যা করেছি ঠিক করেছি

1,175
gb

জিবিনিউজ ডেস্ক //

সম্প্রতি মালয়ালি একটি পাক্ষিক পত্রিকার প্রচ্ছদের ছবিতে কেরালার অভিনেত্রী-মডেল জিলু জোসেফকে দেখা গেছে শিশুকে স্তন্যপান করাতে। পত্রিকাটির কর্তৃপক্ষের দাবি, নারীদের প্রকাশ্যে স্তন্যপান করানোর স্বাধীনতার জন্যই এমন উদ্যোগ।

তবে ওই ছবি প্রকাশের পর নারীদের অশোভনভাবে দেখানোর অভিযোগে মামলা হয়েছে। স্তন্যপান করানোর ভান করার অভিযোগও দায়ের হয়েছে শিশু অধিকার রক্ষা কমিশনে। আর সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেতো রীতিমতো সমালোচনার ঝড় বয়ে গেছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে শিশুর ছবি ব্যবহার নিয়ে।

তবে এসবে দমে যাননি জিলু জোসেফ। তিনি মনে করেন, যা করেছেন, ঠিকই করেছেন এবং এ কাজের জন্য তিনি গর্বিত। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

জিলুর পাল্টা প্রশ্ন, শিশুদের যখন সাবান, তেল, শ্যাম্পুর বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা হয়, তখন তো এতো প্রশ্ন ওঠে না। এখানে ছবির মাধ্যমে সামাজিক বার্তা দিতে চাওয়া হয়েছে। যাতায়াতের পথে অনেক সময় দেখেছি, বাচ্চা কাঁদছে ক্ষুধায়। কিন্তু মা ভিড়ের মধ্যে বসে আছেন বলে বাচ্চাকে স্তন্যপান করাচ্ছেন না। আমি নিজে মা না হয়েও এমন ক্যাম্পেইনের অংশীদার হয়ে গর্বিত।

ইউনিসেফ ইন্ডিয়ার ট্যুইটার হ্যান্ডল থেকে জিলুর ওই ছবি শেয়ার করে স্তন্যপানে উৎসাহ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। অনেকে পুরুষতান্ত্রিক সংস্কার ভেঙে মাতৃত্বের এই উদযাপনকে ইতিবাচক মনে করছেন ও সাধুবাদ জানিয়েছেন। আর জিলু বলেছেন, এটা পুরুষতন্ত্র বা সংস্কৃতি কোনো কিছুর বিরুদ্ধেই কোনো লড়াই নয়। এটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। সেই স্বাভাবিকতা রক্ষার বার্তাই দেওয়া হয়েছে।

তবে স্তন্যপানের মতো ‘স্বাভাবিক’ ঘটনা নিয়ে ফটোশুটকেই অনেকে গিমিক বলেছেন। আঁচলে না ঢেকে শিশুটিকে স্তন্যপান করানোর ছবি দেওয়ায় শালীনতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এক্ষেত্রে জিলুর বক্তব্য, ছবিতে শিশুটি আমার কোলে যেভাবে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছে, তা ভালবাসার প্রতীক। অশালীনতা আসলে থাকে দৃষ্টিতে। কেউ অশালীন দৃষ্টিতে কিছু দেখলে সবকিছুর মধ্যেই অশালীনতা খুঁজে পেতে পারেন। এই কারণে শারীরিক নির্যাতনের পরে যে নির্যাতন করলো, তার থেকে বেশি লজ্জিত হতে হয় নির্যাতিতাকে। তাই বদল দরকার দৃষ্টিভঙ্গির, শরীর নিয়ে সংস্কারের।

তবে জিলুর বদলে কোনো মায়ের সন্তানকে বুকের দুধ পান করানোর আসল ছবি দিলে অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য হত কিনা- এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পত্রিকাটির সম্পাদক মুন্সি জোসেফ জানান, তারা অনেক মা’কে এ ফটোশুটের জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে কেউ তাতে সাড়া দেননি। আর জিলু সঙ্গে সঙ্গেই রাজি হয়ে যান। এই ফটোশুটের জন্য পারিশ্রমিকও নেননি তিনি।