সম্রাট-আরমানসহ ১০ জনের সম্পদ ক্রোক হচ্ছে

125
gb

জিবি নিউজ ২৪

ক্যাসিনো ব্যবসা, চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন উপায়ে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমানসহ অন্তত ১০ জনের সম্পদ ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্ত সংশ্লিষ্ট দুদকের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই দফায় ১৭৮ জনের তালিকা ধরে অনুসন্ধান চলছে। এর মধ্যে রাঘববোয়ালদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও হয়েছে। ওইসব মামলায় আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। আদালত এরইমধ্যে টেন্ডারকিং জি কে শামীমসহ কয়েকজনের সম্পদ ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের আদেশ দিয়েছেন।

এছাড়া অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানসহ অন্তত ১০ জনের সম্পদ ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন বলে জানান দুদকের ওই কর্মকর্তারা।

এদিকে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অবৈধ ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত ৭ কারবারির ৪২৬ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ।

এর আগে ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত অন্তত ২০ জনের বিরুদ্ধে ‘অবৈধ সম্পদ’ অর্জনের মামলা করে দুদক। এদের মধ্যে জি কে শামীম, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, লোকমান হোসেন ভূঁইয়া, কাজী আনিছুর রহমান, এনামুল হক এনু, রুপন ভূঁইয়া ও সেলিম প্রধানের সম্পদ ক্রোক ও ফ্রিজের আদেশ দেয়া হয়। এদের সম্পদ ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের জন্য দুদকের তদন্ত কর্মকর্তারা আদালতে আবেদন করেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, অবৈধ সম্পদধারীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে। এছাড়া মামলার তদন্তের স্বার্থে তদন্ত কর্মকর্তারা সম্পদ ক্রোকের আবেদনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

গত ৬ অক্টোবর ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে আটক করার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের নিয়ে অভিযানে বের হয় র‍্যাব। কাকরাইলের নিজ কার্যালয়ে ক্যাঙারুর চামড়া রাখার দায়ে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে সম্রাটকে ছয় মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে সম্রাটকে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। এ ছাড়া মাতাল অবস্থায় গ্রেফতার হওয়ায় আরমানকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়ে ওই দিন রাতেই কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়।

পরে সম্রাট ও আরমানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের মামলা করেছে দুদক। মামলায় সম্রাটের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদের সুনির্দিষ্ট তথ্য দিলেও দেশের বাইরে নামে-বেনামে অন্তত ১০০০ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে বলে উল্লে­খ করা হয়। তার এ সম্পদ সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দুবাই ও আমেরিকায় রয়েছে।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়, ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট রাজধানীর মতিঝিল ও ফকিরেরপুল এলাকায় ১৭টি ক্লাব নিয়ন্ত্রণ করতেন। সেগুলোতে নিজের লোক বসিয়ে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের কমিশন নিতেন। অনেক সময় নিজের লোক দিয়ে ক্লাবগুলোতে ব্যবসা পরিচালনা করতেন। এ ছাড়া চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, অবৈধ মাদক ব্যবসা পরিচালনারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি দেশের বাইরে সম্পদ গড়েছেন। দেশেও উত্তরা, ধানমণ্ডি, গুলশানসহ বিভিন্ন স্থানে নামে-বেনামে সম্পদ গড়েছেন। সব মিলিয়ে দেশে তার ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদের সন্ধান মেলে।

অপরদিকে, সম্রাটের সহযোগী আরমানের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। দু’জনের বিরুদ্ধেই ২০০৪ সালের দুদক আইনের ২৭(১) ধারায় অপরাধ আনা হয়।