Bangla Newspaper

কার্ল মার্ক্সের নামাঙ্কিত স্মারক নোট কিনতে হুড়োহুড়ি!

98

জিবি নিউজ 24 ডেস্ক//

নোটের প্রকৃত মূল্য কানাকড়িও নেই অথচ তা কিনতে হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছে। ছাড়ার পর নিমেষে শেষ হয়েছে ৫০০০টি নোট। এতোই চাহিদা যে উদ্যোক্তারা আরও ২০,০০০ এমন নোট বাজারে ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছে। আসলে এই চাহিদা নেপথ্যে রয়েছে একজন বিশ্ববরেণ্য মানুষ তার নাম হল কার্ল মাক্স।

ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে মার্কসের ছবি দেওয়া ওই ‘শূন্য-ইউরো’র নোট বাজারে ছেড়েছে ত্রিয়ের। তা কিনতে হচ্ছে ৩ ইউরো দিয়ে অর্থাৎ ২৪০ টাকায়। ছবি ছাড়াও ওই স্মারক নোটে লেখা রয়েছে– ত্রিয়ের, কার্ল মার্কস, ১৮১৮-২০১৮।

রাইন নদীর শাখা মজেলের কোলে অবস্থিত জার্মানির সবচেয়ে পুরানো শহর ত্রিয়ের। সেখানেই আজ থেকে দুশো বছর আগে জন্মেছিলেন কার্ল হাইনরিখ মার্কস। সেদিনটা ছিল ৫ মে ১৮১৮। দেখা গেল জন্মের পর দুটো শতাব্দী পরেও ওই শহরে তিনি আজও জনপ্রিয়। এই ছোট্ট শহরেই কেটেছিল তাঁর জীবনের প্রথম সতেরো বছর। এই শহরেই স্ত্রী জেনির সঙ্গে প্রথম প্রেম। অন্য ভাবে ফের যেন তিনি ফিরেছেন এইখানে। শহরেই ট্রাফিক সিগন্যালে এখন মার্কসের ছবি।

এই শহরেই আবার শনিবার উন্মোচিত হবে সাড়ে ৫ মিটার লম্বা মার্কসের মূর্তি যা উপহার স্বরূপ এসেছে চীন থেকে। চীনের এমন উপহার আদৌ নেওয়া উচিত হবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক দানা বেধে ছিল। কিন্তু নগর পরিষদের ৪৯জনের মধ্যে ৪২ জনই নেওয়ার পক্ষে মত দেন।

তাছাড়া শহরের যে বাড়িটিতে মার্কস থাকতেন সেটিরও সংস্কার হয়েছে শুধু নয় তা শনিবার খুলে দেওয়া হচ্ছে সাধারণ মানুষের জন্য। নতুন করে সাজাতে গত সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ রাখা হয়েছিল। এখানে হয়েছে স্থায়ী প্রদর্শনী কেন্দ্র এবং প্রদর্শনী চলবে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত।

তাছাড়া আগামী কয়েক মাস ধরে আয়োজন করা হয়েছে সেমিনার, পুস্তক-পাঠ, চলচ্চিত্র উৎসব থেকে কনসার্ট ইত্যাদি। সবমিলিয়ে ৩০০-র বেশি অনুষ্ঠান। কোনটার আয়োজক ফেডেরাল সরকার, কোনওটার আবার প্রাদেশিক সরকার, আবার কিছু কিছু আয়োজন করেছে নগর সরকারও।

আসলে ২০০৮, আর্থিক সংকটের পর থেকে ফের পশ্চিম ইউরোপে নতুন করে মার্কসের কাজ ও মার্কসবাদী তত্ত্বের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। জার্মানির ছোট শহর ত্রিয়েরও তার ব্যতিক্রম নয়।

অন্যদিকে ১৮৪৯ সাল থেকে লন্ডনে পাকাপাকিভাবে থাকতে শুরু করেন মার্কস। ছিলেন ১৮৮৩-তে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত। শনিবার এখানে বহু মানুষ আসবেন বলে মনে করছেন সমাধিক্ষেত্রের এক কর্মী।

Comments
Loading...