নোয়াখালীর হাতিয়ায় ধানের শীষ প্রতীকে ভোট না দেওয়ার কারণে তিন সন্তানের জননীকে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম।
আজ ১৫ ফেব্রুয়ারী (রবিবার) লেবার পার্টির দফতর সম্পাদক মোঃ মিরাজ খান সাক্ষরিত এক বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, নোয়াখালীর হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে একজন নারীকে ঘরে ঢুকে ধর্ষণ ও তার পরিবারের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং সভ্য সমাজের জন্য লজ্জাজনক। এ ধরনের বর্বরতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
লেবার পার্টির নেতৃদ্বয় বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিরোধীদলীয় সমর্থকদের ওপর নৃশংস ও বর্বরোচিত হামলা, বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, দখল এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে একটি ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মুন্সিগঞ্জ, বাগেরহাট ও ময়মনসিংহে হত্যাকাণ্ডসহ বহু মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
নেতৃদ্বয় আরও বলেন, একদিকে রাজনৈতিক নেতৃত্ব শান্তির কথা বললেও তৃণমূল পর্যায়ে নারী নির্যাতন ও সহিংসতা চালিয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে দেশে নতুন করে সন্ত্রাস ও প্রতিহিংসার রাজনীতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। লেবার পার্টি নারী ও মানবাধিকারের প্রশ্নে আপোষহীন। আমরা হাতিয়ার এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে ভোলার চরফ্যাশনে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগসহ দেশব্যাপী সকল সহিংস ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
নেতৃদ্বয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশব্যাপী চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে জনগণ একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত, সহিংসতামুক্ত ও শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র প্রত্যাশা করে। নারী নির্যাতন ও রাজনৈতিক সন্ত্রাস দিয়ে কোনোভাবেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন