানী কৃষি বাংলাদেশের কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে মিশে আছে সরকারের সহযোগীতায় কৃষিতে রেকর্ড করেছে বাংলাদেশ!

234
gb

 উত্তম কুমার পাল হিমেল, নবীগঞ্জ(হবিগঞ্জ) হবিগঞ্জ থেকে \ হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে বিভিন্ন এলাকাজুড়ে আমন ধানের বাম্পার ফসলের দৃশ্য দেখে কৃষক- কৃষানীরা আনন্দে আত্মহারা। ধানের বাম্পার ফসল সবুজের সমারোহ চোঁেখ পড়ছে। এবার আমনের বাম্পার ফলনে হাসি ফুটেছে কৃষক- কৃষাণীর মুখে হাসি। উৎসব মুখর পরিবেশে চলছে ধান কাটার কাজ। নবীগঞ্জে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আমন ধানের এমন ফলনে এ বছর কৃষকের চোখে মুখে হাঁসি ফুটেছে। লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে প্রতি হেক্টরে এবার সাড়ে ৪ থেকে ৫ টন ধান উৎপাদিত হয়েছে। জানা যায়, আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ও কৃষি কর্মকর্তাদের সঠিক পরামর্শে চতুরদিকে আমনের সোনালি ক্ষেত আর ক্ষেত। উপজেলার বিভিন্ন হাওর ও মাঠে সবুজ আর সোনালী ছোপ, বিকালে হালকা বাতাস, সকালে শিশির ভেজায় দূলছে রোপা আমন ধান। সেই সাথে দূলছে কৃষক- কৃষানীর মন। খুশির আনন্দে ঢেউ আছড়ে পড়ছে মাঠে ও গ্রামে। কৃষকদের চোখের কোণে খুশির ঝিলিক ও সোনালী স্বপ্ন দেখা যাচ্ছে। সচ্ছলতার সোপানে দ্রæত পাল্টে যাওয়ার আগমনী বার্তা সু সময়ের হাতছানি। দেশের কৃষকদের এগিয়ে নিতে কৃষিবান্ধব সরকারের সামগ্রীক সহযোগিতায় কৃষকরা উদ্বেলিত। একদিকে কৃষক- কৃষানীরা স্বপ্নের ফসল ঘরে তুলতে প্রচন্ড ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। কেউ কেউ ধানের গোলা তৈরি করে নতুন ধান ঘরে তুলছেন। আবার অনেকেই ইতিমধ্যে সোনালি ধান কাটা ও তোলা শেষ করেছেন। সরজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কিছু কিছু এলাকায় কৃষক পাকা ধান কেটে আঁটি বেঁধে নিয়ে আসছেন। কেউ কেউ মাড়াইয়ের কাজ করছেন। আবার অনেকে ধান সিন্ধ দিচ্ছেন। ঘাম ঝরানো কৃষকরা জানান, এ বছর বেশি বৃষ্টি হওয়াতে ও যথাসময়ে জমিতে সার দিতে পারায় ধানের ফলন আগের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে। এবার আমন ধানের ফলন ভাল হওয়ায় ধান চাষ লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমনের এমন বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি অধিদপ্তর। নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দুলাল উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, উপজেলায় এ বছর ১০ হাজার ২শত হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিলো। