মৌসুমি ফল বাজারজাতে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে : কৃষক-শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন

49
gb
9

বর্তমানে বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রভাবে দেশের শাকসবজি, মৌসুমি ফলসহ কৃষিপণ্যের পরিবহন ও বাজারজাতকরণে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। গাছ ও বাগান মালিকরা ব্যাপারী খুজে পাচ্ছেন না। সরকার আম-লিচুসহ মৌসুমি ফল বাজারজাতকরণের আশ্বাস দিলেও চাষিরা বলছেন, এখন পর্যন্ত সরকারের কোনো লোকের সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি। বর্তমানে লকডাউন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারকে যথাযথ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় কৃষক-শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন।

বুধবার (২৭ মে) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে সংগঠনের আহ্বায়ক এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, যুগ্ম আহŸায়ক মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা ও সমন্বয়ক মো. মহসিন ভুইয়া এ দাবী জানান।

তারা বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সরকারের সহযোগিতা না পাওয়ায় এবার পোল্টি ও ডেইরি শিল্পে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সারাদেশেই তরিতরকারি, তরমুজ ও বাঙ্গি চাষিরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। অন্যান্য কৃষি পণ্যেও একই অবস্থা। পণ্য সাপ্লাই চেইন ভেঙে যাওয়ায় কোনো চাষিই তার পণ্যটি বিক্রি করতে পারছেন না। শুধু লিচু চাষি নন, সব চাষিই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে ব্যাপারীরা বা ফড়িয়াদের সঙ্গে বাগান মালিকদের লিংক করে দেয়া এবং ব্যাপারীরা যাতে কোনো বাধা ছাড়া নির্দিষ্ট গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পারেন, সে ব্যবস্থা সরকারকেই করতে হবে।

নেতৃত্রয় বলেন, ট্রাকসহ অন্য পরিবহনের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করার উদ্যোগ নিতে হবে। ট্রাকের জ্বালানির ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেওয়া যেতে পারে, যাতে ট্রাকের ভাড়া কম হয়। পুলিশ ব্যারাক, সেনাবাহিনীর ব্যারাক, হাসপাতাল, জেলখানাসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসে কৃষকের কাছ থেকে আম কিনে সরবরাহ করা গেলে আমের বাজারজাতকরণে সমস্যা দূর হবে। ব্যবসায়ী, আড়তদার ও ফড়িয়ারাদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে পরিচয়পত্র ইস্যু ও ব্যাংকের লেনদেনের সময়সীমা বাড়াতে হবে। এ মধু মাসে বিদেশি ফল যেমন আপেল, আঙ্গুর প্রভৃতি আমদানি কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

তারা আরো বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে সম্পৃক্ত করে আন্তর্জাতিক বাজার ধরতে হবে, তা নাহলে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে যেকোনো পণ্য বাজারজাতকরণ করতে সরকারের সহযোগিতা খুব বেশি প্রয়োজন। দীর্ঘদিন বসে থেকে সংসার পরিচালনার কারণে অনেক পাইকার বা ফড়িয়ার কাছেও এখন মূলধন নেই। এ ক্ষেত্রে সরকার তাদের প্রণোদনা দিয়ে কৃষকের পণ্য বাজারজাতকরণে সহযোগিতা করতে পারে।

নেতৃত্রয় বলেন, মহামারি করোনার কারণে শাকসবজি, মৌসুমি ফলসহ কৃষিপণ্যের স্বাভাবিক পরিবহন এবং সঠিক বিপণন ব্যাহত হচ্ছে। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য সময়মতো বিক্রি করতে পারছেন না। আবার বিক্রি করে অনেক ক্ষেত্রে ন্যায্যমূল্যও পাচ্ছেন না। বর্তমানে কৃষিপণ্যের বাজারজাত করা সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন