খরচই উঠছে না পলাশবাড়ীর আলু চাষিদের

599
gb

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা : গত বছরের মতো এবছরও আলুর ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না পলাশবাড়ীর আলু চাষিরা। গতবছরের হাজার হাজার বস্তা আলু এখনো বিক্রির অপেক্ষায় পড়ে আছে হিমাগারে। এখন আলুর ভরা মৌসুমে বাজারে দাম কমে গেছে। আলু চাষিরা বলছেন, লাভ তো দূরের কথা বর্তমানে শতক প্রতি ৪শ থেকে সাড়ে ৪শ টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে তাদের। এ অবস্থায় আলু রপ্তানিতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কৃষকরা।
পলাশবাড়ী কৃষি কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম জানায়, চলতি বছর পলাশবাড়ীতে আলু চাষ হয়েছে ৫০০শ হেক্টর জমিতে। পলাশবাড়ীতে আলুর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪৫০শ হেক্টর জমিতে । এবারের উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
আলু চাষিরা জানান, আলু চাষে প্রতি ৩৩ শতক জমিতে বীজ, সার, কিটনাশক, শ্রমিকের মজুরি, সেচসহ উৎপাদন খরচ হয় প্রায় ৩০ হাজার টাকা। এতে আলু উৎপাদন হয় প্রায় ৩৩ বস্তা। বর্তমানে প্রতি একশ কেজির আলুর বস্তা জমিতে বিক্রি হচ্ছে ৬ থেকে সর্বোচ্চ সাতশ টাকায়। এ হিসাবে কৃষক প্রতি ৩৩ শতকে লোকসান গুণছেন ১১হাজার টাকার বেশি। এ আলু হিমাগারে রাখতে হলে তাদের আরও বস্তাপ্রতি গুণতে হয় ৩শ টাকা করে।
কিন্তু হিমাগারে রেখে বছর শেষে আলুর দাম থাকে না। এতে তাদের লোকসানের পরিমান আরও বেড়ে যায়।পলাশবাড়ীরর সদরের নুরপুর এলাকার আলু চাষি বেলাল হোসেন বলেন, গত বছর আলু চাষ করে তার লোকসান হযেছে অনেক টাকার বেশি।
গত বছরের লোকসান পুষিয়ে নিতে এবারও তিনি বেশি জমিতে আলু চাষ করেছেন। কিন্তু বাজারে এবারও আলুর দাম না থাকায় লাভ তো দূরের কথা খরচ উঠবে কিনা এমন আশঙ্কায় আছেন তিনি।
একই কথা জানালেন গোয়ালপাড়া এলাকার আলু চাষি ফাইফুল। তিনি বলেন, জমিতে লেট ব্রাইট রোগ দেখা দেয়ায় ছত্রাক নাশক ওষুধসহ অন্যান্য ওষুধ দেয়ায় এবার উৎপাদন খরচ বেশি হয়েছে। গত বছরের আলু এখনো অবিক্রিত পড়ে আছে। এর উপর বাজারে নেই দাম।
জানতে চাইলে পলাশবাড়ী কৃষি কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম বলেন, এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় আলুর ফলন ভালো হয়েছে। এদিকে, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ পলাশবাড়ীতে উৎপাদিত আলুতে ব্রাইটন রট ও গোল্ডেন নিমাটট নামে রোগের অজুহাতে আলু কিনতে অনীহা জানিয়ে আসছে। তবে এ রোগের কোন অস্তিত্ব নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের কৃষি বিজ্ঞানীরা।