ফকিরহাটে সরকারী নীতিমালা অমান্য করে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিক্রিয় হচ্ছে পশুর মাংশ

237
gb

 

পি কে অলোক,ফকিরহাট
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার সর্বত্র সরকারী নিয়ম নীতিমালা উপেক্ষা করে চরম অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে
বিক্রিয় করা হচ্ছে পশুর মাংশ। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের অবজ্ঞা অবহেলা ও গাফিলতির কারণে এগুলি বন্ধ হচ্ছেনা।
বিষয়টি দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করা জরুরী হয়ে পড়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য
করেছেন। জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এক শ্রেণীর কষাই রাতে অন্ধকারে গরু
মহিষ ও ছাগল জবাই করে বিক্রয় করে আসছেন দীর্ঘকাল ধরে। এই সমস্ত কষাইদের নাম মাত্র স্যেনেটারী বিভাগের
একটি লাইসেন্স থাকলেও অধিকাংশ কষাই এর লাইসেন্স নাই। তার পরেও তারা চুটিয়ে চরম অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা
পরিবেশে বিক্রিয় করছেন গরু মহিষ ও ছাগলের মাংশ। সরেজমিনে অনুসন্ধ্যানে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার টাউন
নওয়াপাড়া বাজার, কাটাখালী বাসস্ট্যান্ড, লখপুর বাসস্ট্যান্ড বাজার এবং বেতাগা বাজার সহ বিভিন্ন স্থানে
অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে বিক্রিয় করছে গরুর মাংশ। নিয়মানুযায়ী স্বঃস্বঃ স্থানের বাজার কমিটির কর্মকর্তাদের
আগের দিন যে গরু মহিষ বা ছাগল জবাই দেওয়া হবে তা দেখাতে হবে। তার পর ডাক্তারী পরিক্ষা নিরিক্ষা শেষে, স্থানীয়
একজন মসজিদের পেশ ইমাম বা মোয়াজ্জেম-কে ডেকে সেটি জবাই করতে হবে। কিন্তু কষাইরা তার তোয়াক্কা না করে
রাতের অন্ধকারে কোন একটি বিলের পার্শ্বে অতি গোপানে কাউকে না জানিয়ে সেই পশুটি নিজেরাই জবাই করে
হাট বাজার বা গুরুত্বপূর্ণ বাসস্ট্যান্ডে বিক্রয় করছে। কেউ জানতেই পারেন না পশুটি কোথায় জবাই করা হয়েছে, বা
সেটি রোগাক্রান্ত ছিল কি না। তার পর বিক্রয় না হওয়া মাংশ কষাইদের ফ্রিজে রেখে পূনঃরায় ৩/৪দিন বসে বিক্রয়
করা হচ্ছে। হাতে গোনা কয়েকজন কষাই ফ্রিজে রাখা মহিষের মাংশ গরুর মাংশ বলে বিক্রয় করে ক্রেতাদের সাথে
প্রতারনা করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা গ্রহন করা হচ্ছেনা। দিন দুপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে ফ্রিজে রাখা পশুর
মাংশ বিক্রয় করলেও উপজেলা স্যেনেটারী বিভাগ রয়েছেন নিশ্চুপ। নাম মাত্র কিছু নিয়ম নীতিমালার কখা বলে তারা
দায়সারা কাজ করছেন। যা ক্রেতাদের সাথে চরম প্রতারনার স্বামিল মাত্র। এব্যাপারে উপজেলা স্যেনেটারী ইন্সেপেক্টর
দেবরাজ মিত্রের সাথে আলাপ করা হলে তিনি অবজ্ঞা ও অবহেলার কথা অস্বিকার করে বলেন, তিনি প্রতিটি বাজারে পশু
জবাই করার পূর্বে বাজার কমিটিকে দেখিয়ে জবাই করার নিদ্দের্শ প্রদান করেছেন। তার পরেও যদি কেউ তা অমান্য
করেন, তাহলে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতা নিয়ে ভ্রম্যমান আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ
গ্রহন করবেন বলেও তিনি জানান।