নিউজিল্যাণ্ডের সঙ্গে হারটা ছিলো যুদ্ধ করে।। আত্মসমর্পণ নয়

69

সৈয়দ রুম্মান।। জিবি নিউজ।।

১৯৯৭-এর আগে হয়তো কেউ ভাবেই নি বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলবে। অথচ আজ আমরা বিস্ময়ে নয়, বরং বাংলাদেশ বিশ্বকাপ জয় করবে এই প্রত্যাশা নিয়ে ২০১৯-এর বিশ্বকাপের খেলা দেখছি। সাউথ আফ্রিকাকে হারানোর পর আমাদের স্বপ্নটা সত্যিই এখন আকাশচুম্বী—আমরা সবকয়টি ম্যাচে জিতে বিশ্বকাপ আমাদের লাল-সবুজের ঘরে নিয়ে আসবো।

আমাদের এ স্বপ্ন কিংবা প্রত্যাশা কি একেবারেই আকাশকসুম কল্পনা? অবশ্যই না। মাশরাফি বাহিনী তাদের নৈপুণ্য ও আত্মবিশ্বাসে আমাদের আজ সে স্থানেই নিয়ে গেছে। আর সে কারণেই দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যাণ্ডের মুখোমুখি হয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইর মাধ্যমে তারা সেটিই প্রমাণ করেছে। ঔভাল স্টেডিয়ামের সিংহভাগ দর্শক যখন বাংলাদেশ বাংলাদেশ বলে মাশরাফি বাহিনীকে অনুপ্রেরণা দিচ্ছিলো তখন ভাবছিলাম, ইতিহাস কীভাবে পাল্টে যায়, কীভাবে স্বপ্ন সত্যি হয়ে যায় কিংবা কীভাবে নিজের ভালোবাসাকে গর্বের সঙ্গে প্রকাশ করা যায়।

আমার জীবনে দেশের বাইরে বড় কোনো স্টেডিয়ামে এবারই প্রথম ক্রিকেট খেলা দেখতে আসা। ব্যক্তিগতভাবে অনেকদিন ধরেই কম খেলা দেখা হয়। তবুও লণ্ডনে আমার খুব কাছেই যখন বাংলাদেশ খেলবে তখন আর লোভটা সামলাতে পারলাম না। টাইগারদের সমর্থন করার জন্য ছুটে গেলাম মাঠে। ঔভাল স্টেডিয়ামের বিভিন্ন জায়গায় বসে খেলা দেখলাম—সবখানেই ছিলো বাংলাদেশ বাংলাদেশ ধ্বনি। আবেগে মাঝেমধ্যে চোখের পাটাতনে টের পাচ্ছিলাম বুঁদবুঁদে বৃষ্টি।এ ছিলো গর্বিত মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ। পাশে বসা নিউজিল্যাণ্ডের অনেক সমর্থকেরাও যখন বাংলাদেশের প্রশংসা করছিলো তখনও ভালো লাগছিলো; বুঝতে পারছিলাম আমরা দল হিসেবে আর ছোট্টটি নেই—এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম অনেক শক্তিশালী, দক্ষ, পরিণত, পরিশ্রমী, নিবেদিত, আন্তরিক ও স্থিতধী। নিউজিল্যাণ্ডের সঙ্গে হারলেও এ হারটা ছিলো যুদ্ধ করে হার, আত্মসমর্পণ নয়।

টাইগার বাহিনী আমাদের গর্ব। তারা জয়ের জন্য প্রাণপণ যুদ্ধ করতে প্রস্তুত। তারা এখন আগুনও চিবিয়ে খেতে পারে। সাকিবেরা মাঠে খেলতে গিয়ে আঘাত পেয়ে আবার উঠে দাঁড়িয়ে সীমানার বাইরে বল পাঠিয়ে দিতে পারে, পারে প্রাজ্ঞ অধিনায়কের মতো প্রতিপক্ষকে অভিনন্দন করতে। সব মিলিয়ে পৃথিবীর দশটি দেশের মধ্যে দীপ্তি নিয়ে বাংলাদেশ আপন স্পর্ধায় কাঁপিয়ে তুলতে পারে বিলেতের বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০১৯-এর আসর।

হ্যাঁ, ভাবতেই ভালো লাগে আমার সোনার বাংলাদেশ পৃথিবীর ১৯৫টি দেশের মধ্যে একটি দেশ যার লাল-সবুজের পতাকা পৃথিবীর মানচিত্রে এখন পৎ পৎ করে ওড়ে। যারা ১৯৯২ কিংবা ১৯৯৬-এর বিশ্বকাপে পাকিস্তান কিংবা শ্রীলংকাকে সমর্থন করেছিলেন তাদের কাছে এখন একমাত্র পছন্দের দল বাংলাদেশ; তারা ভাবেন কোন দল কোন ম্যাচের জন্য হারলে বাংলাদেশের জয়ের জন্য ভালো হবে। এ যেনো আগা গোড়াই বাংলাদেশ বাংলাদেশ বলে জয়ধ্বনি করা যা আজ ঔজ্জ্বল্যে ছড়িয়ে গেছে পুরোটা ভূগোলক জুড়ে। সে হোক প্রবহমান; আমার ও আমাদের সোনার বাংলার বাঘেরা ঘরে তুলুক বিশ্বকাপ ২০১৯ জয়ের সম্মান।

মন্তব্য
Loading...