প্রবাস থেকে দেখি স্বদেশের রাজনীতি

778
gb

 

লেখক আবু সায়েম মিয়া স্পেন প্রবাসী ||

শোনেছি দেশ সিঙ্গাপুর হবে মালয়েশিয়া হবে সুইজারল্যান্ডের, জাপান,আমেরিকার চেয়েও নাকি উন্নত হবে। যারা স্বপ্ন দেখিয়ে ছিলেন। তাদের কথায় আশায় বুক বেধে ছিলাম। যখন দেখি কালো টাকা প্রচারকারী দেশ হিসেবে প্রথম সারিতে আমার দেশের নাম। গণতন্ত্রহীন দেশ হিসেবে জাতি সংঘের পদ হারাতে বসেছে। যখন শুনি প্রাণ প্রিয় জন্ম ভূমিতে কোন মানবতা নেই।দুর্নীতি তে প্রথম সারির দেশ। তখন স্বপ্ন ভেঙ্গে খান খান হয়ে যায়। দেশ ছেড়েছি অনেক দিন হলো। তবে দেশ ও দেশের মানুষের কথা ভুলতে পাড়িনি। দেশে থেকে অনেকে প্রায় প্রতিদিন দেশে ছাড়তে চাই, গল্প শোনায় ফোনে মেসেজের মাধ্যমে জানায়। কি কারনে দেশে ছাড়তে চায়? জানতে চাইলে বলে এ দেশটা শশানঘাট হয়ে গেছে। এখানে জীবনের কোন নিরাপত্তা নেই। প্রশাসন ও বিচার বিভাগ দলীয় হয়ে গেছে। এই দেশে কোন ভাল মানুষ ও সাধারণ বাস করতে পারবে না। দেশের সব কিছু উল্টো পথে চলতেছে। আইনের কোন শাসন নেই, বিচারহীনতার সমাজ ব্যবস্থা। সব জয়গায় অনিয়ম, দুর্নীতি, দেশে মানুষ বাস করার পরিবেশ নাই। সব জায়গায় অশান্তি। অস্থির একটা সমাজ, শান্তির খোজে বিদেশে পাড়ি জমাতে চায়। কথা গুলো অনেকটা এমন – নদীর ওপারে কাঁশবন গুলো কত সুন্দর। বিদেশের মাটিতে যখন দেখি দেশের মানুষের কাজ নেই,পকেটে টাকা নেই,থাকার জায়গা নেই, রাস্তায় ঘুমায়,ভিক্ষা করে জীবন বাচাতেছে তখন শরীরের ভিতরে থাকা রক্ত মাংসের হৃৎপিন্ডটা কষ্টে ছিরে পরতে চায়। তখন এই ভেবে সান্ত্বনা পাই। দেশে ঘরে থাকলে গুম হয়ে যায় এখানে তো জীবনটা নিয়ে বেচে আছে তাতেই কম কি? আমাদের দেশে তো যাদের কাছে টাকা করি আছে তাকে প্রশাসনের লোক সাদা পোশাকে ধরে নিয়ে যায়। টাকা পয়সা না দিতে পারলে লাশটাও পাওয়া যায় না। একটা গানের কলি মনে পরে গেল। যদি ভুল না করি আমি ফিটব্যাক মাকসুদের গাওয়া গান – হেরোইনের বক্স করে পুরি, তুমি আওরাচ্ছ মানবতা।তেজস্ক্রিয় দুধ আমদানি করে গড়ে তুলেছো কালো টাকার পাহাড়। তুমি সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা করো। আর হুইকি সেবন করো, আর হুইকি সেবন করো। এই গানের কলি এখন গাইলে হয়তো এভাবে গাইতেন তিনি- বড় বড় প্রজেক্ট দিয়ে করো চুরি, বিদেশে গড়ে তুলেছো কালো টাকার পাহাড়। তুমি এদেশে রাজনীতি করো আর বিদেশীদের পা চাটো। দেশের সম্পদ,শেয়ার বাজার,ব্যাংক লুট করো। বউ পোলাপান বিদেশে রেখে। এ দেশে জনদরদী সাজো। গানের কথা গানেই থাক। দেশে সর্বোচ্চ পর্যায়ে কাজ ও কথায় কোন ঠিক নেই। সবার ভিতর নীতি ও নৈতিকতার খুব অভাব। বলে একটা করে অরেকটা। কমলমতি ছাত্র আন্দোলন, কোঠা আন্দোলন রাজনৈতিক দলগুলোর হানাহানি অবিশ্বাস শাপলা চত্তর, শাহাবাগ চত্তর, বিডিয়ার বিদ্রোহ, হলি আটিজম, বেকারত্ব, বিচারহীনতা, আইনের অপশাসন, টিভি পত্রিকা বন্ধ ইত্যাদি দেশ কে নিয়ে যাচ্ছে অন্ধকারের দিকে। আমাদের দেশটা অনেক ছোট। কিন্তু ভুরাজনীতিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই পৃথিবীর বড় বড় শক্তির বড় বড় চোখ দিয়ে ষড়যন্ত্রের জালে অটকে রেখেছে। যেমন- গরীবের বউ যেনো সবার ভাবি লাগে। দেশ বিরোধী নানা চুক্তি দেশের সার্থকে না দেখে বিদেশীদের সার্থকে বড় করে দেখা হচ্ছে। অবৈধ অনৈতিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে মনে হইতেছে। পরকীয়া প্রেম চলতে কোন কোন বিশেষ দেশের প্রতি আবার কোন কোন দেশ এ দেশ কে দখল করতে চাই। কেউ আবার কোন কোন দেশ এদেশের ভূমি দাবী করে। নিজের দেশে বেকার রেখে বিদেশী দের চারগুন বেশী টাকা বেতন নামের উপঢৌকন দিতেছে রাষ্ট্রীয় কোষাগার খালি করে। পাশে বাড়ীর সাথে পরকীয়া সব যেনো উজার করে দিচ্ছে। ব্যর্থ নতজানু পররাষ্ট্রনীতি দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। পাশের বাড়ী থেকে ১২ লক্ষ লোককে ঠেলে পাঠিয়েছে আমার বাড়ীতে। আমার বাড়ীতে কত লোক জায়গা হয় না। কোন খেয়াল নেই তাতে। প্রতিদিন বাড়ীর সিমানায় এসে পাশের বাড়ি লোকরা আমার বাড়ীর লোকদেরকে হত্যা করতেছে। মেরুদন্ড হীন আজ্ঞাবহদের কারনে। স্বাধীনদেশ পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হচ্ছে।। দেশের সার্বভৌমত্ব আজ হুমকির মুখে। দেশ কে বাঁচাতে হলে দেশপ্রেম নীতি ও নৈতিকতাকে সাথে নিয়ে, দেশে সকল নাগরিক কে হাতে হাত রেখে সংগঠিত হতে হবে। তা হলেই দেশকে বাঁচানো যাবে। প্রবাস থেকে স্বদেশের রাজনীতি দেখা শেষ হবে।

এখানে প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব, জিবি নিউজের সম্পাদকীয় বিভাগের আওতাভুক্ত নয়।