গোপালগঞ্জে ছেলের বৌ আত্মহত্যা করায় শ্বাশুড়িকে ধরে নিয়ে বর্বর নির্যাতণ

80

 গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জে ছেলের বৌ আত্মহত্যা করায় শ্বাশুড়িকে ধরে নিয়ে আদিম কায়দায় বেধরক মারধর ও লাঞ্ছিত করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে বৌ’এর বাপের বাড়ির লোকজন। আশংকাজনক অবস্থায় শ্বাশুড়ী অনিতা বাড়ৈ (৫৫) মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে অনিতা’র এলাকা মুকসুদপুরের জলিরপাড় ইউনিয়নের নেতৃস্থানীয়সহ এলাকার সাধারণ মানুষ। তারা এধরণের আদিম বর্বরতার প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের উপযুক্ত বিচার দাবী করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। সরেজমিন গেলে কথা হয় জলিরপাড় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অখিল বৈরাগী, ৫নং ওয়ার্ড-সদস্য আনন্দ মল্লিক ও মুরুব্বী জন্মেজয় বৈরাগী সহ এলাকার সাধারণ লোকজনের সঙ্গে। তারা জানিয়েছেন, ৭-৮ মাস আগে অনিতা বাড়ৈ’র ডিপ্লোমা ইঞ্জিনীয়ার ছেলে তাপস বাড়ৈ’র বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী ননীক্ষীর ইউনিয়নের গোয়ালগ্রামের মেয়ে মিতালীর সঙ্গে। চাকরীর কারণে তাপস চট্টগ্রামে থাকে। মিতালী থাকতো বাড়িতে শ্বশুড়-শ্বাশুড়ির কাছে। সংসারেও কোন অশান্তি না থাকলেও হঠাৎ করেই গত ৩০ নবেম্বর গভীর রাতে মিতালী রশিতে ঝুলে আত্মহত্যা করে। পরদিন শনিবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠায়। কিন্তু বিকেল ৫ টার দিকে মিতালীর কাকা ননীক্ষীর ইউনিয়নের চৌকিদার তারাপদ হালদারের নেতৃত্বে সুভাষ সিংহ, চিত্ত বাড়ৈ, বিধান সিংহ ও পলাশ সহ শতাধিক পুরুষ ও মহিলা ঝটিকা আকারে গোয়ালগ্রাম থেকে কলিগ্রামে এসে প্রবেশ করে এবং অনিতা বাড়ৈ’র বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট করে অনিতা’কে টেনে-হিঁচড়ে মারধর করতে করতে তাকে গোয়ালগ্রামে নিয়ে যায়। এসময় জলিরপাড় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সেবাদাসী বিশ্বাস ও শ্রপতি বৈরাগী শান্তির বানী নিয়ে ওই বাড়িতে গেলেও তাদের সামনেই অনিতা’কে বাড়ির উঠানে ফেলে চরমভাবে লাঞ্চিতসহ আদিম কায়দায় মারধর করা হয়। একপর্যায়ে অনিতা জ্ঞান হারিয়ে আধমরা হয়ে পড়ে। পরে রাত ৮ টার দিকে চৌকিদার তারাপদ হালদার, জে.কে.এম.বি উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য খলিল শেখ ও সাংবাদিক পরিচয়ধারী মিরাজ ফকিরকে সঙ্গে নিয়ে অজ্ঞান অনিতাকে দ্রæত এনে কলিগ্রামের জ্যাকব ডাক্তারের চেম্বারের সামনে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে সেখান থেকে অনিতা’র স্বজনসহ স্থানীয়রা তাকে মুকসুদপুর উপজেলার স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে নিয়ে রাত ১ টার দিকে ভর্তি করে। তারা সাংবাদিককের কাছে আরও বলেন, আমরা উন্নয়নের যে সিঁড়িতে অবস্থান করছি, সেখানে দাঁড়িয়ে এভাবে আইনকে নিজেদের হাতে নিয়ে সেই আদিম কায়দায় ৫৫ বছরের এক মহিলার উপর বর্বরতা চালানো হবে – এটা হতে পারে না। তাই আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং সকল দোষীদের উপযুক্ত বিচার দাবী জানাই সংশ্লিষ্ট সবার কাছে। মুকসুদপুর থানার এস.আই. নব কুমার সাংবাদিকদেরকে জানিয়েছেন, মিতালী আত্মহত্যার ঘটনায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে এবং রবিবার অনিতা’র বিষয়ে তার ভাইপো রথীন বাড়ৈ এ ব্যাপারে মুকসুদপুর থানায় একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। দু’টো বিষয়টিই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। দ্রæতই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য-কর্মকর্তা ডা: মাহমুদুর রহমান জানিয়েছেন, অনিতা’কে ভর্তির সময় তার প্রায় সারা শরীরেই আঘাতের চিহ্ন ছিল। এখন কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

মন্তব্য
Loading...