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ফলন ভাল হওয়ায় এবার ১১ হাজার ২ শত ৫০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। প্রতি হেক্টরে সাড়ে ৪ থেকে ৫ টন ধান উৎপাদিত হয়েছে। এবার আশার চেয়ে ফলন অনেক ভাল হয়েছে। কি কারণে এবছর এমন ফসল হয়েছে তা খোঁজ নিয়ে জানাযায়, বাংলাদেশ ধানের দেশ- গানের দেশ- পাখির দেশ। তাই অগ্রহায়ণে ধান কাটার উৎসব গ্রামবাংলা তথা বাঙালির প্রাচীন ঐতিহ্য। পহেলা অগ্রহায়ণ মানেই ছিল বাঙালি কৃষকের বাড়িতে উৎসবের আমেজ। নতুন ধানের গন্ধে মৌ-মৌ উঠান আর বাড়ি। আবহমান এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে পহেলা অগ্রহায়ণ দিনটি পালন করে আসছে এ দেশের জনগণ নবান্ন উৎসব তথা জাতীয় কৃষি দিবস হিসেবে। হাজারো দিবসের মধ্যে একটি দিবসই নির্ধারিত হয়েছে যাতে দেশের শতকরা ৮৫ ভাগ মানুষের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ২০০৮ সালে আর্ন্তজাতিক বাজারে চালের সরবরাহ কমে যাওয়া এবং মূল্য বেড়ে যাওয়ার সময় বাংলাদেশ অর্থ দিয়েও চাল কিনতে পারেনি। প্রতিবেশী দেশ ভারত চাল রপ্তানির ক্ষেত্রে টালবাহানা শুরু করে। তখন আমাদের দেশের নেতাকর্মীদের মধ্যে বোধোদয় হয়। তারা বুঝতে পারে জাতির অস্তিত্ব রক্ষার জন্য কৃষিকে গুরুত্ব দেয়া দরকার। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালে তত্ত¡াবধায়ক সরকার পহেলা অগ্রহায়ণ মাসের প্রথমদিনকে জাতীয় কৃষি দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। ওই বছর সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি ভাবে নবান্ন উৎসবের আয়োজন করা হয়। তারপর ২০০৯ সাল থেকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পহেলা অগ্রহায়ণ পালিত হয় জাতীয় কৃষি দিবস হিসাবে। কৃষি দিবসের প্রধান আকর্ষণ নতুন ধান কাটার উৎসব বা নবান্ন। জাতীয়ভাবে প্রতি জেলা- উপজেলায় এ দিবস উপলক্ষে কৃষি মেলার ব্যবস্থা করা হয়। কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত শ্রেষ্ঠ কৃষকদের জেলা ও উপজেলা কৃষি বিভাগ কৃষি যন্ত্রপাতি দিয়ে সহযোগীতা করে সফল কৃষকদের পুরস্কৃত করে কৃষি কাজে আরও আগ্রহ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। কৃষি বিশ^বিদ্যালয় ও কৃষির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গুলোতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালিত করে জাতীয় কৃষি দিবস। নবান্ন উৎসব হলো বাঙালি জাতির ঐতিহ্য, যার মধ্য দিয়ে বাঙালিকে জাগ্রত করে তোলা। নবান্ন উৎসব আবহমান বাংলার চিরায়ত প্রথা হিসেবে চলে আসছে। হাজার বছর ধরে এ দেশে অগ্রহায়ণ মাসে আমন ধান কাটার সময় নবান্ন উৎসব করেন চাষিরা, এ উৎসবকে কেন্দ্র করে বাঙালিদের মনে ব্যাপক উৎসাহ- উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। নতুন ধানের পিঠা, মুড়ি, চিড়া, খইসহ নানা খাবারের ঘ্রাণে ভরপুর ও আনন্দ উৎসব দেখা যায় গ্রামীণ জনপদে। কালের বির্বতনে অনেক কিছু পরির্বতন হলেও কৃষকরা নবান্ন উৎসব পালন করতে ভুলে যাননি আজও। বাংলার মুসলিম কৃষক সমাজ অগ্রহায়ণের প্রথম শুক্রবার থেকে নবান্ন উৎসব শুরু করে। সনাতন হিন্দু স¤প্রদায়ের কৃষকরা তাদের পঞ্জিকা অনুসারে ১ অগ্রহায়ণ থেকে নবান্ন উৎসব পালন করে থাকেন। বাংলাদেশের পাহাড়ি জনপদে চলে নতুন ধানের নবান্ন উৎসব।