দফতরির পর্দা ফাটালেন এসআই, ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা –

108

মো:নাসির, বিশেষ প্রতিনিধি জিবি নিউজ ২৪

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের দফতরির কানের পর্দা ফাটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার বরাবর এ অভিযোগ করা হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি বলছেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। পুলিশ বলছে, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা হলেন— সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জামিরুল ইসলাম। বাম কানের পর্দা ফেটে যাওয়া আহত মো. উবায়দুল্লাহ সদর উপজেলার খাকচাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী কাম দফতরি। তিনি চিকিৎসা নিয়েছেন।              উবায়দুল্লাহ’র দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, শনিবার রাত ১০টার দিকে জামিরুল আরো পাঁচ পুলিশ সদস্য নিয়ে খাকচাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান। উবায়দুল্লাহ এ সময় তার ভাতিজা মো. ইয়াছিনকে নিয়ে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন। দরজা খুলে দিলে পুলিশ সদস্যরা উবায়দুল্লাহকে ইয়াবা কারবারি বলে আখ্যায়িত করে হাতকড়া পরিয়ে দেন। এক পর্যায়ে তাকে বেদম পেটান। চিৎকার শুনে উবায়দুল্লাহ’র বাবা মো. নুরুল ইসলাম এগিয়ে এলে তাকে আটক করে ২৫০০ টাকা নিয়ে ছাড়া হয়। একই সঙ্গে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়া হয়। মারধরে উবায়দুল্লাহ’র বাম কানের পর্দা ফেটে যায়। প্রথমে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপতালে ও পরে বেসকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

চিকিৎসক এবিএম মুছা চৌধুরী জানান, ওবায়দুল্লাহর কানের আঘাত গুরুতর। প্রচণ্ড আঘাতে তার কানের পর্দা ফেটে গেছে। উবায়দুল্লাহও জানান, তিনি এখন কানে শুনছেন না। পরে বিষয়টি প্রথমে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানান। রোববার রাতে পুলিশের সদর সার্কেল অফিসে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে গেলে পুরো ঘটনাকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেন এসআই জামিরুল।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন অভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে পরামর্শ দেন।

এসআই জামিরুলের বিরুদ্ধে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে টাকা হাতানোর অনেক অভিযোগ আছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে। ‘ধরো-খাও-ছাড়ো’ এই নীতিতে চলায় তিনি ওই এলাকায় ব্যাপক সমালোচিত। জেলা পুলিশের পদস্থ এক কর্মকর্তার আত্মীয় ও নিজের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় হওয়ায় জামিরুল ক্ষমতার অপব্যবহার করেন বলে অভিযোগ সদর উপজেলাবাসীর।