নতুন আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারীর জানা-অজানা তথ্য

479
gb

মো: নাসির নিউ জার্সি আমেরিকা থেকে ||

পুলিশের নতুন মহাপরিদর্শক-আইজিপি পদে নিয়োগ পেয়েছেন বিশেষ শাখার (এসবি) অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। গত বৃহস্পতিবার সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ কথা জানানো হয়েছে। অনেকেরই মনে প্রশ্ন জাগতে পারে বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ পদে নিয়োগ পাওয়া কে এই জাবেদ পাটোয়ারী। পুলিশের প্রধান যেই হোন তাকে নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহটা একটু বেশিই থাকে।

 জাবেদ পাটোয়ারীর বিস্তারিত পরিচিতি।

চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে জাবেদ পাটোয়ারীরর জন্ম। বাবুরহাট হাই স্কুল থেকে কৃতিত্বের সাথে পাস করেন এসএসসি। উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতেগিয়ে ভর্তি হন চাঁদপুর কলেজে। নিজ জেলায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ বিষয়ে স্নাতক সম্মান ও প্রথম শ্রেণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

এরপর তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগ থেকে পিএইচডি করেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল Combating Terrorism in Bangladesh; Challenge and Prospects.

১৯৮৪ সালে ষষ্ঠ বিসিএস এর মাধ্যমে পুলিশ ক্যাডারে মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। আইজিপি হিসেবে এ কে এম শহীদুল হকের স্থলাভিষিক্ত হতে যাওয়া ড. জাবেদ স্পেশাল ব্রাঞ্চের অ্যাডিশনাল আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। নতুন আইজিপি হিসেবে আগে থেকেই আলোচনায় ছিল তার নাম।

জাবেদ পাটোয়ারী পুলিশ বাহিনীতে একজন মেধাবী ও পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। এসবির প্রধান হিসেবে বর্তমান পদে একটানা ৯ বছর কর্মরত আছেন। এর আগে ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৯ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত তিনি এসএস সিটির দায়িত্ব পালন করেন।

এসবির প্রধান হিসেবে বর্তমান পদে একটানা ৯ বছর কর্মরত আছেন। ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত চাকরির মেয়াদ আছে জাবেদ পাটওয়ারীর। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি নেওয়ার পরজাবেদ পাটোয়ারী সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন ১৯৮৬ সালে।

২০১৩ সালে সচিব পদমর্যাদায় গ্রেড-১ পদে পদোন্নতি পান পুলিশের বিশেষশাখার (এসবি) প্রধান জাবেদ পাটোয়ারী। পুলিশ প্রশাসনে স্বচ্ছ ইমেজের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি রয়েছে তার। জাবেদ পাটোয়ারীর সহধর্মিণী মিসেস হাবিবা হোসেন।

ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর সদরে। বঙ্গবন্ধুর জেলজীবনের ওপর লেখা গ্রন্থ ‘কারাগারে রোজনামচার’ বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত এসবির রেকর্ড রুমে বঙ্গবন্ধুর বিষয়ে ৬৬ হাজার ক্লাসিফাইড গোয়েন্দা তথ্য সংরক্ষিত আছে। জাবেদ পাটোয়ারী এসবির শীর্ষ পদে আসার পর গুরুত্বপূর্ণ এই দলিলাদি বিশেষভাবে সংরক্ষণে বিশেষ উদ্যোগ নেন। পুলিশের নতুন আইজি দেশের গণ্ডির বাইরেও অনেক ডিগ্রি লাভ করেছেন।

তিনি যুক্তরাজ্যের University of Leicester থেকে ‘Criminal Justice and Police Management’ বিষয়ে পোস্ট গ্রাজুয়েশন সনদপত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের University of Verginia থেকে ‘Criminal Justice Education’ বিষয়ে সনদ অর্জন করেন।

তিনি যুক্তরাজ্যের Police staff college, Bramshill যুক্তরাষ্ট্রের FBI National Academy Verginia থেকে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। সাফল্যের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের Harvard University থেকে ‘US-South Asia Leader Engagement Program’ সম্পন্ন করেন।

ড. জাবেদ পাটোয়ারী বত্রিশ বছরের গৌরবোজ্জল ক্যারিয়ারে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে সততা, দক্ষতা, নিষ্ঠা পেশাদারিত্ব ও সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন। তিনি অতিরিক্ত আইজি (গ্রেড-১) স্পেশাল ব্রাঞ্চ, অতিরিক্ত আইজি সিআইডি, অতিরিক্ত আইজি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, পুলিশ কমিশনার রাজশাহী, পুলিশ কমিশনার খুলনা, ডিআইজি সিআইডি।

কমান্ড্যান্ট পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার নোয়াখালী, কমান্ড্যান্ট পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার রংপুর, পরিচালক পুলিশ স্টাফ কলেজ, এসএস সিটি এসবি-ঢাকা, এডিসি ডিএমপি, স্টাফ অফিসার টু আইজিপি, অ্যাডিশনাল এসপি সিলেট, রাষ্ট্রপতির লিয়াজো অফিসার এবং নেত্রকোণা জেলার এএসপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ড. জাবেদ পাটোয়ারী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কসভো, সিয়েরালিওন ও ক্রোয়েশিয়াতে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে ক্লাস নিয়ে থাকেন। এ ছাড়া তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে Victomology and Restorative Justice ও টাঙ্গাইল মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে Crimonology and Police Science বিভাগের একজন ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি।

কর্মজীবনে তিনি বিপিএম এবং আইজিপি পদক পেয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে এক কন্যা ও দুই পুত্র সন্তানের জনক। গত ২৫ জানুয়ারি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীকে নতুন আইজিপি করে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আগামী ৩১ জানুয়ারি থেকে এ নিয়োগ কার্যকর হবে।