কমরেড শ্রীকান্ত দাশের স্মরন সভা লন্ডনে

1,727
gb

জিবি নিউজ ডেস্ক ।।

আজীবন ত্যাগব্রতী বিপ্লবী, গণসংগীত শিল্পী ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, মরনোত্তর দেহদানকারী কমরেড শ্রীকান্ত দাশ এর স্মরন সভায় বক্তারা বলেছেন শোষন ও দারিদ্র লাঞ্চিত ধনবাদী সমাজ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কমরেড শ্রীকান্ত ছিলেন এক দ্রোহী সংশপ্তক। আমৃত্যু তিনি একটি শোষনহীন সমাজ বিনির্মানে নিজেক সম্পৃক্ত রেখেছেন প্রশ্নাতীত নিষ্ঠা ও সততার সাথে। কমিউনিস্টপার্টির বিপ্লবী শৃঙ্খলা বহির্ভুত কোন কিছুর সাথে আপোষ করেননি কখনো। মানুষকে ভালোবাসার জোরেই তিনি নিজ দেহ দান করে গেছেন চিকিৎসাশাস্ত্রের শিক্ষা ও গবেষনার কাজে। তাইতো তাঁর বিপ্লবী রাজনৈতিক জীবন নতুন প্রজন্মের কাছে চিরজাগরুক হয়ে থাকবে চিরকাল। গতকাল ২১ নভেম্বর মঙ্গলবার লন্ডনে কমরেড শ্রীকান্ত দাশ এর অষ্টম মৃত্যু বার্ষিকীতে লন্ডনে ‘শ্রীকান্ত সংহতি পরিষদ’ আয়োজিত স্মরন সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

স্মরন সভায় সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযুদ্ধা আমান উদ্দীন।পরিচালনা করেন যুক্তরাজ্য যুব ইউনিয়নের সভাপতি যুবনেতা ইতেখারুল হক পপলু।

স্মরন সভার শুরুতেই তাপসী চক্রবর্তী লিপি রচিত “জ্যোতির্ময় প্রভা শ্রীকান্ত দাশ” শীর্ষক মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সাংস্কৃতিক কর্মী নার্গিস কবির। স্মরন সভায় বক্তব্য রাখেন এডভোকেট আবেদ আলী আবিদ, মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশীদ,সাংবাদিক আবু মুসা হাসান,রুবি হক, সিপিবি যুক্তরাজ্য শাখার সাবেক সাধারন সম্পাদক সৈয়দ এনামুল ইসলাম, রাজনীতিক ও সংগঠক সত্যব্রত দাশ স্বপন, লেখক হামিদ মোহাম্মদ, কবি শামীম আজাদ, সাংস্কৃতিক কর্মী মজিবুল হক মনি,নাজমুল হুসেন চৌ:চান মিয়া,ঊদীচী যুক্তরাজ্য শাখার সাধারন সম্পাদক সাহাব উদ্দীন বাচ্চু,গোলাম আকবর মুক্তা,ব্যারিস্টার ফখরুল আলম চৌধুরী শামীম, মুক্তিযোদ্ধা এম এ আজীজ,শাবিপ্রবি’র সহযোগী অধ্যাপক জহিরুল হক শাকিল,প্রফেসর ফারুখ আহমদ,শামসুল চৌধুরী,বাবুল হুসেন,নুরুল ইসলাম,নারী নেত্রী সৈয়দা নাজনীন সুলতানা শিখা,জুবের আক্তার সুহেল ও যুবনেতা সাইফুল ইসলাম খান প্রমুখ।

স্মরন সভায় শ্রীকান্ত সংহতি পরিষদের পক্ষ থেকে স্মরনসভাকে সফল করে তুলে ধরার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন যুবনেতা ও শ্রীকান্ত দাশের ছোট ছেলে সুশান্ত দাস প্রশান্ত।

উক্ত সভায় কমরেড শ্রীকান্ত দাশ এর সংগ্রামী জীবনের উপর আলোকপাত করে বক্তারা আরো বলেন কমরেড শ্রীকান্ত নিপীড়িত শোষিত কৃষকের ক্ষুব্ধ জমায়েতে গণসংগীত গেয়েছেন আজীবন। কৃষক সংগঠনের কাজে সম্পৃক্ত ছিলে আমৃত্যু।মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহন করেছেন। স্বৈরশাসক বিরোধী আন্দোলনে ছিল তাঁর সক্রিয় সমর্থন। দেশের জাতীয় সম্পদ তেল গ্যাস রক্ষার আন্দোলন সহ সমাজ প্রগতির সকল আন্দোলন সংগ্রামে তিনি ছিলেন আপোষহীন। তিনি শোষকের বিরুদ্ধে, জোতদারদের বিরুদ্ধে মানুষের সংগ্রামকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে গণসংগীত গেয়ে কৃষক শ্রমিক মেহনতী মানুষকে উজ্জীবিত করেছেন আজীবন। তাইতো তাঁর বিপ্লবী জীবন সমাজ প্রগতির সংগ্রামের কর্মীদের কাছে অফুরন্ত বিপ্লবীর প্রেরনার উৎস।