মশার  উপদ্রবে অতিষ্ঠ রাজধানীবাসী 

228
gb

জিবিনিউজ24 ||

সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও জনস্বার্থ রক্ষা জাতীয় কমিটির আহবায়ক আমিনুল ইসলাম বুলু  গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন- মশার  উপদ্রবে অতিষ্ঠ রাজধানীবাসী। বাসাবাড়িদোকানপাটস্কুল-কলেজঅফিস-আদালত সর্বত্রই মশার উপদ্রব। বছরে এ খাতে অর্ধশত কোটি টাকার বেশি খরচ হলেও মশা কমছে না। আর বর্তমানের ভয়াবহ এ পরিস্থিতিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই সিটি কর্পোরেশনেরও কোনো খেয়াল নেই। এ কারণে ক্ষুব্ধ নগরবাসী। যে কোনো সময় তারা রাজপথে নামতে পারেন।

 কয়েল জ্বালিয়েওষুধ ছিটিয়েমশারি টাঙিয়ে মশার উপদ্রব থেকে নিস্তার পাওয়ার চেষ্টা করছেন নগরীর বাসিন্দারা। কিন্তু তাতেও কাজ হচ্ছে না। দিনে বাচ্চাদের মশারি টাঙিয়ে ঘুম পাড়াতে হয়।  কিছুদিন ধরে  এলাকায় মশার উপদ্রব এত বেড়েছে যেবাসায় থাকাই দুষ্কর। রুমের ভেতর কয়েল বা স্প্রে ব্যবহার করে মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা পাওয়া গেলেও খাওয়া বা গোসলের সময় মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হতে হচ্ছে। স্বাভাবিক সময় মশার কয়েল বা স্প্রে করলে মশা নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু মশার প্রজনন মৌসুমে কয়েল জ্বালিয়ে বা স্প্রে করেও মশার উপদ্রব থেকে নিস্তার পাওয়া যাচ্ছে না। প্রায় এক মাস ধরে আমরা মশার উপদ্রবের মধ্যে আছি। কিন্তু সিটি কর্পোরেশনের কোনো কার্যক্রম লক্ষ্য করছি না। খাল ও ডোবা-নালাগুলো পরিষ্কার করে দিলে মশার উপদ্রব থেকে কিছুটা হলেও নিস্তার পেতাম।

জানা যায়কচুরিপানা পরিষ্কার ও মশার ওষুধ কেনার জন্য প্রতিবছরে দুই সিটি কর্পোরেশনকে ৫০-৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু দুই সংস্থা নামকাওয়াস্তে কিছু কাজ করে বাকি টাকা কৌশলে লুটপাট করছে। সঠিকভাবে ডোবাজলাধার পরিষ্কার করা হচ্ছে না। মানহীন মশার ওষুধ কেনার কারণে ওই ওষুধে কাজ হচ্ছে না। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মশকনিধন কর্মীরা মানহীন ওই ওষুধও নিয়ম মেনে ছিটায় না। বাইরে এসব ওষুধ বিক্রি করে দেয়।

বুলু আরো বলেন -ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এবং ঢাকা মশক নিবারণী দফতর মিলিয়ে রাজধানীতে মশা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে প্রায় এক হাজার মশক শ্রমিক। নিয়ম অনুযায়ী এসব শ্রমিক সকালে লার্ভা নিধনে ড্রেনে বা পানি জমে এমন জায়গায় ওষুধ ছিটাবে এবং বিকালে উড়ন্ত মশা মারতে ফগার মেশিনের মাধ্যমে ওষুধ ছিটাবে। প্রত্যেক এলাকায় প্রতিদিন সকাল-বিকাল এ কার্যক্রম করার কথা থাকলেও কালেভদ্রে চোখে পড়ে মশকনিধন কর্মীদের চেহারা।

মন্ত্রিপাড়াসহ কিছু ভিআইপি এলাকা এবং কিছু ভিআইপি লোকের বাসার আশপাশের পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কার্যক্রম সঠিক নিয়মে পরিচালিত হয়। আর অন্যান্য এলাকায় মশকনিধন শ্রমিকদের দেখাই মিলে না।