সাম্প্রতি অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সৃষ্ট বন্যায় মৌলভীবাজারে ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি

180

নজরুল ইসলাম মুহিব ,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ||
সাম্প্রতি অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সৃষ্ট বন্যায় মৌলভীবাজারের মৌলভীবাজার সদর ও কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন রাস্তা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন জায়গায় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে বাস-ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন। এতে জেলার দুই উপজেলার গ্রামীন যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে। এলজিইডি সূত্রে এবং সরেজমিনে ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

জেলা ত্রান ও পূর্নবাসন অফিস সুত্র জানায় সম্প্রতি বন্যায় ২০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ১৫৮টি গ্রামের ৫৮হাজার ৯শত ১৮ জন লোক, ১২হাজার ৭শত ৮০টি পরিবার আংশিক এবং ৭টি পরিবার সম্পুর্নরূপে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ১৮১ হেক্টর জমির ফসল ও ৩৭টি পুকুর ও মতস্যখামারে মাছ বন্যায় পানিতে তলিয়ে যায়। ১৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পুর্ন ও ৩৩টি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

সরেজমিন দেখা যায়, জেলার সদর ও কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সড়কে বড় বড় গর্ত। গর্তের মধ্যে কোথাও হাঁটু পানি, কোথাও পানি জমে রয়েছে।

মৌলভীবাজার, সদর ও কমলগঞ্জ সড়কের বিভিন্ন এলাকা ধসে গেছে। বিধ্বস্থ হয়েছে কালর্ভাট। দুটি কালর্ভাট ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

সড়কগুলোর বিভিন্ন অংশের বিটুমিন ও পাথর উঠে গেছে। কোথাও কোথাও সড়কের ৫-১০ ফুট অংশ ঢলের পানিতে ভেঙে গেছে। সড়কগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে ছোটবড় অসংখ্য গর্ত। কোনো কোনো সড়কে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উপজেলার অন্তত ২৫টি গ্রামের বাসিন্দারা যাতায়াত সমস্যার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, বন্যায় উপজেলায় এখনো পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার রাস্তার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। টাকার অঙ্কে দেড় কোটি টাকার ওপরে ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, সব এলাকা থেকে পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে।

এলজিইডি মৌলভীবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী কাজি আব্দুস সামাদ ইত্তেফাককে বলেন,‘আমাদের ছোট-বড় মিলে প্রায় ১৩২’র ওপরে রাস্তা। আংশিক ৯১কি: মিটার ,সম্পুর্ন ৫ কি:মিটার ,কালভার্ট ২২টি। পানি কমার সাথে সাথে এসেসমেন্ট চলছে। আশা করি দুই-চার দিনের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত হিসাব জানা যাবে। তবে ফান্ড না থাকায় এসব রাস্তা মেরামত করা যাচ্ছে না।’ ২৮ জুলাই পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করেছে জেলা প্রশাসন।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রণেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী ইত্তেফাককে বলেন,‘মনু ও ধলাই কুশিয়ার নদীর বাঁধ ভাঙন মেরামত করা হয়েছে। কুশিয়ারা নদীর পানি এখন আগের চেয়ে কম।’

বন্যায় জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জনস্বাস্থ্য অধিদফতরের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে মৌলভীবাজার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সোহরাব উদ্দিন ইত্তেফাককে এ কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, জেলার ৩০টি ইউনিয়নের ১টি পৌরসভার ২৫টি আশ্রয় কেন্দ্রে পানি বিশুদ্ধকরণের জন্য ট্যাবলেট সরবরাহ করা হয়েছে। বন্যায় ৭৮৮ নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নলকূপ চালু করার উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। জীবানু মুক্তরণ ২৫৬টি টিউবওয়েল। জেলায় ২০ হাজার ৯৫০টি ট্যাবলেট সরবরাহ করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন ডা: শাহজাহান কবির চৌধুরী জানান বন্যা দুর্গত এলাকায় ৫৩টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। ৩টি নদীর পানি নেমে আসায় বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খান বলেন, ‘মৌলভীবাজার সদর ও কমলগঞ্জ সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। জেলার কোথাও পানি নেই। রাস্তার পানি নেমে গেছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক আছে। শুধু সদর উপজেলার হামরকোনা শেরপুর এলাকায় কুশিয়ারার নদীর বাঁধ ভেঙে খলিল পুর ইউনিয়নের বন্যার পানি ঢুকায় করায় বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাাবিত হয়েছে। পানি নামার সাথে সাথে কুশিয়ার বাঁধ মেরামত করা হবে। কমলগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।