এক্সিম ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়াকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা

51
gb
6

জিবি নিউজ ডেস্ক ।।

সিকদার গ্রুপের একটি প্রজেক্টে ঋণ দিতে রাজি না হওয়ায় এক্সিম ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া ও অতিরিক্ত এমডি মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেনকে গুলি করে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে গুলশান থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন- সিকদার গ্রুপের এমডি রন হক সিকদার ও তার ভাই দীপু হক সিকদার। তারা সিকদার গ্রুপের কর্ণধার জয়নাল সিকদারের ছেলে। সম্প্রতি এক্সিম ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গুলশান থানায় মামলাটি করে।

পুলিশের গুলশান বিভাগের ডিসি সুদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, সিকদার গ্রুপের একটি প্রজেক্টে ঋণ দেওয়ার করার কথা ছিল এক্সিম ব্যাংকের। ব্যাংকটির ওই দুই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ঋণের বিপরীতে বন্ধকি সম্পত্তি পরিদর্শন করতে সিকদার গ্রুপের লোকজনের সঙ্গে ঢাকার অদূরে যান। তবে ওই সাইট দেখার পর তারা ঋণ দিতে রাজি হচ্ছিলেন না। এরপর এক্সিম ব্যাংকের এমডি ও অতিরিক্ত এমডিকে সিকদার গ্রুপের লোকজন তাদের বনানী কার্যালয়ে নিয়ে আটকে রাখে। এ সময় তারা জোরপূর্বক তাদের প্রজেক্টের ভিডিও প্রেজেন্টেশন দেখাতে চায়। এ ঘটনায় এক্সিম ব্যাংকের পক্ষ থেকে মামলা হয়েছে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, রন হক সিকদার গত ৭ মে সকালে ন্যাশনাল ব্যাংকের এমডিসহ গুলশানে এক্সিম ব্যাংকে আসেন। তারা তাদের প্রস্তাবিত ঋণের টাকার বিপরীতে “কো-লেটারেল’ হিসেবে সিকদার গ্রুপের রূপগঞ্জ কাঞ্চন প্রস্তাবিত আদি নওয়াব আসকারী জুট মিলটি পরিদর্শনের জন্য নিয়ে যান এমডি হায়দার আলী ও অতিরিক্ত এমডি ফিরোজকে।

ওই স্থানটি পরিদর্শন করেন জায়গাটির বর্তমান বাজার দরের সঙ্গে গ্রাহকের বন্ধকী মূল্যের বিশাল ব্যবধান হওয়ায় এক্সিম ব্যাংকের এমডি ও অতিরিক্ত এমডি দ্বিমত পোষণ করেন বলে মামলায় বলা হয়।

এরপর রন হক সিকদার পূর্বাচলে অবস্থিত তাদের অন্য প্রকল্প স্যাটেলাইট সিটিতে আইকন টাওয়ারের জায়গাটি পরিদর্শনের জন্য বলেন।

ওই দিন বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে এক্সিম ব্যাংকের জরুরি সভা থাকায় পূর্বাচলে যেতে না চাইলে রন হকের “বিশেষ অনুরোধে’ গিয়েছিলেন হায়দার ও ফিরোজ।

এজাহারে বলা হয়, “অনুরোধ উপেক্ষা করার পরিস্থিতি না থাকায় পুরো প্রকল্পটি দেখার জন্য (তারা) ভেতরে যান। কিন্তু রাস্তা অপরিচিত হওয়ায় এবং সেখানে রন হক সিকদার এবং এনবিএলের এমডিদ্বয়ের গাড়ি দেখতে না পেয়ে এক্সিম ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা ঢাকার দিকে রওয়ানা হয়ে তিনশ ফিট রাস্তায় উঠার পর ঢাকামুখী রন হক সিকদার ও এনবিএলের এমডিকে দেখতে পেয়ে গাড়ি থামান।

রন হক সিকদাররন হক সিকদার এ সময় এনবিএলের এমডি গাড়ি থেকে নেমে এসে এক্সিম ব্যাংকের এমডি ও এএমডিকে বলেন যে রন হক সিকদার তার দেওয়া নির্ধারিত স্থানে আপনারা উপস্থিত হতে ব্যর্থ হয়েছেন বিধায় অত্যন্ত মনক্ষুন্ন ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, সেখানেই রন হক সিকদার এক্সিম ব্যাংকর দুই নির্বাহীকে তার নিকট মাফ চাইতে বাধ্য করেন।

তখন রন হক সিকদার গাড়ির ভিতর থেকে বসা অবস্থায় গ্লাস নামিয়ে তার পিস্তল বের করে হত্যার উদ্দেশ্যে এক্সিম ব্যাংকের এমডিকে লক্ষ্য করে গুলি করেন, যা এমডির বাম কানের পাশ দিয়ে যায়। এসময় এমডি হতভম্ব হয়ে ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থাকেন। পুনরায় এএমডিকে লক্ষ্য করে গুলি করতে উদ্যত হলে তিনি দৌড় দিয়ে গাড়ির পেছনে আশ্রয় নিয়ে আত্মরক্ষা করেন।

এরপর রন হক সিকদার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে এক্সিম ব্যাংকের এমডি এবং অতিরিক্ত এমডিকে গাড়িতে তুলে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বনানী ১১ নম্বর সড়কের সিকদার হাউজে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয় মামলাতে।

এজাহারে বলা হয়, সেখানে রন ও দীপু জমির দাম কম বলায় এক্সিম ব্যাংকের এএমডি ফিরোজকে মারতে উদ্যত হলে তিনি মাফ চেয়ে প্রাণে বাঁচেন।

অন্যদিকে দীপু সিকদার তৃতীয় তলায় এক্সিম ব্যাংকের এমডিকে মারতে নিচে নামার সময় এএমডি এমডির পক্ষে মাফ চান এবং তাকে না মারার অনুরোধ করেন। এরপর রন হক সিকদার ও দিপু সিকদার (এক্সিম ব্যাংকের) এমডিকে প্রজেক্টের সবকিছু নিয়ম অনুযায়ী আছে ব্যক্ত করে তাদের সাথে থাকা অস্ত্র তাক করে জোরপূর্বক একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়।

এরপর বিকালে দিপু হক সিকদারের নির্দেশে তাদের বাবা জয়নাল হক সিকদারের কাছে এক্সিম ব্যাংকের দুই কর্মকর্তাকে নিয়ে ফটোসেশন করানো হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়ামোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়াএজাহারে বলা হয়, এক্সিম ব্যাংকের এমডি, এএমডি ও দুই চালককে প্রায় ৫ ঘণ্টা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রেখে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

মামলা করতে দেরির কারণ ব্যাখ্যা করে এজাহারে বলা হয়, “বিস্তারিত জেনে এবং ব্যাংকের কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ-আলোচনা করে অভিযোগ দাখিল করতে বিলম্ব হয়।”

এই অভিযোগের বিষয়ে রন হক সিকদার ও দিপু হক সিকদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গুলশান থানার ওসি কামরুজ্জামান জানান, ৫০০ কোটি টাকা ঋণ প্রস্তাব নিয়ে গত ৭ মে’র ওই ঘটনায় এক্সিম ব্যাংক ১৯ মে মামলা করে। ঋণের বিপরীতে বন্ধকি সম্পত্তি পরিদর্শন করতে গিয়েছিলেন এক্সিম ব্যাংকের ওই দুই কর্মকর্তা। এ সময় জামানত হিসেবে ওই সম্পত্তির বন্ধকি মূল্য কম বলে জানান ব্যাংকটির এমডি ও অতিরিক্ত এমডি। অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন