মৌলভীবাজারে কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা

584

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি \

ফুফাতো ভাই ইমরানের কু প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ইন্টারনেটে অশ্লিল ছবি ছড়িয়ে দেয়ায় এক কলেজ ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। তাঁর নাম নাঈমা আক্তার (১৯)। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (২২মার্চ) মৌলভীবাজার শহরস্থ মুসলিম কোয়ার্টার আবাসিক এলাকায় ছাতির ভিলায়। নাঈমা আক্তার মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আড়াইহাল গ্রামের শাহ মোঃ শওকত আলীর মেয়ে। সে চাচার ভাড়াটিয়া বাসা থেকে মৌলভীবাজার সরকারি মহিলা কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের পড়াশোনা করতো। প্রত্যক্ষদর্র্শীরা জানান, শুক্রবার ভোরে (প্রবাসী আব্দুল কাইয়ুম) চাচার ভাড়াটিয় বাসার ড্রয়িংরুমের সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করে নাইমা। পরে দুপুরে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দিলে নাঈমার মরদেহ উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন। নাঈমার বড় ভাই শাহ মোঃ বুরহান উদ্দিন জানান,কয়েকদিন আগে ফুফাতো ভাই ইমরান (৩০) আমার বোনকে ইমরান ওদের ঘরে ডেকে নেয়। ইমরান জোর করে নাঈমার অশ্লিল ছবি তোলে। নাঈমা লজ্জা এবং ভয়ে কেউকে কোন দিন বলিনি। এরপর থেকে বোনকে বিভিন্ন সময় কু প্রস্তাব দিয়ে আসছিল ইমরান। পরে ইন্টারনেটে বোনের অশ্লিল ছবি ছড়িয়ে দেবে বলে নাঈমাকে হমকী দেয়। বিষয়টি আমার প্রবাসী চাচা আব্দুল ক্ধাসঢ়;ইয়ূমকে জানায় নাঈমা। চাচা বিষয়টি নিয়ে ইমরানকে ডেকে হুশিয়ারি করেন। গ৩ ২২মার্চ শুক্রবার চাচার ভাড়াটিয় বাসার ড্রয়িংরুমের সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় রশি দিয়ে জুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ইমরান প্রবাসী আব্দুল কাইয়ুমের ভাগিনা। সে তার মামার বাসাই বসবাস করতো। ইমরান সিলেট ওসমানীনগর উপজেলার বকসিপুর গ্রামের মোঃ আব্দুল মন্নাফের ছেলে। এ ঘটনা নিয়ে শহরে ধু¤্রজাল সৃষ্টি হয়েছে এটি হত্যা না আত্বহত্বা। এ ঘটনায় নাঈমার স্বজনদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। নাঈ¥ার ভাই শাহ মোঃ বুরহান উদ্দিন বাদী হয়ে ইমরান আহমদ সহ ৩জনকে আসী করে মৌলভীবাজার মডেল থানায় ২৬ মার্চ মামলা দায়ের করেন। মৌলভীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল আহম্মদ জানান, ঘটনার খবর পেয়ে আমরা মুসলিম কোয়ার্টাস এর ছাতির ভিলা থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছি। হাসপাতাল থেকে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছি। ঘটনার পর থেকে ইমরানের পরিবারের সকলে পলাতক রয়েছে। আমরা ইমরানকে আটকের চেষ্টার পাশাপাশি মূল ঘটনা উদঘাটনের জন্য চেষ্টা করছি।