যশোরের শিক্ষক সত্যজিৎ মন্ডল কর্মস্থল থেকে ৩১ বছরে একদিনও ছুটি নেননি

158
gb

 

ইয়ানূর রহমান :

৩১ বছর চাকরি জীবনে একদিনও ছুঠি নেননি। কর্মস্থলেআসতে দেরীও করেননি কখনও। বাবার মৃত্যু, নিজের বিয়ে এমনকি প্রচন্ড
অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতাল বেড থেকে উঠে এসেও স্কুল করেছেন।কর্তব্যপরায়ণতার এমন উদাহরণ তৈরি করেছেন যশোরের মনিরামপুর
উপজেলার ধোপাদি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সত্যজিৎ মন্ডল। এতোকর্তব্যপরায়ণতার কোন স্বীকৃত না পেলেও; তিনি পরিচিত পেয়েছেনআদর্শ শিক্ষক হিসেবে।যশোরের মনিরামপুর উপজেলার কুচলিয়া গ্রামে বেড়ে উঠা সত্যজিৎমন্ডলের। ১৯৮৬ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন বাড়ি থেকে ৭কিলোমিটার দূরের অভয়নগর উপজেলার ধোপাদি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।
চাকরি জীবনের প্রথম দিন থেকেই স্কুল শুরুর আগেই তিনি পৌঁছযেতেন। দীর্ঘ ৩১ বছরের চাকরি জীবনে তার এ সুঅভ্যাসের ব্যতিক্রম
ঘটেনি।
শুধু তাই নয়, প্রায় ৩ যুগের চাকরি জীবনে একদিনও স্কুল কামাই করেননি,নেননি ছুটিও। এমনকি নিজের বিয়ের দিন, বাবার মত্যুর দিনেও স্কুলেউপস্থিত থেকেছেন তিনি। এজন্য নিজের পরিবারের লোকজনসহ অনেকেইতাকে পাগল বলে আখ্যায়িত করেছেন। তবুও অটল থেকেছেন সত্যজিৎ।বিবেকের শতভাগ প্রদীপ জ্বেলে শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞানের আলো জ্বেলেচলেছেন তিনি।শিক্ষক সত্যজিৎ মন্ডল বলেন, আমি এই স্কুলে নিয়োগ বিজ্ঞানের শিক্ষকহিসেবে। তখন এখানে আর কোন বিজ্ঞানের শিক্ষক ছিল না। তাই বিজ্ঞানেরক্লাসগুলো কোন শিক্ষক নিতে পারতেন না। সে কারণে আমি ছুটি নিলেবা উপস্থিত না থাকলে শিক্ষার্থীদের অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। এসব কথাভেবেই আমি স্কুলে উপস্থিত থেকেছি।

তিনি বলেন, তখনকার সময় কাঁদা ও বুক পানি মাড়িয়ে ৭ কিলোমিটারপথ পাড়ি দিয়ে স্কুলে এসেছি। কখনও লুঙ্গি পরে, জুতা হাতে নিয়ে
আসতে হয়েছে। স্কুলে এসে তা পরিবর্তন করে ক্লাস করেছি। বলতে বলতেচোখ ভারি হয়ে যায় সত্যজিৎ মন্ডলের। হাত দিয়ে চোখ মুছতে মুছবলেন, শিক্ষার্থীদের সাথে আমার আত্মার সম্পার্ক হয়ে গেছে। তাদের নাদেখলে আমি থাকতে পারি না।
সংসার জীবনেও একজন সুখী ও আদর্শ মানুষ গণিতের শিক্ষক দুইসন্তানের জনক সত্যজিৎ মন্ডল। তার প্রতশ্যা; এই স্কুলটিকে তিনি অভয়নগরউপজেলার শ্রেষ্ঠ করা। তার জন্য সবার সহযোগিতা চান তিনি।কাজের প্রতি এমন বিরল নিষ্ঠার কারণে পরিবার, সহকর্মী আর শিক্ষার্থীদেরকাছে খুবই জনপ্রিয় এই শিক্ষক।গণিতের শিক্ষক সত্যজিৎ মন্ডলের কর্তব্যনিষ্ঠায় মুগ্ধ যশোর অভয়নগরউপজেলার ধোপাদি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম।তিনি বলেন, সত্যজিৎ মন্ডল শুধু শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করান না। তাদেরবিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।যশোর মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আমিনুল ইসলাম টুকু বলেন,নি:সন্দেহে কর্মস্থালে এতো বছর ছুটি না নেওয়া অনুস্বরণীয়।পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। কারণ ব্যক্তি জীবনে অনেক সমস্যা থাকতেপারে। তার মধ্যেও তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকেছেন। আসলে আর্দশ শিক্ষকবলতে আমরা যাদের অনুস্বরণ করতে পারি সত্যজিৎ মন্ডল তার মধ্যে একজন।সত্যজিত মন্ডলের এমন দায়িত্ববোধের স্বীকৃতি দেবে সরকার; আশা স্কুলটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।#