বিয়ানীবাজার ওয়াহিদুর রহমান একাডেমির ৫ শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষা অনিশ্চিত

 মুকিত মুহাম্মদ, বিয়ানীবাজার ||

ব্যাঙ্গের ছাতার মত যত্রতত্র গড়ে উঠা স্কুল নামের দোকানগুলোতে দায়িত্বরতদের অদক্ষতা আর ভুলে আগামী সোমবার থেকে অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি পরীক্ষায় পাঁচ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিয়ানীবাজার পৌরশহরের খাসাড়ীপাড়াস্থ শেখ ওয়াহিদুর রহমান একাডেমির পাঁচ শিক্ষার্থী কান্নার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সহপাঠীরা গত সোমবার প্রবেশ পত্র পেলেও অসহায় এই পাঁচ শিক্ষার্থী স্কুলে গিয়ে তারা জানতে পারেন প্রযুক্তিগত কারণে তাদের প্রবেশ পত্র পরদিন আসবে। পরদিনও প্রবেশ পত্র না পেয়ে অভিভাবকসহ শিক্ষার্থীরা স্কুলের শিক্ষকদের মাধ্যমে জানতে পারেন তাদের প্রবেশপত্র তৈরীই হয়নি! পাঠদানের অনুমতি না থাকায় বিয়ানীবাজারের শেখ ওয়াহিদুর রহমান একাডেমীর ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীরা সিলেটের ক্লাসিক স্কুল এন্ড কলেজের মাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু এবার ক্লাসিক স্কুল এন্ড কলেজের কম্পিউটার অপারেটরের ছোট্ট ভুলে আগামী সোমবার থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষায় বিয়ানীবাজারের পাঁচ শিক্ষার্থীর অংশ নিতে পারবেন না। তবে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান চাইলে তারা অংশ নিতে পারবেন বলে জানান শিক্ষক ও বোর্ড সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। প্রবেশ পত্র না পাওয়ায় গত মঙ্গলবার থেকে শিক্ষার্থী খায়রুল হাসান উৎসব (রেজি: নম্বর-১৭১৬৬২১০৫৫), সাব্বির হোসেন (রেজি: নম্বর-১৭১৬৬২১০৫৬), ফাতেমা তুজ জোহরা (রেজি: ম্বর-১৭১৬৬২১০৮৫), আমিনা হোসেন (রেজি: নম্বর-১৭১৬৬২১০৯৪) ও সোহানা শামসুদ্দিন তাজিনদের (রেজি: নম্বর-১৭১৬৬২১০৯৫) কান্না থামছে না। শিক্ষা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এ পরীক্ষার সব রকমের প্রস্তুতি নিয়েও শেষ সময়ে এসে তারা জানলেন তাদের পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ আর হয়তো নেই। এসব শিক্ষার্থীদের কান্না দেখে অভিভাবকরা অসহায় হয়ে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায়ের যোগাযোগ করে চলেছেন। থেমে নেই শেখ ওয়াহিদুর রহমান একাডেমী ও সিলেটের ক্লাসিক স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষকরা। নিজেদের ত্রুটি সংশোধন করতে তারা ধরনা দিচ্ছেন দায়িত্বশীলদের কাছে। কিন্তু কারো কাছ থেকে তেমন সহযোগিতা পাচ্ছেন না। নিরুপায় হয়ে নিজেদের ভুলে শিক্ষার্থীদের একটি বছর হারিয়ে যাচ্ছে- এ নিয়ে তারা মর্মাহত। জেএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হওয়া শিক্ষার্থী খায়রুল হাসান উৎসব বলেন, পড়ার টেবিলে বসে কাঁদছি। আমাদের চোখ থেকে ঝরে পড়া অশ্রুর মূল্য কেউ না কেউ বুঝবেন। এই আশায় প্রস্তুতি নিচ্চি। যদি কারো দয়া হয়। একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান স্যারের কাছে মিনতি করছি আমাদের পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ তৈরী করে দেন। আমরা ভুল করেনী, তাহলে কেন আমাদেরকে শাস্তি পেতে হবে। শেখ ওয়াহিদুর রহমান একাডেমী অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, যখন থেকে এ বিষয়টি আমরা জেনেছি তখন থেকে চেষ্টা করছি। পরিস্থিতি এখন যে পর্যায়ে রয়েছে আসলে সেখানে আমরা অসহায়। বোর্ডের চেয়ারম্যান স্যার ছাড়া এসব শিক্ষার্থীর পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ আর কারো হাতে নেই। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে অসহায় মানুষটি আমি নিজে। আমার পাঁচটি সন্তানের নিষ্পাপ মুখগুলোর করুণ অবস্থা আমাকে খুব কষ্ট দিচ্ছে। এ বিষয়ে সিলেট শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কবির আহমদ গণ মাধ্যমকে বলেন, এ ৫ পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্র না পাওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি জানান, প্রবেশপত্র ইস্যুর সার্ভার এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া, ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে এসএসসি পরীক্ষা। কাজেই, এ বিষয়ে তাদের কিছু করার আছে বলে তার কাছে মনে হচ্ছে না।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন