বৃষ্টলে করোনা ভাইরাস আতঙ্কে পেনিক বায়িং, অতি মাত্রায় শপিং এর কারনে মূল্য বৃদ্ধি “ দোখানিদের পৌষ মাস ক্রেতাদেরসর্বনাশ

58
gb

নিক বায়িং, অতি মাত্রায় শপিং এর কারনে মূল্য বৃদ্ধি “ দোখানিদে পৌষ মাস ক্রেতাদেরসর্বনাশ”।।

খায়রুল আলম লিংকন : বৃষ্টলের মোট জনসংখ্যার ৬,৮৬,২১০ জনের মধ্যে প্রায় ৩৮ হাজার এশিয়ান জনগোষ্টির বসবাস।ইষ্টন, ফিশপন্ড এলাকায় বেশিরভাগ এশিয়ানদের বসবাস তার উপর ভিত্তিকরে ঘরে উঠেছে এশিয়ান গ্রাসারী, মাংশের দোখান।সমগ্র বৃটেন এর ন্যায় বৃষ্টলেও চলছে পেনিক বায়িং।করোনা আতঙ্কে জনগন যখন দুশ্চিন্তায় সময় কাটাচ্ছে তখন কিছু সংখ্যকঅসাধু দোকান মালিকরা দ্রব্য  মূল্য বৃদ্ধি করে সমালোচনায় এসেছেন।

বড় বড় সুপার ষ্টোর ঘুড়ে দেখা যায় পেনিক বায়িং এর কারনে অধিকাংশ ষ্টোর এর শেলফই খালি।ক্রেতারা ফিরছেন খালি হাতে।ক্রেতাদের অতিরিক্ত পরিমাণ পণ্য কেনার চাহিদা থাকলেও ব্রিটিশ সুপার স্টোরগুলো নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি পণ্য বিক্র করছেননা। ফলে অনেক ক্রেতাই তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে ভির করছেন লোকাল এশিয়ান শপগুলোতে।এর ফায়দা লুটতেশুরু করেছে কিছু সংখ্যক অসাধু দোকান মালিক।

মহামারির সময়ে ব্রিটেনে বাংলাদেশী দোকান মালিকরা যেভাবে মিট, চিকেন, গরুর দাম অবিশ্বাস্যভাবে ২/৩ গুন বাড়িয়েছে  এরব্যতিক্রম বৃষ্টলের বাংলাদেশী মালিকানাধীন দোকান।

স্থানীয় বাংলাদেশী মালিকানাধীন মসলা বাজার শপে ক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায় অন্যান্য শপের মতো এ শপে পন্যেরদাম বৃদ্ধি করা হয়নি ও সব রকম পন্য পাওয়া যাচ্ছে।

সর্ট সাপ্লাই এর অযুহাতে অনেক দোখানি চড়া দামে মিট, চিকেন বিক্রি করলেও মশলা বাজার মুল্য বৃদ্ধি করেনি। মাংশের মুল্যবৃদ্ধি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ব্যবস্থাপক শোয়েব আহমদ  বলেন মশলা বাজার পুর্বের দামেই চিকেন, মিট ও অন্যান্য প্রোডাক্টবিক্রি করছে। আমরা চেষ্টা করছি সাপ্লাইয়ার এর প্রাইসের সাথে ম্যাচ করে পন্য কাষ্টমার এর কাছে বিক্রি করতে।

পন্যের সাপ্লাই বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মসলাবাজারের ব্যবস্থাপক শাকিব নোমানি বলেন বর্তমানে কোন পন্যের সর্ট সাপ্লাইনেই। আমরা প্রতিদিন পন্য ডেলিভারি পাচ্ছি তাই ক্রেতাদেরকে পেনিক বায়িং না করে প্রয়োজন মতো পন্য ক্রয় করার জন্যঅনুরোধ জানান।

হাইস্ট্রিট সুপারস্টোরগুলো যেমন আসদা, টেসকো এগুলোতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায়নি। এমনকি হালাল মাংস পর্যন্ত তারা বিক্রিকরছে আগের দামেই। এজন্য ক্রেতাদের ভিড় নিয়ন্ক্রনে  পলিসিগত পরিবর্তন এনেছে তারা। অত্যধিক চাহিদার জিনিসের ওপরনিয়ন্ত্রণ বসিয়েছে, ‘একটা অথবা এক প্যাকেটের বেশি কেনা যাবে না’ এভাবে তারা আতঙ্ক কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে, ওইজায়গায় বাঙালি-পাকিস্তানি ব্যবসায়ীদের একটা বড় অংশ মানুষকে আতঙ্কের দিকেই ঠেলে দিয়ে ব্যবসা লুফে নিচ্ছে।

