রাজ্যসভায়ও তিন তালাক বিল পাস

176

জিবি নিউজ 24 ডেস্ক//

মুসলিম ধর্মে শরিয়তি আইনে স্বামী তিন বার তালাক দিলেই সেটা বৈধ। অর্থাৎ স্ত্রীকে তিন বার তালাক বলে দিলেই বিবাহবিচ্ছেদ হয় যেত। এমনকি ফোনে তিন বার তালাক বললেও তা বৈধ বলে গণ্য হতো। শরিয়তি আইনে এই প্রথাকে বলা হয়, ‘তালাক-ই-বিদ’আত’। এই ‘তালাক-ই-বিদ’আত’কেই বেআইনি ঘোষণা করে কড়া শাস্তির প্রস্তাব করা হয়েছে রাজ্যসভায় পাস হওয়া তিন তালাক বিলে। এর আগে, বৃহস্পতিবার লোকসভায় এই বিল পাস হয়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, আজ মঙ্গলবার রাজ্যসভায় এই বিলের পক্ষে ৯৯ ভোট পড়ে। যেখানে বিপক্ষে ভোট পড়ে ৮৪টি। পাস হওয়া বিলে তিন তালাক দিলে স্বামীর কারাবাসের বিধানও রয়েছে অর্থাৎ ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। আর এখানেই আপত্তি তুলেছিলেন বেশিরভাগ বিরোধী সাংসদরা। কংগ্রেস-তৃণমূলের মতো বিরোধীদের দাবি ছিল, স্বামী জেলে থাকলে খোরপোষ আসবে কোথা থেকে। এই আইনকে মহিলাদের শাস্তি দেওয়ার নামান্তর বলে দাবি করতে শুরু করেছিলেন বিরোধীরা।

মুসলিম উওমেন বিল এনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, এর মাধ্যমে নারী-পুরুষের সমান অধিকার প্রাধান্য পাবে। তিনি আরো বলেন, পাকিস্তান, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের ২০টি দেশ যদি তিন তালাক নিষিদ্ধ করতে পারে, তাহলে আমরা পারব না কেন?

বিরোধীদের দাবি, একটি পার্লামেন্টারি কমিটি তৈরি করে বিরোধীদের নিয়ে আলোচনা করা দরকার ছিলো। কেন এত তাড়াতাড়ি এই বিল পাস করানো হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধীরা।

দ্বিতীয়বার মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটিই প্রথম বিল যেটা লোকসভায় পেশ করা হয়। এই বিলকে বারবার মুসলিম-বিরোধী বলে উল্লেখ করেন এআইএমআইএম সাংসদ আসাদুদ্দিন ওয়াইসি।

মঙ্গলবার রাজ্যসভাতে এই বিল পাশের পর টুইট করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, সমগ্র দেশের জন্য আজ একটি ঐতিহাসিক দিন। মুসলিম মা-বোনেরা আজ জিতে গেছেন। সম্ভ্রমের সঙ্গে বাঁচার অধিকার পেয়েছেন তারা।

প্রধানমন্ত্রী টুইট লেখেন, সেকেলে ও মধ্যযুগীয় প্রথাকে অবশেষে ইতিহাসের ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হল। তিন তালাক প্রথাকে লোপ করা হল সংসদে। মুসলিম মহিলাদের প্রতি ঐতিহাসিকভাবে যে ভুল করা হয়েছে, তা শোধরানো হল। এটা লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণ ও সামাজিক সাম্যের পক্ষে জয়