ব্রিটেনে গত এক দশকে বর্ণবাদ ও অসহিষ্ণুতা আরো বেড়েছে : কিয়ার স্টারমার

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, গত এক দশকে ব্রিটেনে বর্ণবাদ ও অসহিষ্ণুতা আরো খারাপ রূপ ধারণ করেছে। এর ফলে সামাজিক সংহতি নষ্ট হচ্ছে এবং মানুষ জনসমক্ষে বা সামাজিক কর্মকাণ্ডে আসতে ভয় পাচ্ছে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

 

গতকাল বুধবার (১ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

সাউদাম্পটনে হেনরি নোয়াক হত্যার পর বিক্ষোভ এবং বেলফাস্টে এক ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর দাঙ্গাসহ সাম্প্রতিক কিছু অশান্তির ঘটনার পর রয়টার্সের একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তার ঠিক একদিন পরেই তিনি এই মন্তব্য করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

রয়টার্সের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, অভিবাসীবিরোধী বক্তব্য ও অপরাধের ওপর রাজনৈতিক বাড়তি মনোযোগের কারণে বর্ণবাদের পুনরুত্থানের আশঙ্কা করছেন কিছু কৃষ্ণাঙ্গ ও সংখ্যালঘু ব্রিটিশ নাগরিক।

 

পার্লামেন্টে বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে স্টারমার বলেন, ‘বর্ণবাদ ও অসহিষ্ণুতা সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে।’

স্টারমার বলেন, ‘আমাদের এটি মোকাবেলা করতে হবে, কারণ এটি আমাদের সমাজকে টুকরো টুকরো করে দিচ্ছে। এই দেশের যেকোনো পর্যায়ের প্রত্যেক রাজনীতিবিদের উচিত এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া।’

স্টারমার ২০১৬ সালে লেবার পার্টির আইনপ্রণেতা জো কক্সের মৃত্যুর কথা স্মরণ করেন।

জো কক্স ছিলেন অভিবাসন এবং সামাজিক সংহতির একজন সক্রিয় সমর্থক, যাকে ব্রেক্সিট গণভোটের কয়েক দিন আগে এক উগ্র-ডানপন্থী চরমপন্থী হত্যা করেছিল।

 

তিনি বলেন, সম্প্রতি জো কক্সের মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে ভাবার সময় তার মনে হয়েছে যে, গত এক দশকে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি, বরং আরো অবনতি হয়েছে।

মঙ্গলবারের রয়টার্সের ওই প্রতিবেদনে ট্রেড ইউনিয়ন এবং পেশাদার সংস্থাগুলোর বরাতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যজুড়ে সাম্প্রতিক অশান্তির পর কর্মক্ষেত্র এবং জনজীবনে বর্ণবাদী আচরণ ও হেনস্তা বাড়ছে, যার ফলে সামাজিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে।

অন্যদিকে, পপুলিস্ট দল ‘রিফর্ম ইউকে’র নেতা নাইজেল ফারাজ ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে শ্বেতাঙ্গদের প্রতি বৈষম্য করার অভিযোগ এনেছেন। তার দাবি, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও সংখ্যালঘুদের সহায়তার জন্য তৈরি নীতিমালার কারণে এই প্রতিষ্ঠানগুলো পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে।

তবে স্টারমার তার এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।

 

রাজনৈতিক বিতর্কের ভাষা ও পরিবেশ নিয়ে স্টারমার বলেন, ‘এটি ঠিক করার দায়িত্ব আমাদেরই—এই সংসদের প্রতিটি সদস্যের, তিনি যে দলেরই হোন না কেন। আর যারা এই পরিস্থিতিকে আরো উসকে দিচ্ছে, তাদের চরমভাবে লজ্জিত হওয়া উচিত।’

জিবি নিউজ24ডেস্ক//

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন