প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্যের বক্তব্য ‌‍দায়িত্ব জ্ঞানহীন : ন্যাপ

108

 

 

প্রাণঘাতী ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে যখন হাজার হাজার মানুষ ধুঁকছে তখন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্যের বক্তব্য ‌‍’দেশ উন্নত হচ্ছে বলেই বাংলাদেশে ডেঙ্গু রোগ দেখা দিয়েছে’ দায়িত্ব জ্ঞানহীন ও কান্ডজ্ঞান বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ।

 

শুক্রবার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে পার্টির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এ কথা বলেন।

 

বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন,  দায় এড়াতে ডেঙ্গুকে যারা গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছিল তারাই এখন ডেঙ্গুকে ভয়াবহ সংকট বলছে। এখন তারাই আবার এটাকে বৈশ্বিক সমস্যা বলছে কেউ কেউ। আর এর মধ্যে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্যের বক্তব্য ‌‍’দেশ উন্নত হচ্ছে বলেই বাংলাদেশে ডেঙ্গু রোগ দেখা দিয়েছে’ মন্তব্য কি দায় এড়ানোর চেষ্টা নয় ? সরকারের জনগণের প্রতি। অন্যান্য দেশে কী হচ্ছে সেটা জানতে হবে, তাই বলে উদাহরন দিয়ে দেশের জনগণকে রক্ষা করতে পারছেন কিনা সেই প্রশ্ন থেকে সরকার মুক্তি পাবে না। এ কারণে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

 

নেতৃদ্বয় মন্ত্রীদের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য পরিহার করে ডেঙ্গু রোগের ভয়াবহতা নিরসনে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ডেঙ্গু রোগ যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে সমগ্র দেশবাসীর সঙ্গে আমরাও গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সরকারি স্বাস্থ্য বুলেটিনে বলা হয়েছিল, মে মাস থেকে ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটবে এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে পরবর্তী মাসগুলোতে তা ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে। সম্প্রতি গবেষণায় বলা হয়েছে ঢাকা ইজ সিটিং অন এ ডেঙ্গু টাইমবোম্ব। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে। অথচ সরকারি তথ্যমতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বর্তমানে ৩০ হাজারের ঊর্ধ্বে।

 

তারা বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এবং মেয়রদের দায়িত্ব ছিল তড়িৎ গতিতে পদক্ষেপ গ্রহণ। কিন্তু বাস্তবে তা দেখা যায়নি। বরং জনগণ লক্ষ্য করেছে ওষুধে ভেজাল, ক্রয়ে দুর্নীতি এবং ফগার মেশিন স্প্রে করার পদ্ধতিগত ত্রুটি। এমনকি ফগারম্যানদের স্প্রে করার যথাযথ প্রশিক্ষণও নেই। ডেঙ্গুর ব্যাপকতায় রোগীদের জন্য রক্তের চাহিদা বেড়েছে, ব্লাড ব্যাংকগুলোতে সংকট দেখা দিয়েছে। ডেঙ্গু শনাক্তকরণের কিটও চাহিদা মতো পাওয়া যায়নি। সমগ্র দেশে ডেঙ্গু রোগী ও ডেঙ্গু আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ জাতীয় দুর্যোগে যেখানে প্রয়োজন ছিল সমন্বিত জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও জনগণকে সম্পৃক্ত করা, কিন্তু সেই বাস্তব অবস্থা এখনও দৃশ্যমান নয়।