Bangla Newspaper

স্বাগত হে মাহে রমজান!

88

# সৈয়দ নাজমুল হাসান, ঢাকা

বছর ঘুরে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সকল মুসলমানদের কাছে আবারো উপস্থিত হয়েছে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত লাভের পবিত্র বাণী নিয়ে রমজানুল মোবারক। স্বাগত হে মাহে রমজান! রমজান মাস আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিকট অতি প্রিয় ও পছন্দের মাস। মাহে রমজান পালিত হয় মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে অত্যন্ত পবিত্রতা ও ভাবগাম্ভীর্যে পালন করে বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। এবাদত বন্দেগী করে আল্লাহপাকের নিকট আত্মসমর্পণে প্রশান্তি লাভ করার জন্য যথেষ্ঠ সুযোগ রয়েছে এ মাসে। সারাবছর জ্ঞাত-অজ্ঞাতসারে আল্লাহর বান্দারা যে পাপ করেছে তা থেকে ক্ষমা পাওয়ার অতি উত্তম মাস হল এ রমজান। সিয়াম সাধনার দ্বারা আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে তারা যে নাজাতের পথ খুঁজবে এতে কোন সন্দেহ নেই। হাজার রজনীর চেয়ে শ্রেষ্ঠ রজনী লাইলাতুল কদর রমজান মাসকে বিশেষ ভাবে মহিমা্ময় করেছে। এ রাতেই আল্লাহ রাববুল আলামিন তার প্রিয় রাসুল, দো-জাহানের বাদশা, খাতেমুন্নাবী হজরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের ওপর সর্বশেষ এবং অতি মর্যাদাপূর্ণ ঐশী গ্রন্থ পবিত্র কোরআনুল কারীম নাযিল করেন। পবিত্র কোরআনুল কারীম শিক্ষা হল বিশ্বাসী মানুষকে ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবনে অশেষ কল্যাণ দান করা।

কৃচ্ছতা সাধন ও আত্মসংযমের এ মাসে তাই কর্মব্যস্ত মানুষ আল্লাহর প্রদর্শিত পথে চলার ওয়াদা করে, তার সবরকম গুনাহ মাফ করে দেয়ার আকুল প্রার্থণা জানায়। এ মাসে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে কঠোর ত্যাগ, ধৈর্য, উদারতা ও সততা প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। আজকাল পবিত্র রমজানকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি গ্রহণে মুসলমানগণ মুটিয়ে যাচ্ছে। অথচ পবিত্র রমজান যে মূল্যবান ও র্মযাদাপূর্ণ মাস কোনো মুসলমান অস্বীকার করতে পারবে না। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, এ মাসেই একশ্রেণীর ব্যবসায়ী মহল সততা আর ন্যায়-নীতি ভুলে অতি মুনাফা লাভের প্রতিযোগিতায় নেমে যায়। তারা রমজান মাসকে অতিমাত্রায় মুনাফা লোটার হাতিয়ার বা মোক্ষম সময় মনে করে নেয়। দ্রব্যমূল্য বাড়ানোর এই প্রবণতা আমাদের ব্যবসায়ীদের কৃচ্ছতা আর আত্মশুদ্ধির বিপরীতে নিয়ে গেছে। অসৎ ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দেয়। রমজান মাসের শিক্ষা অনুসরণের বদলে তারা যেনো আরো সুযোগসন্ধানী ও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এবারও ক্রেতা-সাধারণ দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়ার ন্যায় দেখতে পাচ্ছেন সব জায়গায়। বর্তমান সরকার দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা কোথাও রক্ষিত হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে রমজানে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা উচিৎ বলে মনে করছি।

মহান রাব্বুল আলামিন রমজান মাসেই নাযিল করেছেন পবিত্র কোরআনুল কারীম, যাতে মানুষ ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ শাস্তি ও পুরষ্কারের পার্থক্য করতে পারে। যাতে রয়েছে হেদায়েত প্রাপ্ত প্রতিশ্রুতির আহবান (সূরা বাকারা-১৮৫)। সহী বুখারী ও মুসলমি শরীফের হাদীসে হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু হতে বর্ণিত, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি ভক্তি সহকারে এবং সওয়াব পাওয়ার উদ্দেশ্যে রমজানের রোজা রাখে তার র্পূবকৃত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। যে ব্যক্তি বিশ্বাসসহ এবং সুফল পাওয়ার আশায় রমজানে তারাবীহ নামাজ আদায় করে, তার পূর্বেকার গুনাহ মাফ করা হবে। যে ব্যক্তি ভক্তিসহ এবং সুফল পাওয়ার আশায় শবে কদরে রাত্রি জাগরণ করে তার পূর্বের গুনাহ সমূহ মাফ করা হবে।

রোজা মুসলমানদের জন্য ফরজ ইবাদত। মাসব্যাপী দিনের বেলায় না খেয়ে ব্যক্তিগত জীবনাচার নিয়ন্ত্রণ করে রোজা পালন করতে হয়। মুসলমানেরা অতি আনন্দ-উদ্দীপনার সাথে এ মাসটি উদযাপন করে থাকে। রোজা র্ধমীয় ও সামাজিক আত্ম উন্নয়নে যেমন ভূমিকা রাখে তেমনি শারীরকি ও মানসিক সুস্থতা রক্ষায় গুরুত্বর্পূণ ভূমিকা পালন করে।

এ মাসে একজন রোজাদারকে কেউ শত প্রলোভন দেখিয়ে আহার করাতে পারবে না, এমনকি রোজাদারের কণ্ঠনালি শুকিয়ে মৃত্যুর ঘণ্টা বেজে উঠলেও সে হুঁশ থাকতে ইফতারির সময় না হওয়া পর্যন্ত একফোঁটা পানি পান করবে না। পৃথিবীর সব কাজের তদারকি আছে, আছে পাহারাদার; কিন্তু রোজার ক্ষেত্রে রোজাদারের পেছনে কোনো পাহারাদার নেই। এখানে সে নিজেই পাহারাদার। আর এটাই হচ্ছে সৃষ্টির মালিকের প্রতি গভীর ভীতি ও ভালবাসার নিদর্শণ।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সকলকে মাহে রমজানের পবিত্রতা ও গুরুত্ব বুঝে চলার তৌফিক দান করুন। আমিন!

Comments
Loading...