নিষেধ উপেক্ষা করে যে কাজের জন্য অস্কার জেতেন এ আর রহমান

অস্কারজয়ী সিনেমা ‘স্লামডগ মিলিয়নিয়ার’-এ কাজ করার আগে এ আর রহমানকে এই প্রকল্প থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন তার এজেন্ট। কিন্তু সেই পরামর্শ না মেনে পরিচালক ড্যানি বয়েলের সঙ্গে কাজ করেন রহমান।

পরে মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে সিনেমাটির সংগীতের বড় একটি অংশ তৈরি করে পান আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

 

সম্প্রতি হাসান মিনহাজের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই অভিজ্ঞতার কথা জানান রহমান। তিনি বলেন, ২০০৮ সালে ড্যানি বয়েল প্রথম তাকে ই-মেইল করে একসঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দেন। পরে মুম্বাইয়ে দেখা হলে বয়েল তাকে ‘স্লামডগ মিলিয়নিয়ার’-এর একটি ডিভিডি দেন এবং সিনেমাটির জন্য সংগীত করার অনুরোধ জানান।

 

সিনেমাটি দেখার পর রহমান তার এজেন্টের সঙ্গে কথা বলেন। তখন এজেন্টের এক প্রতিনিধি তাকে এই কাজ না করার পরামর্শ দেন। কারণ হিসেবে বলা হয়, বয়েল ভিন্ন ধরনের পরিচালক এবং বিভিন্ন সংগীতশিল্পীর সঙ্গে কাজ করেন। তার তৈরি সংগীত পরে বাদ পড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও ছিল বলে রহমানকে সতর্ক করা হয়।

 


 

তবে পরিচালকের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে রহমানের অভিজ্ঞতা ছিল ভিন্ন। ড্যানি বয়েলের আন্তরিকতা তার ভালো লেগেছিল। তাই এজেন্টের পরামর্শ উপেক্ষা করে কাজটি করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

এদিকে একই সময়ে আশুতোষ গোয়ারিকরের ‘হোয়াটস ইওর রাশি?’ সিনেমার সংগীত নিয়েও কাজ করার কথা ছিল রহমানের। কিন্তু সময়ের সংকটের কারণে সেই কাজ থেকে সরে আসেন তিনি।

এরপর অনেকটা গোপনেই ‘স্লামডগ মিলিয়নিয়ার’-এর সংগীত তৈরির কাজ শুরু করেন।

 

রহমান জানান, পুরো কাজ শেষ করার জন্য তার হাতে ছিল মাত্র তিন সপ্তাহ। নিউইয়র্ক, মুম্বাই ও চেন্নাইয়ে বসে তিনি সংগীত তৈরির কাজ করেন। পরে লন্ডনে হয় মিক্সিংয়ের কাজ। ড্যানি বয়েল তখন লন্ডনেই ছিলেন এবং প্রতিদিন সন্ধ্যায় রহমানের কাছে গিয়ে নতুন সংগীত শুনতেন ও নিজের মতামত জানাতেন।

মজার বিষয় হলো, রহমানের এজেন্টও জানতেন না যে তিনি শেষ পর্যন্ত সিনেমাটির সংগীত তৈরি করেছেন। সিনেমাটি মুক্তির পর রহমানের নাম দেখে এজেন্ট তাকে ফোন করে বিষয়টি জানতে পারেন।


 

‘জয় হো’ তৈরির গল্পও আলাদা

‘স্লামডগ মিলিয়নিয়ার’-এর অন্যতম জনপ্রিয় গান ‘জয় হো’ তৈরির পেছনেও রয়েছে মজার ঘটনা। রহমান জানান, গানটির ভিডিওর দৃশ্যের শুটিং আগেই হয়ে গিয়েছিল এবং সেখানে ব্যবহার করা হচ্ছিল ‘ডন’ সিনেমার ‘আজ কি রাত’ গানটি।

কিন্তু রহমান মনে করেন, তিনি যদি সংগীত তৈরি করেন, তাহলে তার একটি মৌলিক গান থাকা উচিত। এরপর দ্রুত নতুন সুর তৈরি করে সেটি আগের দৃশ্যের সঙ্গে মানিয়ে নেন। অভিনেতারা ওই দৃশ্যে ঠোঁট মেলাচ্ছিলেন না, ফলে গানটির সঙ্গে দৃশ্যটি মিলিয়ে নেওয়ার সুযোগ ছিল।

পরবর্তী সময়ে ড্যানি বয়েলকে গানটির একটি প্রাথমিক সংস্করণ শোনান রহমান। বয়েল গানটি পছন্দ করলেও আরো স্ট্রিংস যোগ করার পরামর্শ দেন। রহমান দ্রুত নতুন স্ট্রিংস অ্যারেঞ্জমেন্ট তৈরি করে তাকে শোনান। সেটিও পছন্দ করেন পরিচালক।

তবে গানটি শেষ পর্যন্ত সিনেমায় থাকবে কি না, তা নিয়েও তখন নিশ্চিত ছিলেন না রহমান। তিনি জানান, পুরো প্রক্রিয়াটিকে তিনি একজন বড় পরিচালকের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা হিসেবেই দেখেছিলেন। এত বড় পুরস্কার পাওয়ার কথা তখন তার কল্পনাতেও ছিল না।

শেষ পর্যন্ত ‘স্লামডগ মিলিয়নিয়ার’-এর সংগীত রহমানের ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় সাফল্য হয়ে ওঠে। সিনেমাটির জন্য তিনি ২০০৯ সালে দুটি অস্কার জেতেন—সেরা মৌলিক সুর এবং ‘জয় হো’র জন্য সেরা মৌলিক গান। পাশাপাশি গোল্ডেন গ্লোব, বাফটা ও দুটি গ্র্যামিও অর্জন করেন তিনি।

জিবি নিউজ24ডেস্ক//

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন