প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ-বদলির তদবিরে হাতকড়া

166
gb
মো:নাসির, জিবি নিউজ ২৪
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ কিংবা বদলি নিয়ে কেউ তদবির করলে এবং সেই তদবিরে কেউ সাড়া দিলে, উভয়ের হাতে হাতকড়া পরানো হবে বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।                                                              
শুক্রবার রাজশাহীতে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিশেষ সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন দুদক চেয়ারম্যান।

এ সময় তিনি আরো বলেন, তদবির আর ঘুষ খাওয়া একই। যে কারণে কিছু কিছু তদবিরবাজকে আমরা ধরেছি। জেলে ভরেছি। তদবিরবাজরা সাবধান! শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়ায় কী হয়, আমরা জানি। সে কারণে আমরা বলেছি, সবকিছু কম্পিউটারাইজড করতে হবে। কম্পিউটারই বলে দেবে, রহিম কোথায় যাবে, করিম কোথায় যাবে। ক্রাইটেরিয়া ফিস্কড করবেন, কম্পিউটার বলে দেবে কে কোথায় যাবে। বদলি প্রক্রিয়া অনলাইনে হবে, কোনো তদবির চলবে না। তদবির এক ধরনের অপরাধ। তদবিরও একটা দুর্নীতি।

তিনি বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়াও স্বচ্ছ হতে হবে। আপনারা এবার দেখেছেন পুলিশের নিয়োগ প্রক্রিয়া। আমরা অনিয়ম বন্ধ করতে পেরেছি। আমি পুলিশকে সাধুবাদ দিয়েছি। একেবারে দুর্নীতিমুক্তভাবে, কারো কথা না শুনে পুলিশের নিয়োগ হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ হবে, কারো তদবিরে নয়। শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনো দুর্নীতি সহ্য করা যাবে না। আমরা সহ্য করব না।

দুদকের কেউ হাত বেঁধে রাখেনি উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, শিক্ষকের পেনশন নিতে গিয়ে কী ভোগান্তি! সেটা আমরা বন্ধ করার চেষ্টা করছি। যারা অপরাধী, তাদের আমরা ধরেছি। আমরা ঘুষ হাতে-নাতে ধরেছি। আমাদের কেউ হাত বেঁধে দেয়নি। আমরা যে কোনো লোককেই ধরতে পারি। দুর্নীতি করলেই ধরা হবে। কোনো অনুমতি নিয়ে আমরা কাউকে ধরব না। আমরা সেটা দেখিয়ে দিয়েছি।

জেলা প্রশাসক হামিদুল হকের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম হোসেন এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. এ এফ এম মনজুর কাদির।

সভায় রাজশাহী প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ইনস্ট্রাক্টর এবং বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। মুক্ত আলোচনায় তারা মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নের নানা দিক তুলে ধরেন।