স্বজনহারা রোহিঙ্গা শিশুদের বিভীষিকাময় কাহিনী নিরাপত্তা পরিষদে তুলে ধরলেন এমপি গোলাম ফারুক প্রিন্স

407
gb

হাকিকুল ইসলাম খোকন নিউইয়র্ক ||

নিউইয়র্ক, গত ৩১ অক্টোবর ২০১৭ : জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে “শিশু ও সশস্ত্র সংঘাত (ঈযরষফৎবহ ধহফ অৎসবফ ঈড়হভষরপঃ)” বিষয়ক এক উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পাবনা-৫ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স।

তিনি তাঁর বক্তৃতায় মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সাম্প্রতিক সহিংসতায় নির্যাতিত স্বজনহারা শিশুদের বিভীষিকাময় কাহিনীর পূনরুল্লেখ করেন। পিতা-মাতা ও স্বজন হারা এসকল অসহায় শিশুদের পক্ষ নিয়ে তিনি নিরাপত্তা পরিষদকে মিয়ানমার সঙ্কটের সমাধানে আরও সুদৃঢ় ও সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার আহŸান জানান। খবর বাপসনিঊজ। হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিঊজ:নিউইয়র্ক, গত ৩১ অক্টোবর ২০১৭ : জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে “শিশু ও সশস্ত্র সংঘাত (ঈযরষফৎবহ ধহফ অৎসবফ ঈড়হভষরপঃ)” বিষয়ক এক উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পাবনা-৫ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স। তিনি তাঁর বক্তৃতায় মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সাম্প্রতিক সহিংসতায় নির্যাতিত স্বজনহারা শিশুদের বিভীষিকাময় কাহিনীর পূনরুল্লেখ করেন। পিতা-মাতা ও স্বজন হারা এসকল অসহায় শিশুদের পক্ষ নিয়ে তিনি নিরাপত্তা পরিষদকে মিয়ানমার সঙ্কটের সমাধানে আরও সুদৃঢ় ও সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার আহŸান জানান। খবর বাপসনিঊজ।  সম্প্রতি জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর সহিংসতার শিকার রোহিঙ্গা শিশুদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার যে বক্তব্য লিপিবদ্ধ করেছে, এমপি গোলাম ফারুক প্রিন্স তা উল্লেখ করেন। যারমধ্যে রয়েছে একজন শিশুর সামনে তার ৭ বছরের ছোট বোনকে গুলি করে হত্যা করার মত নির্মম কাহিনী। আর আরেকটি শিশু তার সামনে পলায়নে অক্ষম বৃদ্ধদের গুলি খেয়ে ছটফট করে মরতে দেখেছে। তারা দেখেছে তাদের মত অসংখ্য শিশুকে, যাদের প্রায় সকলেই পরিবারের কাউকে না কাউকে হারিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসহায়, শারিরীক ও মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত এসকল রোহিঙ্গা শিশুদের আশ্রয় দিয়ে মানবতার বার্তাকে সমুন্নত রেখেছেন মর্মে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এ সকল শিশুসহ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীদের সাময়িকভাবে আশ্রয় দিয়েছে মাত্র কিন্তু সবকিছুর ঊর্ধ্বে হলো এসব শিশুরা মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে মর্যাদার সাথে নিজ দেশে ফিরে যেতে চায়। জাতিসংঘ এবং এই নিরাপত্তা পরিষদই তাদের শেষ ভরসা। যতক্ষণ না পর্যন্ত প্রতিটি শিশু মর্যাদা ও পূর্ণ নিরাপত্তার সাথে নিজ ভূমি রাখাইন প্রদেশে ফিরে যেতে না পারবে ততক্ষণ পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদকে মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করে যেতে হবে। আসুন আমরা তাদের হতাশ না করি”।তিনি চলমান মিয়ানমার সংকটে শিশুদেরকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ উল্লেখ করে বলেন, ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে আসা ৬ লাখ ৭ হাজার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৬০ ভাগ শিশু। তীব্র অপুষ্টিতে ভোগা এ সকল শিশুদের পুষ্টি সরবরাহ, বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের টিকা প্রদান, মনস্তাত্বিক চিকিৎসা সেবা ও শিক্ষা সহায়তা প্রদানসহ যে সকল জরুরি সেবা সরকার দিয়ে যাচ্ছে তার একটি পরিসংখ্যানও তিনি তুলে ধরেন। ফ্রান্স ডেলিগেশনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা পরিষদের এই সভায় এমপি গোলাম ফারুক প্রিন্স সশস্ত্র সংঘাত থেকে শিশুদের রক্ষার জন্য বাংলাদেশের প্রতিশ্রæতি পুনর্ব্যক্ত করেন। কোন গোষ্ঠী যাতে শিশুদের যুদ্ধাবস্থায় কাজে না লাগাতে পারে তা প্রতিরোধে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা কাজ করে যাচ্ছে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে সামরিক কাজে ব্যবহৃত না হয় সেদিকেও আমাদের শান্তিরক্ষী বাহিনী সতর্ক রয়েছে মর্মে এমপি প্রিন্স তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।এমপি গোলাম ফারুক প্রিন্স সরকারি সফরে নিউ ইয়র্ক অবস্থান করছেন।