Bangla Newspaper

পতনের জন্য দায়ী ব্যাংক খাত, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পরামর্শ

185

জিবিনিউজ ডেস্ক::

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের নেতিবাচক প্রবণতায় লেনদেন শেষ হয়েছে। এইদিন শুরুতে উত্থান পতন থাকলেও সোয়া ২ ঘন্টা পর থেকে সৃষ্ট বিক্রয় চাপে টানা নামতে থাকে সূচক। তবে শেষ দিকে কিছুটা ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টায় বড় পতন থেকে রক্ষা পায় বাজার।

.বৃহস্পতিবার সূচকের পাশাপাশি কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। তবে টাকার অংকে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় সামান্য বেড়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুদিন-তিন ধরে সংশোধন হচ্ছে পুঁজিবাজার। গত মঙ্গলবার সূচক কমলেও লেনদেন ব্যাপকহারে বেড়েছিল। কিন্তু গতকাল ও আজ সূচকের পতনের জন্য দায়ী ব্যাংক খাত। কেননা দেশের পুঁজিবাজারে বাজার মূলধনের এক তৃতীয়াংশই ব্যাংক খাতের। তাই এ খাতের পতনে বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। তবে এখন পুঁজিবাজারের যে অবস্থা তাতে সামনে বাজার আরও ভালো হবে, এটা নিঃসন্দেহ বলা যায়। কারণ সামনে যে কৌশলগত অংশীদার আসছে, তাতে বাজারের চিত্র ইতিবাচকভাবে পাল্টে যাবে। তাছাড়া বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অর্থমন্ত্রণালয় পুঁজিবাজার সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছে। তবে পুঁজিবাজারে যে কোম্পানিগুলো আছে, তারচেয়ে আরও ভালো কোম্পানি আনতে হবে। তা না হলে কয়েকটি ভালো কোম্পানি দিয়ে সামনে এগোনো যাবে না। আরও বহুজাতিক ও সরকারি কোম্পানি আনতে হবে বলেও মনে করছেন তারা।

তারা আরও বলছেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বুঝেশুনে বিনিয়োগ করেন। এফডিআরের জন্য কোম্পানির ট্যাক্স রেট কমাতে হবে। আমাদের দেশের ক্ষেত্রে কোম্পানির ট্যাক্স রেট ৩৫ শতাংশ, ৩৭ শতাংশ ও ৪৫ শতাংশ। এই ট্যাক্সের ভয়ে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো আসতে চায় না। যেখানে ট্যাক্স রেট কম, সেখানে বহুজাতিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হন। কাজেই আগে এ জায়গা ঠিক করতে হবে। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য ট্যাক্স রেট ২৫ শতাংশে নিয়ে আসলে পুঁজিবাজারে বহু ভালো মানের কোম্পানি আসবে। তখন সরকারের পলিসি করতে হবে না। বিএসইসির নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে না। মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে কোম্পানির পেছনে দৌড়াতে হবে না। আর পাবলিক কোম্পানির ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ ট্যাক্স রেটের বেশি কোনোমতেই যৌক্তিক নয়। প্রাইভেট কোম্পানির ক্ষেত্রে ট্যাক্স রেট ৩০ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত নয়।

আজকের বাজারে (১২ এপ্রিল) ব্যাংক খাতের শেয়ার দর কমার সার্বিক চিত্র:

এদিকে, আজকের বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দিনশেষে ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ২০ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫৮১৩ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১৩৫২ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২১৮৬ পয়েন্টে। দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৩৯টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৭৪টির, কমেছে ২২৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৭টির। আর দিনশেষে লেনদেন হয়েছে ৫৫৩ কোটি ৪২ লাখ ৫৯ হাজার টাকা।

এর আগের কার্যদিবস অর্থাৎ বুধবার ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ২৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করে ৫৮৩৩ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করে ১৩৫৭ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করে ২১৯০ পয়েন্টে। আর ওইদিন লেনদেন হয়েছিল ৫২৯ কোটি ১৮ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। সে হিসেবে আজ ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ২৪ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, দিনশেষে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ৭৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১৭ হাজার ৯৩৪ পয়েন্টে। দিনভর লেনদেন হওয়া ২৩২টি কোম্পানির ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৫৩টির, কমেছে ১৫৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২০টির। আর দিনশেষে লেনদেন হয়েছে ৪১ কোটি ১৩ লাখ ৮২ হাজার টাকা।

বাজার সংশ্লিষ্ট-ব্যক্তিরা বলছেন, বাজারের স্বার্থে বিএসইসিকে সর্বদা এমন পলিসি প্রণয়ন করবে, যাতে পুঁজিবাজার ইতিবাচক দিকে অগ্রসর হয়। তবে আমাদের বাজারে অন্য কোম্পানির শেয়ারের তুলনায় ব্যাংক শেয়ার এখনও অনেক নিরাপদ। বিনিয়োগকারীদের বুঝতে হবে তারা কোথায় বিনিয়োগ করবেন? তারা দীর্ঘমেয়াদি মুনাফার দিকে যাবেন, না সাময়িক মুনাফার দিকে যাবেন। কেউ যদি সাময়িক মুনাফার দিকে যান, সেক্ষেত্রে লোকসানের দায় তাকেই নিতে হবে। তবে সর্বপরি মূলকথা হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের বুঝেশুনে বিনিয়োগ করতে হবে। কারও প্রলোভনে পড়ে বিনিয়োগ করা যাবে না। বিনিয়োগ করার আগে কোম্পানির ইতিহাস, উদ্যোক্তা কারা, লভ্যাংশ দেওয়ার রেকর্ড ও ম্যানেজমেন্টে কারা আছে প্রভৃতি দেখতে হবে বলেও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

Comments
Loading...