মৌলভীবাজারে সাড়ে চার কোটি টাকা জলে!

357
gb

জিবিনিউজ24 ডেস্ক:প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মৌলভীবাজার পৌর বাস টার্মিনালটি উদ্বোধনের আট বছর পার হয়েছে। দীর্ঘ এ সময়ে সেখানে যায়নি না কোনো যানবাহন। পৌরসভার উদ্যোগে নির্মিত এ টার্মিনালটি কাজে না আসায় নির্মাণ ব্যয়ের পুরোটাই জলে গেছে বলে মনে করছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ আছে, শহর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে টার্মিনালটির অবস্থান হওয়ায় সেখানে যেতে চান না যাত্রী বা দূরপাল্লার কোনো যান।

জানা যায়, বিগত চার দলীয় জোট সরকারের সময় মৌলভীবাজার-সিলেট মহাসড়কের পাশে জুগিডর এলাকায় এ টার্মিনালটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। জায়গাটি শহরের বাইরে হওয়ায় শুরু থেকেই পরিবহন সংশ্লিষ্টরা সেখানে যেতে অনীহা প্রকাশ করেন। স্থানীয়রা ছাড়া অন্য এলাকার যাত্রীও সেখানে যেতে চান না। তাছাড়া সন্ধ্যার পরই টার্মিনাল এলাকা মাদকসেবী, চোর, ছিনতাইকারীসহ অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়।

পৌরসভা সূত্র জানায়, এই বাস টার্মিনাল নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা। কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ২০০৯ সালের মে মাসে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ফয়জুল করিম ময়ূন।  অভিযোগ আছে, পৌর বাস টার্মিনালটি ব্যবহার না হওয়ায় শহরে মূল সড়কের উপর গড়ে উঠে বাসস্ট্যান্ড।

এ কারণে শহরে প্রতিনিয়ত দেখা দেয় যানজট। এতে বাধাগ্রস্ত হয় পথচারীদের চলাচল। জেলা বাসমালিক সমিতির অভিযোগ, টার্মিনাল নির্মাণের স্থান নির্বাচনের আগে বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতি এবং পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত ছিল। তাদের দাবি, শহরের দক্ষিণ প্রান্তে সড়ক ভবনের পাশে টার্মিনাল নির্মাণ করা। তারা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে নতুন আরেকটি টার্মিনাল নির্মাণের দাবি জানিয়ে আবেদন করেছেন।

মৌলভীবাজার সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রশীদ বলেন, ‘টার্মিনাল এমন এলাকায় পড়েছে যেখানে দূরপাল্লার কোনো গাড়ি যায় না। চালকেরাও যেতে চান না। এই টার্মিনালে নেমে শহরে যেতে ২০-৩০ টাকা লাগে’।

পৌর মেয়র ফজলুর রহমান বলেন, ‘আগের মেয়রের আমলে টার্মিনালটি নির্মাণ করা হয়েছিল। নতুন করে কোনো টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা আমাদের নেই। কারণ একটি টার্মিনাল নির্মাণ করতে অনেক টাকা প্রয়োজন’।