টানা ১১ দিন না ঘুমিয়ে বিশ্বরেকর্ড করেছিলেন মার্কিন স্কুল ছাত্র

266
gb

জিবিনিউজ ডেস্ক //

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান ডিয়েগোর সতের বছরের স্কুল ছাত্র র‍্যান্ডি গার্ডনার একটানা এগারো দিন না ঘুমানোর বিশ্ব রেকর্ড করেছিলেন। ঘটনাটি ১৯৬৪ সালের ৮ই জানুয়ারির। স্কুলের বিজ্ঞান মেলায় কী করা যায়, এমন এক ভাবনা থেকেই নাকি এই উদ্ভট পরীক্ষাতে মেতেছিলেন র‌্যান্ডির বন্ধুরা।

জানা গেছে, র‍্যান্ডি এবং তার বন্ধুরা মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তারা মানুষের ঘুম নিয়ে কোনো একটা পরীক্ষা চালাবে। সেই বন্ধুদের একজন ব্রুস ম্যাকালিস্টার। তিনি জানান, ‘আমরা ছিলাম খুবই সৃষ্টিশীল কিছু তরুণ। আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। বিজ্ঞান মেলায় দেখানোর জন্য আমরা কিছু একটা করার কথা ভাবছিলাম। আমরা প্রথমত দেখতে চেয়েছিলাম মানুষ যদি না ঘুমায়, তাহলে এর ফলে তার কোনো আধিভৌতিক ক্ষমতা তৈরি হয় কী না। আমরা বুঝতে পারলাম এটা করা কঠিন। তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম, মানুষকে যদি ঘুম থেকে বঞ্চিত করা হয়, তাহলে সেটার কি প্রভাব পড়ে তার সজ্ঞান আচরণে কিংবা বাস্কেটবল খেলায় কিংবা অন্য যে কোনো কাজে। সেটাই আমরা দেখার সিদ্ধান্ত নিলাম।’
ব্রুস এবং তার বন্ধু র‍্যান্ডি গার্ডনার সিদ্ধান্ত নিলেন, তারা একটানা জেগে থাকার যে বিশ্ব রেকর্ড, সেটা ভাঙ্গবেন। তখন এক্ষেত্রে বিশ্বরেকর্ডটি ছিল হনলুলুর এক ডিস্ক জকি বা ডিজে’র। একটানা ২৬০ ঘণ্টা অর্থাৎ এগারো দিনের একটু কম সময় জেগে ছিলেন তিনি। র‍্যান্ডি গার্ডনার এবং তার বন্ধু ব্রুস ম্যাকালিস্টার এবং অন্যরা মিলে ঘুম নিয়ে নিয়ে কাজ শুরু করে দিলেন। তাদের সঙ্গে যোগ দিলেন উইলিয়াম ডিমেন্ট যিনি বর্তমানে ক্যালিফোর্ণিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক। বিশ্বে ঘুম নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে তাকে পথিকৃৎ বলে মনে করা হয়।
ঘুম নিয়ে এই পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছিল সান ডিয়েগো ব্রুসের বাবা-মার বাড়িতে। কষ্ট করে হলেও তারা এই পরীক্ষা চালিয়ে গেলেন। ১১ দিনের এই দীর্ঘ পরীক্ষা শেষে র‍্যান্ডি তার বাবা-মার বাড়ির বাইরে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। ‘সেখানে বিরাট একটা দল জড়ো হয়েছিল। তারা র‍্যান্ডিকে অনেক প্রশ্ন জিজ্ঞেস করছিল। কিভাবে র‍্যান্ডি এই কাজ করেছে। কিরকম সাহায্য পেয়েছে। তারপর একজন প্রশ্ন করলো, এই পুরো পরীক্ষার অর্থটা কী দাঁড়ালো। র‍্যান্ডি জবাব দিয়েছিল, এর মাধ্যমে প্রমাণ হলো, মানুষের শরীরের চাইতে মন অনেক বেশি শক্তিশালী।’ র‍্যান্ডি একদম না ঘুমিয়ে একটানা জেগে ছিলেন ২৬৪ ঘণ্টা, অর্থাৎ প্রায় এগারো দিন।’
এরপর র‍্যান্ডি একটানা ১৪ ঘণ্টা ঘুমিয়েছিলেন। তাকে ঘুম থেকে উঠতে হয়েছিল, কারণ তার বাথরুম পেয়েছিল। যে ধরণের ঘুমকে র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট বা ‘রেম’ বলা হয়, অর্থাৎ ঘুমের যে পর্যায়টাতে আমরা স্বপ্ন দেখি বলে তখনো মনে করা হতো, তা দেখা গেল র‍্যান্ডির বেলায় তা বেশ বেড়ে গেছে। তবে পরের রাত থেকে তা কমতে থাকলো। এক পর্যায়ে এই ‘রেম’ ঘুম স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে আসলো