ড: খন্দকার মোশারফ হোসেন – প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের একজন দেশপ্রেমিক সংগঠকের নাম

486
gb

ব্যারিস্টার ওবাইদুর রহমান টিপু, মানবাধিকার আইনজীবী  ||

যিনি ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্র – রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন , ছাত্রজীবনে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলেখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসীনহলের ভি পি র পদ অলংকৃতকরেছিলেন | তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়থেকে ভূতত্ত্ব বিষয়ে এম এস সি পাশ

করে ১৯৬৯ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয়েশিক্ষকতা শুরু করেন , একই বছরেউচ্চশিক্ষার জন্য

লন্ডন গমন করেন এবং ১৯৭৪ সালে পি. এইচ . ডি ডিগ্রি লাভ করেন | ইতিমধ্যে দেশ মাতৃকার

মুক্তিসংগ্রাম শুরু হলে ১৯৭১ এর মহানস্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে তিনিযুক্তরাজ্যস্থ বাংলাদেশ ছাত্র

সংগ্রাম পরিষদের আহব্বায়ক হিসাবেগুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন |

১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মহানমুক্তিযুদ্ধে বিলাত – প্রবাসীবাংলাদেশীরা আন্তর্জাতিক প্রচারেরক্ষেত্রে ও দেশের মুক্তিযুদ্ধাদেরউৎসাহদানের কাজে এক প্রশংসনীয়ভূমিকা রাখেন , আরএই ভূমিকারঅগ্রভাগে ছিলেন বাংলার এই কৃতিসন্তান ড. খন্দকার মোশাররাফ হোসেন, প্রবাসে সকল শ্রম ও পেশার মানুষতথা ছাত্র , শ্রমিক , ব্যাবসায়ী ওচাকুরীজীবি সম্প্রদায়কে ঐক্কবদ্ধ করেপাকিস্তানি স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধেমুক্তিযুদ্ধকে বাঙালিদের যৌক্তিক দাবিরযথার্থতা

বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেন | ড. মোশাররাফ হোসেন এর সাথে ছিলেনসহ যোদ্ধা প্রথম আহব্বায়ক মোহাম্মদহোসেন মঞ্জু ও,বিচারপতি আবু সাঈদচৌধুরী সহ অনেক নেতৃবৃন্দ | মহানমুক্তিযুদ্ধে বিলাত প্রবাসী বাঙালিদেরঅসামান্য অবদানের কথা ড. মোশাররাফ হোসেনের লেখা

“ মুক্তিযুদ্ধে বিলাত প্রবাসীদের অবদান“ বইটিতে বিশদভাবে লিপিবদ্ধ আছে , যাহা মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী সংগ্রামের একঅনবদ্ধ ও অসামান্য দলিল হিসাবেভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিহাস হয়েথাকবে !

আমরা দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা বুঝিনা “ স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরেওমুক্তিযুদ্ধের একজন মহান সংগঠকেরকোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হলো না !

মুক্তি যুদ্ধে অবদানের জন্য বহুবিদেশীকে দেশে এনে পুরস্কৃত করা হয় , অনেককে দেয়া হয় মরণোত্তর পুরস্কারওকিন্তূ এই জীবন্ত কিংবদন্তির জন্য এখনোঅপেক্ষার প্রহর গুনতে হচ্ছে !কবিরভাষায় বলতে ইচ্ছে করে ‘ “দেখা হয়নাই চক্ষু মেলিয়া , ঘর হইতে দু পাফেলিয়া , একটি ধানের শীষের উপরএকটি শিশির বিন্দু “ |

তিনি শুধু রাজনীতিবিদই নন একজনসমাজ সংস্কারকও বটে , ওনার প্রতিষ্ঠিতড.মোশারফ ফাউন্ডেশন এরপরিচালনায়

জন্মভূমি কুমিল্লার দাউদকান্দিতে অনেকশিক্ষা প্রতিষ্ঠান , মাদ্রাসা ও হাসপাতালঅত্র সমাজের সর্বস্তরের মানুষের জন্যএক অনন্য ভালোবাসার উদহারণহিসাবে বেঁচে আছে , জাতীয় নেতা ড: মোশাররাফ হোসেনের জন্ম ১৯৪৬ সালেকুমিল্লার দাউদকান্দিতে , ১৯৭৯ সালেশহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানেরআহ্ববানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদীদলে যোগ দেন , তিনি ৫ম , ৬ ষষ্ঠ , ৭মও ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা ২আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচত হন| সেই সাথে ভিবিন্ন সময়কালেবাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ , জ্বালানি , স্বরাষ্ট্র এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপালন করেন , ড মোশাররাফ হোসেনএর একুশটি গবেষণামূলক প্রবন্ধ দেশেও বিদেশের বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিতহয়েছে | ভূতত্ত্ব বিষয়ে “ Structural Analysis “এর একটি মৌলিকউদ্ভাবনী তার নামে ‘ Hossain’s Method ‘আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভকরেছে | এছাড়াও তিনি বহু গ্রন্থেররচয়িতা | ব্যাক্তিগত জীবনে তিনি দুইছেলে ও এক মেয়ের জনক , বড় ছেলেখন্দকার মাহবুব হোসেন পেশায়ব্যাবসায়ী এবং ছোট ছেলে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটিরসদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন |আজ এইমহান স্বাধীনতার মাসে জাতির এইবরেণ্য সন্তানকে আমাদের সকলের পক্ষথেকে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছি |