মনুমুখ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জালিয়াতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

101

মোফাদ আহমেদ।।জিবি নিউজ ২৪ ডট কম।।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে যখন শিক্ষাখাত সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে তখন মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ২২ নং মনুমুখ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে পুকুর চুরির ( বড় ধরনের দুর্নীতি’র) অভিযোগ উঠেছে ৷ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর জালিয়াতি, আর্থিক অনিয়ম, সময়মত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হওয়া , স্কুল ছুটির পুর্বেই বিদ্যালয় ত্যাগ ও শ্রেণীকক্ষে পাঠদানের অবহেলার অভিযোগ এনে উপজেলা শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি৷
জানা যায়, ২০১২ সাল থেকে ২২ নং মনুমুখ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হিসাবে যোগদান করেন সিঁথি দাশ ৷ বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন তিনি ৷ ২০১৩-১৪ অর্থ বছরের স্লিপ ও প্রাক-প্রাথমিকের ৩৫০০০/- (পঁয়ত্রিশ হাজার ) টাকা, ২০১৪-১৫ অর্থ বছরের স্লিপ ও প্রাক-প্রাথমিকের ৩৫০০০/- (পঁয়ত্রিশ হাজার ) টাকা ও ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের স্লিপ ও প্রাক-প্রাথমিকের ৪৫০০০/- (পঁয়তাল্লিশ হাজার ) টাকা সর্বমোট ১১৫০০০/-(এক লক্ষ পনের হাজার) টাকা জমা বিদ্যালয়ের অনুদান হিসাবে জমা হয় ৷ কিন্তু এর অধিকাংশ টাকা(৭৫% প্রায়) প্রধান শিক্ষকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে ৷ এছাড়াও ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে জমা হওয়া ৯৯০০০/- ( নিরানব্বই হাজার) টাকার সিংহভাগ টাকাও তিনি আত্মসাৎ করেছেন ৷ বিদ্যালয়ের টাকা আত্মসাৎ করার সুবিধার্থে তিনি নিজের খেয়াল খুশি মত স্লিপ প্লান তৈরী করেন এবং মনগড়া ভুয়া স্লিপ রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করে রাখেন ৷ বিদ্যালয়ে সরকার নির্ধারিত উপস্থিতির সময় ৯:০০ টা এবং বিদ্যালয় ত্যাগের সময় ৪:৩০ হলেও তিনি নিজের খেয়াল খুশি মত ১১:০০ টায় স্কুলে উপস্থিত হন এবং ৩:০০ নাগাদ বিদ্যালয় ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে ৷ এ ছাড়াও স্কুল চলাকালীন সময়ে শ্রেণী কক্ষে পাঠদান না করে খোশ গল্পে ব্যস্ত থাকার অভিযোগ ও পাওয়া যায় ৷
তার বিরুদ্ধে সর্বাধিক গুরুতর অভিযোগ হল, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে বেতন উত্তোলন ৷ বিদ্যালয়ের শিক্ষক – শিক্ষিকাদের বেতন উত্তোলন ফরমে পরিচালনা কমিটির সভাপতির স্বাক্ষরের প্রয়োজন হলেও বর্তমান নির্বাচিত বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির ২৫ মাসের মেয়াদকালে মাত্র ৬ টি বেতনের বিল ফরমে সভাপতির স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে ৷ ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ২০১৮ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ১৪ টি বিলের একটিতেও সভাপতির স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি ৷ ধারণা করা হচ্ছে এ সকল বিল ফরমে স্বাক্ষর জাল করে বেতন উত্তোলন করা হয়েছে ৷ এ ব্যাপারে বর্তমান বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বিদ্যালয়ের স্থায়ী দাতা সদস্য ফখরুল ইসলাম উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন ৷ এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সভাপতি ফখরুল ইসলাম জানান, আমার জানামতে ২৩ টি স্বাক্ষর জালিয়াতি করেছে ৷ তাছাড়াও প্রধান শিক্ষিকা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত তাই আমি লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি ৷
ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে জানতে প্রধান শিক্ষিকা সিঁথি দাশ এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার বিরুদ্ধে উপজেলা শিক্ষা অফিসে অভিযোগ দায়েরের কথা স্বীকার করলেও তা মিথ্যা বলেন ৷ তবে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর জাল করার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি তার কোন সদুত্তর দিতে পারেননি ৷
দেশ যখন ডিজিটালের ছোয়ায় উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে যাচ্ছে তখন কোমলমতি শিশুদের মানুষ হিসাবে গড়ার কারখানা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুর্নীতি শিক্ষাখাতের উন্নয়নের জন্য বড় বাধা হিসাবে কাজ করবে বলে মনে করেন এলাকাবাসী ৷ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ এ ব্যাপারে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে আশাবাদী এলাকাবাসী ৷

মন্তব্য
Loading...