ক্রেতাদের অন্যান্য এশিয়ান শপের দ্রব্য মুল্যবৃদ্ধির

অভিযোগ এর প্রেক্ষিতে স্থানীয় পাকিস্তানি মালিকানাধীন একটি বুচারে গিয়ে তাদের মুল্য তালিকা দেখা যায়নি। ক্রেতারা অভিযোগ করেন তারা অতিরিক্তদামে চিকেন, মিট বিক্রি করছে।

দ্রব্যমুল্য নিয়ন্ত্রন ও মনিটরিং এ কাউন্সিলের ভুমিকা নিয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর সুলতান খান বলেন দ্রব্যের অধিক মূল্যের প্রমাণথাকলে আইনি পদক্ষেপে দোকান বন্ধও জরিমানা করতে কাউন্সিল এর ট্রেডিং স্ট্যান্ডার্ড কাউন্সিল সক্রিয় রয়েছে।দোখানমালিকদের অযথা মুল্যবৃদ্ধি না করে নায্যমুল্যে পন্য বিক্রিকরে দায়িত্বশীল নাগরিকের ভুমিকা রাখার আহ্বান জানান।

এদিকে করোনা নিয়ন্ত্রনে বন্ধ করা হয়েছে স্থানীয় সকল মসজিদ , মন্দির, গীর্জা সহ সকল উপসানালয়।করোনা নিয়ে আতন্কিতনা হয়ে বর্তমান পরিস্থিতিথে ধর্মীয় দৃষ্টিতে করনীয় সমন্ধে বৃষ্টল সেন্ট্রাল মসজিদের খতিব মৌলানা মুফতি ইকরাম উদ্দীন বলেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মহামারি হচ্ছে আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে শাস্তিঅথবা ধমকস্বরূপ। আল্লাহ তা’আলা বনী ইসরাইলের একটি দলের উপর অথবা তোমাদের পূর্ববর্তী কিছু লোকের উপর এমনশাস্তি নিপতিত করেছিলেন। তাই যখন কোনো স্থানে মহামারির কথা শুনতে পাবে, সেখানে যাবে না। আর যদি তা তোমাদেরকাছে চলে আসে তবে তা থেকে পালিয়ে যাবে না।’

করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে হলে আমাদের এখন থেকেই রাসুলের (সঃ) এর ঐতিহ্য মেনে চলতে শুরু করা উচিৎ। আর এক্ষেত্রে রাসুলের ঐতিহ্য হচ্ছে – যখন কোনো স্থানে মহামারির কথা শুনতে পাবে তখন সেখানে যাবে না। রাসুলের এ বাণীরবাস্তবায়ন করা খুবই জরুরি। বর্তমান পরিস্থিতিতে যেহেতু জনসমাগম মহামারি ছড়াতে সাহায্য করে তাই যতদূর সম্ভব ঘরেঅবস্থান করা নামাজ আদায় করা।পরিবারের বাইরে কারো সাথেই যথাযথ সাবধানতা ছাড়া মেশা যাবে না।যদি মহামারিতোমাদের কাছে চলে আসে তবে তা থেকে পালিয়ে যাবে না। রাসুলের (সঃ) এই নির্দেশ-এর বাস্তবায়ন। অর্থাৎ আক্রান্ত এলাকারমানুষ ভাল এলাকায় চলে যাবে না এবং যে বা যাদের ভাইরাস আছে তারা সুস্থ মানুষের কাছে যাবে না। আক্রান্ত ব্যক্তি নিজে সুস্থমানুষদের রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করবেন।

গ্রোসারি শপগুলোতে ভির থাকলেও কাষ্টমার নেই স্থানীয় মানিচেন্জার ও কাপড়ের দোখানে। মালিকরা জানান আন্তর্জাতিকদুর্যোগের কারনে পাউন্ডের দাম নিম্নমুখি হওয়ায় কেউ  দেশে টাকা পাটাচ্ছে না। এরই মধ্যে অনেকই বন্ধ করেছেন তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ।

দ্রব্যমুল্য স্তিথিশীল ও অতিরিক্ত মুনাফা না করে মহামারিতে মানুষকে সাহায্য করার জন্য ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানিয়েছেন জি এস সি সাউথ ওয়েষ্ট রিজিঁয়নেরসেক্রেটারী সৈয়দ আবুসাঈদ আহমদ, ট্রেজারার  সৈয়দ আখলাকুল আম্বিয়া রাবেল, বৃষ্টল বাংলা প্রেসক্লাব সভাপতি কামরুলইসলাম,

সেক্রেটারী খায়রুল আলম লিংকন,

কমিউনিটি নেতা মতিউর রহমান লিটন, মোসলেহ আহমদ, মুকিত মিয়া, বদরুল আলম লিটন  প্রমুখ।