সিলেটে অবাধে চলছে পলিথিনের ব্যবহার

240

জিবিনিউজ24 ডেস্ক:সিলেটের অভিজাত দোকান থেকে শুরু করে সর্বত্রই অবাধে ব্যবহার হচ্ছে পলিথিন। পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে আইন থাকলেও সেটিও আমলে নিচ্ছেন না বিক্রেতারা। ফলে আগের চেয়ে বেড়েছে পলিথিনের ব্যবহার। মাঝমধ্যে দু-একটি অভিযান হলেও তা একবারে নগণ্য।

কয়েকদিন ধরে সিলেটে আবার বেড়েছে পলিথিনের ব্যবহার। নগরী থেকে শুরু করে গ্রামের টং দোকানে মিলছে পলিথিন। এক কেজি আলু কিনলেই দেওয়া হচ্ছে ৫০ পয়সা দামের একটি পলিথিন।

সিলেটের নিষিদ্ধ পলিথিনের মূল উৎস হচ্ছে লালদীঘির পাড় হকার্স মার্কেট, চালিবন্দর ও কালীঘাট। একটি কালোবাজারি চক্র ঢাকা থেকে পলিথিন ব্যাগের চালান সিলেটে আনে। প্রথমে সিলেট শহরের বাইরে দক্ষিণ সুরমার ফরিদপুরের রাস্তার মুখের একটি সেন্টার ও বদিকোনার সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক লাগোয়া মেঠোপথের পাশের এক বাড়িতে মজুদ করা হয়। আবার কখনও এই পলিথিনের চালান টুকেরবাজার এলাকার তেমুখী হয়ে নতুন সেতু দিয়ে নগরীতে প্রবেশ করে।

সরকার ২০০২ সালে পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয়, মজুদ ও বিতরণ নিষিদ্ধ করে। নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ার এক যুগ পেরিয়ে গেলেও এর ব্যবহার বন্ধ হয়নি। নতুন করে নানা কৌশলে সিলেটের বাজারে পলিথিন ঠাঁই করে নিয়েছে।

পরিবেশকর্মীদের মতে, পলিথিন আমাদের পরিবেশের সর্বনাশ করছে। এখনই যদি এর ব্যবহার বন্ধ করা না যায়, তাহলে আগামী ৫ বছরে সিলেটের ফসলের মাঠ চলে যাবে পলিথিনের দখলে।

সিলেটের পরিবেশবাদী ও মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশের চাওয়া (বাচাও) সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেন বলেন, পলিথিনের স্তর নদীর তলদেশের পলি আটকে শুধু নদীর নাব্যই নষ্ট করছে না, বরং মাছ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে পানিতে স্বাভাবিক অক্সিজেনের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস করছে। পলিথিন ব্যাগ জমির উৎপাদন ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। এ ছাড়া পয়ঃনিস্কাশনের ৮০ ভাগ ড্রেন পলিথিন ব্যাগ দ্বারা জমাট বেঁধে আছে। তিনি পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে সবার মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির আহ্বান জানান।

পরিবেশকর্মী সেভ দ্য হেরিটেজ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের প্রধান নির্বাহী আবদুল হাই আল হাদী জানান, ২০০২ সালে নিষিদ্ধ হওয়ার পর জোরালো অভিযান এবং আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে পলিথিনের ব্যবহার কিছুটা হ্রাস পেয়েছিল। জোরালো অভিযান না থাকায় পলিথিন উৎপাদন, বিক্রয় ও ব্যবহার বন্ধ করা যাচ্ছে না। যথাযথ নজরদারি না থাকায় আবার আগের মতোই পলিথিন ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। সিলেট নগরী থেকে শুরু করে গ্রামের বাজারে পলিথিনে ছেয়ে গেছে বলেও তিনি জানান।

এ ব্যাপারে সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আলতাব হোসেন জানান, তারা অভিযোগ পেলেই অভিযান চালান। প্রায়ই অভিযান চালানো হচ্ছে।