যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সাম্প্রতিক যৌথ সামরিক মহড়াকে পারমাণবিক যুদ্ধের প্রস্তুতি বলে দাবি করেছে উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, দেশটিকে লক্ষ্য করেই এই মহড়া চালানো হয়েছে।
এর জবাবে নিজেদের পারমাণবিক শক্তি আরো দ্রুত বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছে উত্তর কোরিয়া। সোমবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ এ তথ্য জানিয়েছে।
রয়টার্স জানায়, উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির উপবিভাগীয় পরিচালক কিম জং সিক বলেন, ‘আয়রন মেস’ নামের এই মহড়া প্রমাণ করে, পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে উত্তর কোরিয়াকে দমিয়ে রাখার যুক্তরাষ্ট্রের চেষ্টা এখনো চলছে। এ ধরনের হুমকি দিন দিন বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কিম বলেন, ‘আয়রন মেস’ মহড়াসহ যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যান্য যৌথ সামরিক কর্মকাণ্ডের কারণে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক শক্তি আরো দ্রুত বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত ‘আয়রন মেস’ মহড়া চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া। এই মহড়ার উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সামরিক সক্ষমতার সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রচলিত সামরিক বাহিনীর সমন্বয় বাড়ানো।
বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং উৎপাদনের দায়িত্বে থাকা গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা কিমের কাছ থেকে পারমাণবিক নীতি নিয়ে এমন বক্তব্য আসা অস্বাভাবিক।
সাধারণত দেশটির প্রতিরক্ষা বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ধরনের বিবৃতি দিয়ে থাকে।
উত্তর কোরিয়াবিষয়ক গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ইয়াং মু-জিন বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন ও উৎপাদনের বাইরেও কিমের দায়িত্ব বাড়তে পারে। পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রসংক্রান্ত নীতি নির্ধারণের দায়িত্বও তাঁর ওপর আসতে পারে।
এদিকে গত সেপ্টেম্বরে সীমান্তে একটি মাইন বিস্ফোরণের পর দুই কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। এর পর উত্তর কোরিয়া হুমকি দেয়, অক্টোবরের শেষ নাগাদ দক্ষিণ কোরিয়ার দিকে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে প্রচারমূলক সম্প্রচার আবার শুরু করতে পারে তারা।
তবে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী সোমবার জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া এখন পর্যন্ত সেই হুমকি বাস্তবায়ন করেছে, এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
জিবি নিউজ24ডেস্ক//
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন