জিবি নিউজ প্রতিনিধি//
বাংলাদেশ রেলওয়ের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সর্বশেষ স্টেশন সুনামগঞ্জের ছাতক। শিল্পনগর হিসেবে একসময় পরিচিতি ছিল ছাতকের। চুন, চুনাপাথর, পাথর, সিমেন্ট এবং পাল্প এন্ড পেপার মিলের জন্য প্রসিদ্ধ ছিল অঞ্চলটি। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পণ্য পরিবহনের জন্য ১৯৫৪ সালে স্থাপন করা হয়েছিল সিলেট-ছাতক রেললাইনটি। কিন্তু গত ৬ বছর ধরে এই লাইনে হুইসেল বাজেনি কোন ট্রেনের।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ রেললাইন পুনর্বাসনে উদ্যোগ নেওয়া হলেও মেয়াদ শেষে কাজের অগ্রগতি সিকিভাগ পেরুতে পারেনি। কাজে ধীরগতির কারণে বর্ধিত মেয়াদেও প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কিত স্থানীয়রা।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালের মার্চে সিলেট-ছাতক রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সারা দেশে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হলেও ছাতক রুটে আর ট্রেন চলেনি। এর মধ্যে ২০২২ সালে ভয়াবহ বন্যায় রেললাইনটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বন্যার পর রেললাইন মেরামত নিয়ে শুরু হয় গড়িমসি।
পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় সংস্কার কাজ। চলতি বছরের ২৩ আগস্ট প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও রেলওয়ের নথির তথ্য অনুযায়ী কাজ হয়েছে মাত্র ২১ ভাগ। আর সিলেট-ছাতকবাজার সেকশন (মিটারগেজ) পুনর্বাসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. মহিউদ্দিন আরিফের তথ্যমতে এখন পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে ২৫ শতাংশ।
রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সিলেট-ছাতক রুটের ট্রেনে শুধু যাত্রী চলাচল করতেন না। স্থানীয় কৃষি ও শিল্পে এই রেললাইনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিল। ছাতক থেকে ট্রেনে করে একসময় বালু, পাথর, চুনাপাথর, সিমেন্টসহ কৃষিজপণ্য পরিবহন করা হতো। দেশের একমাত্র কংক্রিট স্লিপার কারখানাটিও ছিল ছাতকে। কিন্তু রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা বাড়তি ভাড়ায় এসব পণ্য গাড়ি দিয়ে পরিবহন করতে হচ্ছে। একসময় ছাতকগামী ট্রেন খাজাঞ্চিগাঁও, সৎপুর ও আফজালাবাদ স্টেশনে যাত্রা বিরতি করতো।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, সিলেট-ছাতকবাজার ৩৪ কিলোমিটার রেলপথ পুনর্বাবসে ২১৭ কোটি ৩৪ লাখ ৪ হাজার ৩৬৯ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের কাজ পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মীর আখতার হোসেন লিমিটেড (এমএএইচএল)। ২০২৫ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল চলতি বছরের ২৩ আগস্ট।
এর মধ্যে রেলপথে মাটি ভরাট, কালভার্ট নির্মাণ, সেতু মেরামত, নতুন স্লিপার ও রেললাইন বসানোর কথা ছিল। মাটি ভরাটের জন্য ইতোমধ্যে পুরনো রেললাইন অপসারণের কাজ শেষ হয়েছে। স্টেশনের পাইলিংয়ের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। তবে বিভিন্ন স্থানে চলমান সংস্কার কাজে ধীরগতি দেখা গেছে। রেল চলাচল না করায় কোথাও কোথাও রেলপথ হারিয়ে গেছে জঙ্গলে। দেখে বোঝারই উপায় নেই এখানে একসময় রেলপথ ছিল।
এদিকে, রেললাইনটির কাজ সম্পন্ন করতে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি পেয়েছে প্রকল্পের মেয়াদ। কিন্তু নির্ধারিত মেয়াদে মাত্র ২৫ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ায় বর্ধিত মেয়াদেও প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে আশার আলো দেখছেন না স্থানীয়রা।
প্রকল্প পরিচালক মো. মহিউদ্দিন আরিফ মেয়াদ বৃদ্ধির তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বৃষ্টির কারণে রেলপথে মাটি ভরাটের কাজ শেষ করা যায়নি। যে কারণে নির্ধারিত মেয়াদে কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। মাটির কাজ শেষ হলেই রেলপথ বসানোর কাজ শুরু হবে। বর্ধিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন