প্রয়াত হলেন “ব্ল্যাক হোল থিয়োরি”র জনক, বিজ্ঞানের কসমোলজি বিষয়ের উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক, বিজ্ঞানী ডঃ স্টিফেন হকিং

439
gb

মধুলীনা কলকাতা থেকে ||

প্রয়াত হলেন “ব্ল্যাক হোল থিয়োরি”র জনক, বিজ্ঞানের কসমোলজি বিষয়ের উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক, বিজ্ঞানী ডঃ স্টিফেন হকিং। পরিবার সূত্রের তাঁর এই প্রয়াণের খবর জানানো হয়েছে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।

…১৯৪২ সালের ৮ই জানুয়ারি স্টিভেন হকিংয়ের জন্ম, অক্সফোর্ডে। হকিংয়ের বাবা ড. ফ্রাঙ্ক হকিং ছিলেন একজন জীববিজ্ঞান গবেষক ও মা ইসোবেল হকিং ছিলেন একজন রাজনৈতিক কর্মী। হকিংয়ের বাবার ইচ্ছে ছিল হকিং যেন তাঁর মতো ডাক্তার হন। কিন্তু হকিং গণিত পড়ার জন্য অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সিটি কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু যেহেতু সেখানে গণিতের কোর্স পড়ানো হতো না, সেজন্য হকিং পদার্থবিজ্ঞান বিষয় নিয়ে পড়া শুরু করেন। সে সময়ে তাঁর আগ্রহের বিষয় ছিল তাপগতিবিদ্যা, আপেক্ষিকতা এবং কোয়ান্টাম বলবিদ্যা।

কেমব্রিজে আসার পরপরই হকিং মোটর নিউরন ডিজিজে আক্রান্ত হন। এ কারণে তাঁর শরীরের প্রায় সবটাই ধীরে ধীরে অসাড় হয়ে আসে। বাকি জীবনটা হুইল চেয়ারে অসার হয়ে বসেই সারা পৃথিবীকে জ্ঞানের আলো দান করে গেলেন। শুধু চিন্তাকে সম্বল করে এভাবেও যে বিশ্বের বিজ্ঞানী মহলের শ্রেষ্ঠ আসনটি লাভ করা যায় তাই চোখে আঙুল দিয়ে বিশ্ববাসীকে দেখিয়েছেন তিনি।

…পদার্থবিদ্যা এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানে অতুলনীয় অবদানের সঙ্গে সঙ্গে ভিনগ্রহে যে মানুষের মতোই উন্নত প্রাণের অস্তিত্ব আছে সে কথাও বিজ্ঞানের আলোকে জানিয়েছিলেন বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং। এমনকি ভিনগ্রহীদের যে সভ্যতা তা আমাদের চেয়ে উন্নত তাদের দিক থেকে বিপদ আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তাই ভিনগ্রহীদের সঙ্গে নাসার যোগাযোগের চেষ্টা করে অযথা আগ বাড়িয়ে বিপদ ডেকে না আনারই কথা জানিয়েছিলেন এই ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী।

…মানুষের চেয়ে উন্নত কোনও সভ্যতার সঙ্গে যোগাযোগকে তিনি কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। ইউরোপীয়দের সংস্পর্শ আমেরিকার আদিবাসীদের জন্য সুখকর ছিল না। হকিং জানিয়েছিলেন, একদিন আমরা হয়ত এরকম কোন গ্রহ থেকে সিগনাল পেতে পারি। তবে ওই সিগনালের জবাব দেওয়ার বিষয়টি ভালো করে ভেবে দেখতে হবে।’ এমনও তো হতে পারে ব্যাকটেরিয়াদেরকে আমরা যে দৃষ্টিতে দেখি এলিয়েনরাও আমাদের সেই দৃষ্টিতেই দেখতে পারে, জানিয়েছিলেন হকিং।

 

.আধুনিক বিজ্ঞানের উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক পতনে শোকস্তব্ধ বিশ্বের সকল বিজ্ঞানী ও শিক্ষিত মানুষ। ইচ্ছাশক্তির আরাধনার মাধ্যমে একজন মানুষের পক্ষে যে জীবনের সকল বাধাকে হেলায় অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব, তা বিশ্ববাসীকে তিনি শিখিয়েছেন। এই মহান মানুষটিকে জানাই প্রণাম এবং তাঁর আত্মার প্রতি রইলো সর্বোচ্চ সম্মান, তার আত্মা চিরশান্তি লাভ করুক।