ইয়ানূর রহমান : উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচনি অফিস করাকে কেন্দ্র করে যশোরের শার্শায় দলীয় কোন্দলে বর্তমান চেয়ারম্যান সমর্থকদের হামলায় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ সহ ১০ গুরুতর আহত হয়েছে। বুধবার (১৫ মে) রাত ১০ টায় শার্শার গোগা বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহতরা হলেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ (৫৭), ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দীন (৪৪), গোগা এলাকার জয়নালের ছেলে জুলফিকার আলী ভুট্রো (৪০), একই এলাকার নুর ইসলামের ছেলে আব্দুল ওহাব (৪৫), ইদ্রিস (৪৫), অমিত হাসান (২৬), আমির হোসেন (৫২), মেহেদী হাসান (২৫), আজগার আলী (৪৫) ও আঃ জব্বার। তাদেরকে উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, আগামী ২১ মে যশোরের শার্শা উপজেলায় নির্বাচন হতে যাচ্ছে। স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩/৪ মাস আগে গোগা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান তবিবর রহমান সহ তার লোকজন সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদের গোগা বাজারে অবস্থিত একটি ভাড়াটিয়া মুদি দোকান জোরপূর্বক দখল করে নেয় এবং দোকানে তালা দিয়ে দোকানের চাবি বাজার কমিটির সেক্রেটারি ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলীর নিকট রাখে। বুধবার (১৫ মে) ঘটনার সময়ে রশিদ চেয়ারম্যান উক্ত দোকান ঘরটি উপজেলা চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী সোহারাব হোসেনের পক্ষে নির্বাচনী অফিস করার লক্ষ্যে মোহাম্মদ আলীর নিকট দোকানের চাবি চাইলে দিবেনা বলে জানিয়ে দেয়। এসময় তিনি উক্ত দোকানের তালা ভেঙে দোকানে প্রবেশ করে এবং চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী সোহরাব হোসেনের নির্বাচনী অফিস হিসাবে ঘোষনা করেন। পরে বর্তমান চেয়ারম্যান তবিবর রহমান দোকানের তালা ভাঙ্গার বিষয় টি জানতে পেরে তরিকুল মেম্বার, বাবুল, শাহ আলম মেম্বার, সাহেব আলীসহ আরো ৪০/৫০ জনের একটি বাহিনী লাঠিসোটা ও দেশিয় অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর আতর্কিত হামলা চালায়। সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ জানান, ‘আমরা উপজেলা নির্বাচনে দোয়াত-কলম মার্কার প্রার্থী সোহারাব হোসেনের জন্য ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ভোট প্রার্থনা করে গোগা বাজারে এসে জসিম এর দোকানে বসে ছিলাম। আমাদের পক্ষে দিন দিন জনসমর্থন দেখে তবি ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর লোকজন আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চলিয়ে আমি সহ আমার ১০ জন নেতা-কর্মীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে। এবিষয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান তবিবর রহমান বলেন, আমি বাজারে ছিলাম না। পরে এসে শুনি অফিসে বসা নিয়ে আমাদের কিছু লোকজনের সাথে তাদের ঝামেলা হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। নাভারন সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার নিশাত আল নাহিয়ান জানান, এ ঘটনায় রাতে থানায় একটি মামলা হয়েছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছে। গোগা ও ভুলোট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।#
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন