সাইবার ক্রাইম মামলায় সুনামগঞ্জে সাংবাদিক গ্রেফতার

156
gb

সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলায় সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় সাংবাদিক পরিচয়দানকারী এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দোয়ারাবাজার উপজেলা সদরের মাছবাজার এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

সাংবাদিক পরিচয় দানকারী এনামুল কবির মুন্না দোয়ারাবাজার সুরমা ইউনিয়নের উপজেলার মহব্বতপুর গ্রামের রহমত আলীর ছেলে। মুন্না ‘একাধিক নিউজ পোর্টালে’ কাজ করতেন বলে জানা গেছে।

মুন্নার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর আগে ঢাকার সাভার এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ওই নারীর সঙ্গে পরিচয় হয় মুন্নার। আলাপের একপর্যায়ে ফোন নম্বর আদান-প্রদান হয় তাদের মাঝে। মোবাইলের নিয়মিত যোগাযোগের একপর্যায়ে তাদের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একান্তে দেখা-সাক্ষাৎ ও মেলামেশা করতে থাকেন তারা।

মামলায় ওই নারী অভিযোগ করেন, তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের কিছু ছবি গোপনে ধারণ করে নেন মুন্না। এরপর সেসব ছবি নেগেটিভ কাজে ব্যবহার করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয় সে। সেসব ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে আছিয়ার কাছে প্রথমে এক লাখ টাকা দাবি করেন মুন্না। সম্মান বাঁচাতে দাবিকৃত টাকা পরিশোধ করেন আছিয়া।

পরবর্তীতে আরও এক লাখ টাকা দেয়ার জন্য তাকে চাপ দিলে ওই নারী তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। দ্বিতীয় দফায় টাকা না দেয়ায় গত বছরের ২৫ জানুয়ারি ফেসবুকের একটি ভুয়া আইডি থেকে দুজনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের কিছু ছবি আপলোড করে পরিচিতজনদের ট্যাগ করে মুন্না।

এ ব্যাপারে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাব্যুনালে এনামুল কবির মুন্নাকে আসামি করে মামলা করেন ওই নারী। পরবর্তীতে মুন্নার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

গ্রেফতারের পর জেলহাজতে থাকায় অভিযোগের ব্যাপারে মুন্নার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে তার পরিবারের পক্ষে থেকে তার চাচাতো ভাই আমীর আলী বুধবার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, তার ভাই মুন্না ষড়যন্ত্রের শিকার। তাকে ষড়যন্ত্রমূলক সাইবার মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়া মুন্নার সঙ্গে একই ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা সদস্যের মতানৈক্য দেখা দেয়। এটা পরবর্তীতে রেষারেষিতে রূপ নেয়। এ ঘটনার জের ধরে ওই সেনা কর্মকর্তা তার স্ত্রীকে দিয়ে মুন্নার বিরুদ্ধে সাইবার আইনে মামলা করায় এবং উক্ত মামলায় ২৬ মার্চ দোয়ারা থানা পুলিশ মুন্নাকে গ্রেফতার করে।

তিনি আরও বলেন, আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। আমরা বুধবার আদালত থেকে মামলার নকল সংগ্রহ করেছি। এ ব্যাপারে আমরা আইনি পদক্ষেপ নেব।

দোয়ারাবাজার থানার ওসি সুশীল রঞ্জন দাস যুগান্তরকে বলেন, এনামুল কবির মুন্না ঢাকায় সাইবার ট্রাইব্যুনাল ৫৭ এর ২ ধারার অপরাধে দায়ের করা একটি মামলার আসামি ছিলেন। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর মঙ্গলবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।