নবীগঞ্জে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সন্তান পরিচয়ে পুলিশে চাকুরী নির্যাতিত এলাকাবাসীর সাংবাদিক সম্মেলন

1,994
gb

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি ||
নবীগঞ্জে অবিবাহিত অবস্থায় মৃত চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা আছকির আলী’কে পিতা বানিয়ে বিভিন্ন সনদপত্র নিয়ে অবৈধ পায়দা হাসিল, নানা সুযোগ সুবিধা নেয়া, গ্রামের নিরীহ লোকদের হয়রানীসহ পুলিশে চাকুরী নেয়ার ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। এ ব্যাপারে নির্যাতিত বেলাল মিয়া নামের এক ব্যক্তি গ্রামবাসীকে সাথে নিয়ে গতকাল বুধবার দুপুরে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন। বেলাল মিয়া উপজেলার দেওপাড়া গ্রামের আব্দুল মন্নানের ছেলে। তিনি এরআগে পুলিশের মহা পরিদর্শক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। এতে কোন প্রতিকার না পেয়ে উল্টো ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার পুত্র পরিচয়দানকারী আলমগীর মিয়া, জাহাঙ্গীর মিয়া প্রাণনাশের হুমকীসহ নানা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে বলে সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ তোলেন।
নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের দেওপাড়া গ্রামের আব্দুল মন্নানের পুত্র বেলাল মিয়া সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, একই গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আছকির আলী অবিবাহিত অবস্থায় ২০১০ইং সালের ২৮ জানুয়ারী মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা আছকির আলীর আপন ভাই আয়মন আলীর ছেলে আলমগীর মিয়া, জাহাঙ্গীর মিয়া মুক্তিযোদ্ধা আছকির আলীর ছেলে পরিচয় দিয়ে ভূয়া জাল সনদ পত্র তৈরী করে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান এবং তাদের মা গুলবাহার বিবি মৃত মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী পরিচয় দিয়ে কৌঠায় সরকারী বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা, মুক্তিযোদ্ধা ভোগ করে আসছেন। এছাড়া প্রায় দুই বৎসর পূর্বে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান পরিচয় দিয়ে আলমগীর মিয়া একই কৌঠায় পুলিশের কনষ্টেবল পদে চাকুরী নেয়। সে বর্তমানে মৌলভীবাজার জেলায় কমর্রত আছে। ফলে এলাকায় নিরীহ লোকদের নানা হয়রানী করে আসছেন। সাংবাদিক সম্মেলনে বেলাল মিয়া চ্যালেঞ্জ করে বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত আছকির আলীর সরকারী সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করার জন্যই জাল জালিয়াতির মাধ্যমে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার ভাই আয়মন আলী ছেলে আলমগীর, জাহাঙ্গীর এবং তাদের মা আয়মন আলীর স্ত্রী গুলবাহার বিবি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও স্ত্রী দাবী করছেন। তিনি বলেন, আয়মন আলীর স্ত্রী গুলবাহার বিবি মৃত আছকির আলীর সাথে বিবাহের একটি নিকাহ (কাবিন নামা) রেজিষ্টারী করেছেন। এতে দেখা যায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আছকির আলী বিগত ২৫/১১/২০০৯ ইং সনে গুলবাহার বিবি বিয়ে করেন। এবং মৃত সনদপত্রে দেখা যায় আছকির আলী ২৮/০১/২০১০ ইং সনে মৃত্যু বরণ করেন। এতে বুঝা যায় কাবিন অনুযায়ী বিয়ের ২ মাস ৩ দিনের মাথায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আছকির আলী মারা যান। তাহলে আলমগীর মিয়া ও জাহাঙ্গীর মিয়া ওই মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে জন্ম নিল কবে ? এমন প্রশ্ন বেলাল মিয়াসহ এলাকা বাসীর। বেলাল মিয়া আরও বলেন, গজনাইপুর ইউনিয়নের বান্দাউড়া এলাকার ভোটার তালিকায় দেখা যায় ৫৩ নং ক্রমিকে গুলবাহার বিবি’র নাম রয়েছে। এতে তার স্বামীর নাম রয়েছে আয়মন আলী। ভোটার তালিকা অনুযায়ী গুলবাহার বিবির বয়স ৬০ বছর ৬ মাস ৪ দিন (জন্ম তাং-০৫/০৫/১৯৫৭ইং)। তবে গুলবাহার বিবি আছকির আলীর স্ত্রী হলে বিয়ের কাবিনের তারিখে গুলবাহার বিবির বয়স ছিল ৫২ বছর। এছাড়া জাহাঙ্গীর আলীর ভোটার তালিকায় পিতার নাম মৃত আছকির আলী লিখা থাকলেও মা’য়ের নাম লেখা রয়েছে গুলবাহার বেগম। ওই তালিকা অনুযায়ী জাহাঙ্গীরের (জন্ম তাং- ০৭/০৩/১৯৯৫ইং) বয়স ২২ বছর ৮ মাস ৩ দিন। একই তালিকায় পুলিশে চাকুরী নেয়া আলমগীর মিয়ার পিতার নাম আছকির আলী উল্লেখ্য থাকলেও মা’য়ের নাম গুলবাহার বিবি লেখা রয়েছে। সে অনুযায়ী তার বয়স (জন্ম তাং-০৬/-১/১৯৯৬) ২১ বছর ১০ মাস ৩দিন। তিনি আরও বলেন, ইতিপুর্বে জাহাঙ্গীর মিয়া বাদী হয়ে আদালতে, থানায় প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছেন। এসব মামলায় তার পিতার নাম লিখিয়েছেন আয়মন আলী। এত গুলো ডকুমেন্টে কি প্রমান করেনা জাহাঙ্গীর, আলমগীর মৃত মুক্তিযোদ্ধা আছকির আলীর ছেলে নন। নির্যাতিত বেলাল মিয়া বলেন, গজনাইপুর এলাকার সম্মানিত সকল মুক্তিযোদ্ধাগণ অবগত ও জানেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আছকির আলী অবিবাহিত অবস্থায় মারা গেছেন। সংবাদ সম্মেলনে অন্যাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আলমগীরের ফুফুতো ভাই আব্দাল মিয়া, বিশিষ্ট মুরুব্বী আব্দুর রশীদ, আমীর আলী, ময়না মিয়া। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা আছকির আলী অবিবাহিত অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছেন মর্মে লিখিত দিয়েছেন ওই এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধাগণসহ বিভিন্ন মুরুব্বীয়ান।